ভারতের মহাকাশে চন্দ্রযান দেখে হিংসা হয়- জাফর ইকবাল
বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর বলেছেন, ভারতের মহাকাশে সফলভাবে চন্দ্রযান প্রেরণ করেছে। এটি দেখে আমার হিংসা হয়। সত্যিই আমার হিংসা হয়। আমাদের কেন ইলন মাক্সের থেকে রকেট কিনে আনতে হয়? বাংলাদেশ কেন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারছে না?
বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জাতীয় দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাফর ইকবাল বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে জয় বাংলা স্লোগানের মধ্য দিয়ে কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নির্মম হত্যার পর পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগানের আলোকে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগানের আর্বিভাব হলো এদেশে। বঙ্গবন্ধুুর হত্যার পর আমরা দেখতে পেলাম যারা এতদিন আমাদের দেশকে স্বীকৃতি দেয় নি তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে থাকলো। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, চীন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। এরপর আমরা কি দেখতে পেলাম যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট তারাই দেশের মন্ত্রীত্বের চেয়ারে। এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃখের বিষয়।
তিনি বলেন, আমার সাথে সব বন্ধুরা মুক্তিযোদ্ধে শহিদ হয়েছে। তাদের ছবি দেখে আমি বুঝি, তারা বলে, আমরা তো দেশ স্বাধীনের জন্যে মারা গেছি। কিন্তু কোন বাংলাদেশের জন্যে আমরা মারা গেছি? বাংলাদেশ কি সে জায়গাই যেতে পেরেছে?
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.ইমদাদুল হক বলেন, সামনের নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের দেশকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যেন ক্ষমতায় থাকতে না পারে সেজন্য দেশি বিদেশি নানা চক্রান্ত চলছেই। এ সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।
আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বড় রাজনীতি করতেন, সাহসের সাথে সত্য উচ্চারণ করতেন। তিনি উদার অসাম্প্রদায়িক বাঙালি ছিলেন। ন্যায্যতার প্রশ্নে আপোষহীন ছিলেন। তাই শুধু ভক্তির প্রাবল্য নয়, দরকার হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করা।
আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজ এর সভাপতি অধ্যাপক ড. হোসেন আরা বেগম। এবং সঞ্চালন করেন সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাসির হাসান। এসময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।