ঢাকামঙ্গলবার , ২৫ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আবহাওয়া
  4. কর্পোরেট বুলেটিন
  5. কৃষি সংবাদ
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জেলা সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. নাগরিক সংবাদ
  14. পদ্মাসেতু
  15. পাঁচমিশালি
আজকের সর্বশেষ সব খবর

পদ্মা সেতু সুরক্ষা নিশ্চিতে জরুরী জনসচেতনতা

শেখ একেএম জাকারিয়া
জুলাই ৭, ২০২২ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২৬ জুন রোববার ভোর থেকে গাড়ি চলাচল শুরু হলে নেতিবাচক ও ইতিবাচক অনেক ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। উদ্বোধনের দিনে স্বপ্নের পদ্মাসেতু দর্শনের জন্য হাজার হাজার মানুষ পদ্মাসেতুতে ভিড় জমায়। উদ্বোধনের পরের দিন অর্থাৎ গাড়ি চলাচলের প্রথম দিনে সেতুতে বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মানুষের চোখেমুখে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর হইচই।

প্রথম দিনেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের­ যাত্রীরা সম্ভাব্য সুফল পেয়েছে। বরিশাল থেকে ঢাকা আসতে মাত্র তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। অথচ যখন সেতু ছিল না কিংবা সেতু উদ্বোধনের আগের দিনও জলপথে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লেগেছে পদ্মানদী পাড়ি দিতে।

প্রথম সেতু দর্শন এবং প্রথম দিন-ই সেতুর ওপর দিয়ে ভ্রমণ করা যাত্রীদের জন্য স্মরণ রাখার মতো একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছিল। এই ভ্রমণে যাত্রীরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছে। তবে এই আনন্দের মাঝে ওইদিন এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা সত্যিই অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক।

সেতুতে চলাচলের সময় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণের মৃত্যু হয়। একটি বাসের ধাক্কায় সেতুর টোলপ্লাজার দুটি ব্যারিয়ার ভেঙ্গে যায়। এক যুবক সেতুর স্টিল ব্যারিয়ারের নাট খুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলে। পরে ওই যুবককে আটক করা হয়। আরেক যুবক সেতুতে মুত্রত্যাগ করে ওই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে। আরো দু-তিনজন সেতুতে নামাজ পড়ার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে স্মরণীয় হওয়ার চেষ্টা করে। এসব অপ্রত্যাশিত আচরণ গোটা দেশে নিন্দিত হয়েছে। এমনকি পদ্মাসেতুর বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া সেতুতে শোয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে, হেঁটে, ছোটাছুটি করে, রেলিংয়ে হেলান দিয়ে, গাড়ি মাঝখানে রেখে ছবি তোলার মতো নানা ঘটনা ঘটেছে। যা সত্যিই বিস্মিত হবার মতো!

পদ্মাসেতু কেপিআইভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এখানে বসে গল্প করা, হাঁটাহাঁটি করা, ছোটাছুটি করা, গাড়ি দাঁড় করানো, ছবি তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। অথচ এ সবই চলেছে বাধাহীন ও ইচ্ছেমতো। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এরূপ পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। পদ্মাসেতুর মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা যেভাবে হওয়ার কথা ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি। প্রথম দিনের ঘটনাসমূহ তারই প্রমাণ বহন করে। সেতু কর্তৃপক্ষের সাবধানতা ও সচেতনতার অভাব থাকায় সেতুতে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, টোলপ্লাজার ক্ষতি, নাট-বল্টু খোলা, মুত্রত্যাগ এবং অন্যান্য আইনলঙ্ঘনের মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে। পদ্মাসেতুর নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেতুর দুই পাড়ে দুটি থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অথচ ওইদিন দুই থানা-পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতাই লক্ষ্য করা যায়নি। এভাবে চলতে পারে না। অবশ্যই এর নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। দুই যুবকের প্রাণহানির পর সেতুতে মোটর সাইকেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আগেই যদি এই নির্দেশনা দেওয়া হতো মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় হয়ত দুই যুবকের প্রাণহানি ঘটত না।

পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ সেতু বাংলাদেশে বানানো আর পাঁচটা সাধারণ সেতুর মতো নয়। এটি দেশের দুই অংশের ভেতরে সংযোগ স্থাপন করেছে। নানা প্রতিবন্ধকতা ও দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু। এটি আমাদের জাতীয় অহংকার, সক্ষমতা ও সম্মানের প্রতীক। অঞ্চলভিত্তিক, দেশীয়,­ আন্তর্জাতিক সম্যকযোগ এবং ব্যবসা/বাণিজ্যের প্রসারে পদ্মা সেতুর ভূমিকা অনেক জরুরি ও তাৎপর্যবহ। তাই এর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা সব সময় নিশ্চিত করতে হবে। কোনো রকমের অন্যথা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ সচেতন ও দায়িত্ববান হলে স্বাভাবিকভাবেই সেতুর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় উন্নতি ঘটবে।

লেখকঃ কবি ও প্রাবন্ধিক, সভাপতি- সুনামগঞ্জ সাহিত্য সংসদ (সুসাস)

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি জাগো বুলেটিনকে জানাতে ই-মেইল করুন- jagobulletinbd@gmail.com