রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

জাবি আর স্মৃতিসৌধে একদিন

জাগো বুলেটিন ID: EP-32449

তানজিদ শুভ্র

একদিনে ঢাকার অদূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনেকেরই পছন্দের তালিকায় অন্যতম। আমি এর আগেও বেশ কয়েকবার গিয়েছি। এইতো কয়দিন আগে সকালে উঠে মেট্রোরেলে করে উত্তরা গিয়ে দুই মামার সাথে জাবিতে গেলাম। সঙ্গে আরেকজন সহযাত্রী যোগ দিয়েছিল আমাদের যাত্রায়।

বাইরে প্রচন্ড রোদ। আলসেমি করে ব্যাগ থেকে ছাতাও বের করতে ইচ্ছে করল না। আমরা উত্তরা থেকে প্রথমে আশুলিয়া নেমে সেখান থেকে ইজি বাইকে করে সিএন্ডবি পৌঁছলাম। রাস্তা পাড় হয়ে হেঁটেও যাওয়া যেত তবে আমরা একটা বাসে করে বিশ্ববিদ্যালয় গেইট অবধি গেলাম। গেইট দিয়ে প্রবেশ করতেই ডান পাশে মসজিদ আর অল্প দূরত্বে সামনে অমর একুশে ভাষ্কর্য। এরপর আমরা এগিয়ে গেলাম শহীদ মিনারের দিকে। সেখান থেকে আমরা সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। দু পাশের গাছের সাড়ি তখন আমাদের ছায়া দিতে শুরু করল। বিশ্ববিদ্যালয়ের দু একটা বাস পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিল। কখনো রিক্সা কিংবা সাইকেলের ক্রিং ক্রিং শব্দে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিল। আমরা হেঁটে হেঁটে গল্প করছিলাম। ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগে যোগাযোগ হয়েছিল জাবির তিন-চারজন শিক্ষার্থীর সাথে। তাদের প্রত্যেকেরই সেদিন ক্লাস ছিল। কলেজের সহপাঠী ইব্রাহিমের ক্লাস আমাদের সাথে যোগ দেয়, ছিল ক্যাম্পাস থেকে ফেরার আগ অবধি।

বটতলায় মধ্যাহ্নভোজ…
বিভিন্ন বিভাগের সামনে দিয়ে গিয়ে যাচ্ছিলাম জাবির পরিচিত বটতলার দিকে। উদ্দেশ্য মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করা। সাড়ি সাড়ি হোটেল থেকেই খাওয়ার জন্য ডাকছিল। আমরা একটার ভেতরে গিয়ে বসলাম। বিভিন্ন মাছের ভর্তা, ডাল, বেগুন ভাজী এসব নিয়ে আমাদের খাবার শেষ হলো। দাম মানানসই ছিল, খাবারের মানও।

খাওয়া শেষ হতেই যোগাযোগ হলো আরেক ভাইয়ের সাথে। তিনি হল থেকে এসে আমাদের সাথে দেখা করে গেলেন। জিল্লুর রহমান রিয়াদ ভাই আমাদের উপজেলার সিনিয়র ভাই। এর আগেও যতবার এসেছি উনার দেখা পেয়েছি।

এর আগে একদিন বিকালে ঘুরতে গেলে রিয়াদ ভাই বেশ সময় নিয়ে বিভিন্ন প্রান্তে হেঁটে বেড়ালেন। গল্প, আড্ডা, চা চক্র শেষে যখন ফেরার পালা তখন হালকা বৃষ্টি শুরু হলো। আমরা হাঁটছিলাম, বৃষ্টি কমছে নাহ বরং বাড়ছে। অবশেষে অনেকটা পথ দৌঁড়িয়ে ভাই যে হলে থাকেন সেখানে গেলাম। তার রুমে বসলাম, আসরের নামাজের সময় হলে হলের মসজিদে নামাজও আদায় করলাম৷ তখনও বৃষ্টি হচ্ছিল, বারান্দা থেকে সবুজ মাঠে স্নিগ্ধ বৃষ্টি মন ছুঁয়ে যাচ্ছিল। বৃষ্টি থামতেই বের হয়ে আসলাম, বাসায় ফেরার জন্য। ফেরার আগে এক গ্লাস জামের জুস পান করেছিলাম, মুখ রঙিন হয়েছিল কিন্তু স্বপ্নের রঙ ধরা দেয় নি। সেদিনের বিকাল মন্দ ছিল নাহ।

ঘুরে দেখার এক ফাঁকে শহীদ আজাদ-রুমী গ্রন্থাগার-এর সামনে গিয়েছিলাম, এক ভবনের ছাদে উঠে রোদ পোহানোও হয়েছিল। এছাড়া সুইংপুল, জিমনেশিয়াম, প্রজাপতি উদ্যান এসবের আশেপাশে ঘুরে দেখেছিলাম।

সাভার এলাকায় গত এক বছরের মতো সময় থাকলেও জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাই নি কখনো। এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করলাম না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে বাসে করে স্মৃতিসৌধ এলাকায় পৌঁছলাম। প্রচন্ড রোদ৷ আমরা সামনের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম। স্মৃতিসৌধের স্তম্ভগুলো সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রদ্ধায় তাকিয়ে রইলাম।
রোদ থেকে একটু স্বস্তি পেতেই পাশে অনেকেই গাছ তলায় বসে ছিল আমরাও সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বের হয়ে এলাম।

এবার ফেরার পালা। একেকজনের গন্তব্য একেক দিকে। ঘরে ফেরার টানে বিকালের রোদ মেখে সাভার থেকে চলে আসলাম।