দৈনিক জনতা পত্রিকার সম্পাদক আহ্সান উল্লাহ স্মৃতিতে
দৈনিক জনতার নগরকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে যখন স্থানীয় সংবাদ পাঠাতে থাকি হঠাৎ একদিন মোবাইলে রিং বেজে ওঠে হ্যালো আসসালামু আলাইকুম বলতেই তিনি সালামের উত্তর দিয়ে জানতে চাইলেন আপনি কি মিজান সাহেব নগরকান্দা থেকে বলছেন? জবাবে আমি বললাম- হ্যাঁ, আমি মিজানুর রহমান বলছি। কিছুক্ষণ কুশল বিনিময় শেষে আমাকে বললেন আপনার নিউজ গুলো সুন্দর নিয়মিত আমাদের পত্রিকায় নিউজ পাঠাবেন পত্রিকা অফিসে আসলে একবার দেখা করে যাবেন। ভালো থাকবেন, মিজান সাহেব এখন রাখি বলে ফোনের এক প্রান্ত থেকে তার কথা বন্ধ। তারপর আমি একদিন নিউজ ও বিজ্ঞাপন বিষয় পত্রিকা অফিসে যাই। তখন মনে পড়ে যায় আমার শ্রদ্ধেয় সম্পাদকের কথা অফিসে পত্রিকার কাজ সেরে দুই তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় গেলে তার অফিস রুমের গ্লাসের মধ্যে দিয়ে দেখা যায় চেয়ারে বসে পত্রিকার কাজ নিয়ে তিনি একটু ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবুও দরজায় দাঁড়িয়ে তার উদ্দেশ্য আসসালামুয়ালাইকুম বললে তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেন- কে আপনি? কাকে চাচ্ছেন? ভিতরে আসুন, আমি আমার পরিচয় দিলাম পরিচয় পেয়ে সে বলল, মিজান সাহেব কেমন আছেন? আপনি কখন আসছেন? শত ব্যস্তার মাঝে আমাকে চেয়ারে বসিয়ে নিলেন আমার পরিবারের খোঁজখবর। এরপর থেকে মাজে মধ্যে তিনিই নিতেন আমার খোঁজখবর। কোন কাজে পত্রিকা অফিসে গেলেই তার সাথে দেখা না করে আসা হতনা আমার। পত্রিকায় নিউজের কাজের সুবাদে শত নিউজের মাঝে “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় দিয়ে দেশব্যাপী চাঁদাবাজির অভিযোগ” শিরোনামে একটি নিউজ দৈনিক জনতা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সকল তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিউজটি করা সত্বেও সেই কথিত বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় কারী হাবিবুর রহমান হারুন বাদী হয়ে ঢাকা সিএম এম কোর্টে পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক, প্রতিনিধি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এর নামে একটি মানহানীর মামলা করেন। বাদী হাবিবুর রহমান হারুন ২০১৫ সালে মামলা করেন। মামলা নম্বার ৭৪/১৫। মামলা চলমান। মামলার আসামী হয়ে তিনি শত ব্যস্ততার মাঝে সময়মতো হাজিরা দিতে উপস্থিত থাকতেন। আমাকে বলতেন তথ্য প্রমাণ রেখে নিউজ করবা তাতে যতই মামলা কেউ দেক আমরা আইনী ভাবে লড়ব তুমি কোন চিন্তা করবে না আমিতো আছি।এছাড়া তিনি মাঝেমধ্যে বললতেন অন্যায়কারীর কাছে মাথা নত করবেনা। আগামী ২ মার্চ মামলার স্বাক্ষীর দিন তাই মাঝেমধ্যে ফোন দিয়ে মামলার তারিখ জানাতেন নিজে জেনে নিতেন। শেষ কথা হয় ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সময় সন্ধ্যা ৫ টা বেজে ২৬ মিনিট আমাকে ফোন দিয়ে বলল, মিজান আগে বলো তুমি কেমন আছ তোমার মেয়েটি কেমন আছে, আর আমাদের মামলার তারিখ কবে আমাকে একটু জানাও। আমি বললাম- আমরা সবাই ভালো আছি মেয়েটিও এখন ভালো আছে তবে আপনার শরীরটা কেমন আছে বলতেই সে আমাকে বলল- মিজান, এখন কয়েকদিন ধরে আমার শরীরটা বেশি ভালো যাচ্ছে না। আমি তাকে সাবধানে থাকা ও ডাক্তারের কথামতো চলার জন্যও ফোন দিয়ে তারিখ জানিয়ে দিব বলে পকেটে ফোন রেখে দিলাম। বাড়িতে গিয়ে প্যাড খুঁজে না পেয়ে মামলায় নিযুক্ত এ্যাডভোকেট কে মামলার তারিখ জানতে ফোন করি সে ফোন ধরছিলো না, পরের দিন এ্যাডভোকেট ফোন ধরলেও সেদিন ছিলো শুক্রবার কোর্ট বন্ধের দিন। তাই এ্যাডভোকেট জানিয়ে দিলো রবিবার সকাল একটু ফোন দিয়েন তারিখ জানিয়ে দিব। দুপুরে ফোন দিয়ে তারিখ জেনে নিলাম এবং রাতে ফোন দিব দিব করে সময়ের ব্যস্ততার মাঝে আজ মোবাইল হাতে নিয়ে ফোন দিব মুহূর্তে দৈনিক জনতা পত্রিকার ওয়েবসাইটে হঠাৎ মুহূর্তেই ভেসে উঠে সেই চিরচেনা মিষ্টবাসি প্রতিবাদী পিতৃ সমতুল্য মানুষটি মারা গেছেন, তিনি আর বেঁচে নেই। তিনি আর কেউ নন তিনি হলেন আমার শ্রদ্ধেয় সম্পাদক আহসান উল্লাহ। আর হয়তো কোনদিন তার সাথে দেখা হবে না, পাব না তার ভালোবাসা, তার স্মৃতি আদর্শ নীতিই আমার চলার পথের পাথেয় হবে। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।