ময়মনসিংহে চুক্তিতে খুনসহ বিভিন্ন অপকর্মের অপরাধীকে অস্ত্রসহ আটক করে ডিবি পুলিশ
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে অস্ত্রসহ ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পালাতক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার বিকালে পাগলা থানাধীন খুরশিদ মহল ব্রীজের টোল বক্সের সামনে চেকপোষ্ট পরিচালনাকালে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত হাবিবুর রহমান হবি পাগলা থানার দত্তের বাজার ইউনিয়নের মৃত সোলাইমান শেখ এর ছেলে। সোমবার বেলা সাড়ে ১২ টায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময়ে তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত হাবিবুর রহমান হবি চুক্তির মাধ্যমে খুনসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকেন। দুই লক্ষ টাকার চুক্তিতে ফরিদের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করে হাবিবুর রহমান হবি। পরবর্তীতে ফরিদ, জাহাঙ্গীর মেম্বার, আলাল সান, সোহেলের নির্দেশে পাগলা থানার বিরুই গ্রামের দত্তের বাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিনের ছেলে লিটনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গুলি করে রাতের আধারেই পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পাগলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে রবিবার বিকালে পাগলা থানাধীন খুরশিদ মহল ব্রীজের টোল বক্সের সামনে চেকপোষ্ট পরিচালনা করে হাবিবুর রহমান হবির দেহ তল্লাশী করে ১টি রিভলবার, ১টি একনালা বন্দুক, রিভলবারের ৪ রাউন্ড গুলি ও বন্দুকের ৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত’র জবানবন্দীর ভিত্তিতে ফরিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফরিদ, জাহাঙ্গীর মেম্বার, আলাল সান এবং সোহেল স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এ হত্যার চেষ্টার ঘটনার পেছনে কোন রাজনৈতিক কিংবা এলাকার আধিপত্য বিস্তার বা অন্য কোন মোটিভ আছে কিনা তা উদঘাটন করার লক্ষ্যে ধৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদসহ অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

জানা যায়, গ্রেফতারকৃত হাবিবুর রহমান হবির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাসহ ৩টি মামলা রয়েছে। তিনি খুনসহ ডাকাতি মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী। রুজুকৃত মামলাগুলো হলো- গফরগাঁও থানার মামলা নং- ০৪(৯)০৩, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড। পাগলা থানার মামলা নং- ০১(৮)১৩, ধারা- ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড। পাগলা থানার মামলা নং- ০২(৮)১৩ ধারা- ১৯, ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন। সে আসামী দীর্ঘদিন যাবত গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে ছিল। উদ্ধারকৃত অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাল্গুনী নন্দীসহ পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ,বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।