নারী সমাজকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নানাবিধ কাজের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রেজিয়া খাতুন
ময়মনসিংহঃ পৃথিবী সৃষ্টির লগ্ন থেকে যা শুভঙ্কর হয়েছে তার অর্ধেক করেছে নর, আর অর্ধেক করেছে নারী।
৯০ দশকের শুরু থেকে মাসকান্দা অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খুব খারাপ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত খারাপ। মাসকান্দার নারী সমাজের কোন নারী দশটি টাকা খরচ করতে পারত না। কারণ তাদের আয় ছিল খুবই সীমিত কোন মতো দুবেলা খেয়ে দেয়ে জীবন পরিচালনা করতো । নারী সমাজকে অন্ধকারে রেখে কখনোই দেশ ও সমাজের উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। তাই এই নারী সমাজকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে মোছাঃ রেজিয়া খাতুন নিজ স্বার্থ উপেক্ষা করে লড়াই ও সংগ্রামের মাধ্যমে নারীদের বিভিন্ন কুটির শিল্প ,ব্যবসা-বাণিজ্য ও ছাগল পালন , গাভী পালন, হাঁস পালন, মুরগি পালনসহ নানাবিধ কাজের উৎসাহ দিয়ে আসছিল।
এই সকল কাজের জন্য প্রত্যেক নারীর কিছু সংখ্যক আর্থিক টাকার প্রয়োজন ছিল । তাই মোছাঃ রেজিয়া খাতুন বিভিন্ন নারীদের বিভিন্ন এনজিও থেকে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করেন এবং নারীদের এই অর্থ বিভিন্ন কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করেন । এইভাবে পাঁচটি বছর কেটে যায় এবং মাসকান্দার নারীর সমাজ মোটামুটি ভাবে আর্থিক স্বচ্ছলতায় ফিরে আসে এবং নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে শুরু করেন।
এরপর ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী সরকার গঠন করেন তখন শেখ হাসিনার একটি উদ্দেশ্য ছিল বয়স্ক শিক্ষা এবং স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করা। এই বয়স্ক শিক্ষা ও স্বাক্ষরতা হার বৃদ্ধির জন্য নিরলস ভাবে ময়মনসিংহের বিলুপ্ত পৌরসভার ২১ টি ওয়ার্ডে নিরলস ভাবে কাজ করেন মোছাঃ রেজিয়া খাতুন।
এই সময় আরো একটি সমস্যার সম্মুখীন হত নারী সমাজ ,আর সেটা হল অল্প বয়সে নারীদের বিয়ে দেওয়া হতো । এরপর বিভিন্ন রোগে নারীরা অপুষ্টিতে ভুগতো এবং অনেক সময় সন্তান প্রসবের সময় মারা যেত । নারীদের বিয়ে দেওয়ার সময় যৌতুক প্রথার বিশেষ প্রচলন ছিল । এমনকি যৌতুক না দেওয়ার কারণে অনেক বিয়ে ভেঙ্গে যেত । সাধারণ মানুষের যেটুকু আইন জানা দরকার তাও জানতো না। তাই নারী সমাজকে সচেতন করার লক্ষ্যে ব্রাক এনজিওর মাধ্যমে বিলুপ্ত পৌরসভার ২১ টি ওয়ার্ডে ৩ বছর বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং সাধারণ আইন সম্পর্কে মানুষকে প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করেছিল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আরেকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেন সেটি হচ্ছে নারী সমাজের নেতৃত্বে সিডিসির মাধ্যমে সমাজে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা । তখন মাসকান্দা গনসার মোড় সিডিসির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সকলের প্রিয় রেজিয়া খাতুন । চেয়ারম্যান থাকাকালীন; রেজিয়া খাতুন মাসকান্দায় ২০০ টি গভীর বিশুদ্ধ পানির নলকূপ স্থাপন করেন এবং ২০০ টি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নির্মাণ করে দেন সিডিসির; মাধ্যমে।
সমাজে বেকার যুবকদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সিডিসির মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সরকারি অর্থ সহায়তা করে তাদের প্রতিষ্ঠিত করা হয়। সমাজের অসহায় মহিলা, বিধবা মহিলা ,স্বামী পরিত্যক্ত মহিলা এদেরকে সেলাই কাজে প্রশিক্ষণ প্রদান করে সেলাই মেশিনে ব্যবস্থা করে দেন রেজিয়া খাতুন। এই সময় অনেক ছেলেমেয়ে খরচের কারণে পড়াশোনা বাদ দেন এই ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে আবারো পাঠানোর জন্য সিডিসির মাধ্যমে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেন। এইভাবে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নিজেকে; জড়িত করে ফেলেন এবং এলাকায় একজন জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত লাভ করেন রেজিয়া খাতুন।
এরই সুবাদে যখন বাংলাদেশে মহিলা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন ঘোষণা করা হয় তখন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সে রেজিয়া খাতুনকে নির্বাচন করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ময়মনসিংহের বিলুপ্ত পৌরসভায় দুইবার ও নবগঠিত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সক্রিয় ভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সামান্য কিছু ভোটের ব্যবধানে তিনি পরপর তিনবার পরাজয় বরণ করেন।
এরপরও উনার মানব সেবার কোন কমতি ছিল না। এলাকার মানুষ যখন কোন বিপদে পড়তো তখনই তিনি ছুটে যেতেন সেই বিপদ কিছুটা হলেও সমাধান করতেন। নির্বাচনে বিজয়ী না হয়েও মেয়র ইকরামুল হক টিটুর নিকট হতে বয়স্ক ভাতা নারী পরিত্যক্ত ভাতা প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা এবং গর্ভবতী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা টিসিবির কার্ড ও ও এম এস কাঠের ব্যবস্থা করে দেন অনেক নিম্ন আয়ের মানুষের। বারবার নির্বাচনের পরাজয় হবার পর ও তিনি তার মানবিক হাত অসহায় ও নির্ণয়ের মানুষের মাঝে বাড়িয়ে দেন দেশের বিভিন্ন দুর্যোগের সময় তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহস যোগাস জোগাড় করতেন এবং মানবিক সাহায্য প্রদান করতেন সর্বশেষ দেশে করোনা ভাই দেখা দিলে মানুষের জীবন থমকে গিয়েছিল এই করুনাকে অপেক্ষা করে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের খোঁজখবর নিয়েছিলেন যাদের ঘরে চাউল ডাউল