সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ নগরীতে অটোরিক্সার অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গতি : প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা

জাগো বুলেটিন ID: EP-37142

য়মনসিংহ নগরীতে অটোরিক্সার বেপরোয়া গতিতে জীবনের ঝুঁকি  নিয়ে চলাচল করছেন নগরবাসী। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে চলা তিন চাকার অটোরিক্সায় প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝড়ের গতিতে ছোটে চলা অটোরিক্সা ও রিক্সা চলাচলে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে পথ চলেন নগরবাসী। অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গতির কারণে অটোরিক্সা চলাচলে প্রায় সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। এতে কেউ পঙ্গু হচ্ছেন আবার কেউ হারাচ্ছেন শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।
জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা ও রিক্সা চলাচল করে। এসব অটোরিক্সা ও রিক্সার কারণে শহরে দুঃসহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অদক্ষ অটোরিক্সা চালকরা মোড় বা টার্নিং এর কোনো তোয়াক্কাই না করে চলেন ঝড়ের গতিতে। এসব অটোরিক্সার বেপরোয়া গতিতে চলাচলে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই কারও কাছে। অসহায় ট্রাফিক বিভাগও। ফলে দিনে দিনে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে নাগরিক জীবন।
নগরবাসীরা জানান, প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চরপাড়া মোড়। যেখানে চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগীদের পড়তে হয় ভয়াবহ যানজটের কবলে দিত হয় অনেকেও জীবন। এছাড়াও নগরীর গাঙ্গিনারপাড়, সি,কে ঘোষ রোড, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, টাউন হল মোড়, বাতির কল মোড়, ব্রিজ মোড়সহ ব্যস্ততম রাস্তাঘাটে অটোরিক্সার চাপে প্রায় অচল হয়ে পড়ে। আর ফাঁকা পেলেই সর্বোচ্চ গতিতে চলে এসব অটারিক্সা। ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা সবসময় ঘটেই চলে।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার সংখ্যা ৫ হাজার ৯শ’ ৯৬টি, মোটা চাকার রিক্সা ৫ হাজার ৬শ’টি। এ ছাড়া দুই আসনবিশিষ্ট ব্যাটারিচালিত চিকন চাকার রিক্সা ৬ হাজার এবং পা চালিত রিক্সা ৪শ’টি। তার মধ্যে অটোরিক্স ও মোটা চাকার রিক্সা রং বেধে একদিন পরপর চললেও যানজটে কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না নগরবাসী।
ময়মনসিংহ জেলা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দিলীপ সরকার বলেন, অটো ও মিশুক রিক্সায় ৫০ অ্যাম্পিয়ার মোটর লাগানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তারা ৭৫ অ্যাম্পিয়ার ব্যবহার করছে। তাই এসব অটোরিক্সার গতিও বেশি। তিনি বলেন, চালকদের সুনির্দিষ্ট কোন প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে কতটুকু গতিতে এটি চালাতে হয় বা ট্রাফিক আইন সম্পর্কেও তাদের কোন ধারণা নেই। জেলা প্রশাসন থেকে চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও আদৌ বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি সরকার বা স্থানীয় সরকারের কাছে এসব অদক্ষ চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার দাবী জানান।
ময়মনসিংহ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন থেকে এসব অটোরিক্সা বা রিক্সার একটি গতিসীমা নির্ধারণ করে দেয়ার দরকার, যেনো তারা এর চেয়ে বেশি গতিতে চালাতে না পারে। এসব অদক্ষ চালক ও বেপরোয়ার গতির কারণে প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারী। তিনি এসব অটোরিক্সা চালকদের প্রশিক্ষণ ও গতিসীমা নির্ধারণের উপর গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন।