রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

নাগেরগ্রাম সমাজ কল্যাণ সংগঠনের ৪ বছর পূর্তি উদযাপন—ভিন্নধর্মী মানবিক উদ্যোগে উদ্ভাসিত

জাগো বুলেটিন ID: EP-38491

 

সাধারণত সংগঠনের বার্ষিক পূর্তি মানেই আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা র‌্যালির আয়োজন। তবে নাগেরগ্রাম সমাজ কল্যাণ সংগঠন, যেটি ১ জুলাই ২০২১ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এবার তাদের ৪ বছর পূর্তিতে সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে নিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও মানবিক একটি উদ্যোগ।

এবার কোনো জাঁকজমক আয়োজন নয়, বরং এলাকাবাসীর দুঃখ-কষ্ট লাঘবকেই তারা সামনে এনেছে। কৃষক, শ্রমিক, রাখাল ও পথচারীদের দীর্ঘদিনের পানির কষ্টের কথা বিবেচনা করে পুরুষ বঁদিয়া বন্দে দুইটি টিউবওয়েল স্থাপন করেছে সংগঠনটি।

এই উদ্যোগের শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রবীণ উপদেষ্টা ও সমাজসেবক মোঃ মজিবুর রহমান মজলু মুন্সী। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা সাফেল মাহমুদ, মোঃ নূরুল আমীন ভূঁইয়া, মোয়াজ্জেম হোসেন, ফজলুর রহমান, লাইছু মিয়া, ফেরদৌস আহমেদ মনা, শাহীন মিয়া ও ক্যাশিয়ার মো: নাজমুল ইসলাম রানা।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা মোঃ নূরুল আমীন ভূঁইয়া বলেন:
“আজকের সমাজে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝে এগিয়ে আসার মানসিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নাগেরগ্রাম সমাজ কল্যাণ সংগঠন সেই হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধকে আবার জাগিয়ে তুলছে। এ সংগঠনের কার্যক্রম শুধু মানবিকতা নয়, সামাজিক সচেতনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমরা চাই—এই চিন্তাধারা যেন ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি এলাকায়। তরুণ প্রজন্মের এমন উদ্যোগকে আমি আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।”

সংগঠনের সভাপতি সাব্বির রহমান মিঠু বলেন:
“সমাজের মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, পরিবর্তন আনতে বড় কিছু নয়, ছোট ছোট ভালো কাজই যথেষ্ট। আমাদের এই ৪ বছর ছিল জনসেবার এক নিরন্তর যাত্রা।”

সাধারণ সম্পাদক বকুল ইসলাম বলেন:
“নাগেরগ্রাম সমাজ কল্যাণ সংগঠন কোনো রাজনৈতিক ব্যানারের সংগঠন নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম—যা সমাজের অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও আমরা এই মানবিক কাজ আরও বিস্তৃতভাবে চালিয়ে যাব।”

সহ-ক্যাশিয়ার সাদেক হোসেন খোকা বলেন:
“আমরা যারা সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, তারা সবাই চেয়েছি—এই গ্রামের মানুষ যেন কষ্ট না পায়। আমাদের ক্ষুদ্র সামর্থ্য দিয়ে যদি একজন মানুষও উপকৃত হয়, সেটাই আমাদের সফলতা। ভবিষ্যতে আরও বেশি সমাজসেবামূলক প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষার প্রসার ও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেই আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই।”

নিজ হাতে টিউবওয়েল স্থাপন কাজ করেছেন আল আমিন আহমেদ

এই প্রকল্পে একজন নিরলস শ্রমিকের ভূমিকা পালন করেছেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন আহমেদ। টিউবওয়েল স্থাপন কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে সরাসরি উপস্থিত থেকে তিনি নিজ হাতে শ্রম দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

তিনি বলেন:
“আমি মনে করি, সংগঠনের দায়িত্ব কেবল দাপ্তরিক কাজ নয়—প্রয়োজনে মাঠে নেমে বাস্তব কাজ করাটাই প্রকৃত নেতৃত্ব। মানুষের কষ্ট লাঘব করতে হলে শুধু সিদ্ধান্ত নয়, কাজেও নামতে হয়। টিউবওয়েল স্থাপন কাজের প্রতিটি ধাপে পাশে থাকার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত।”

স্থানীয়রা জানান:
“যখন অনেকেই শুধু বক্তৃতা দিয়ে থেমে যান, তখন আল আমিন ভাই যেভাবে হাতে কাদা মেখে মানুষের জন্য কাজ করেছেন, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন:
“এই সংগঠনের প্রতিটি কাজেই আমাদের উপকার হয়েছে। আজ তারা বিশুদ্ধ পানির যে ব্যবস্থা করেছে, তা আমাদের জন্য অনেক বড় উপহার।”

বিগত চার বছরে সংগঠনের সেবামূলক কর্মকাণ্ড

এই সংগঠনটি শুধুমাত্র পানির সমস্যা নয়, বিগত চার বছরে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, অসহায় পরিবারকে সহায়তা, রক্তদান কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে এলাকাবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।

৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এমন ব্যতিক্রমী সমাজসেবামূলক উদ্যোগ প্রমাণ করে, নাগেরগ্রাম সমাজ কল্যাণ সংগঠন সত্যিই সেবার পথেই অগ্রসর।