ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন বদলি: ওএসডি করা হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খানকে বদলিপূর্বক ওএসডি (Officer on Special Duty) হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,মহাখালী,ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখা থেকে রবিবার (১৯ অক্টোবর ২০২৫) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন যুগ্মসচিব সনজীদা শরমিন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি/পদায়নকৃত কর্মকর্তা আগামী ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। অন্যথায় ২২ অক্টোবর থেকে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি (Stand Released) হিসেবে গণ্য করা হবে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে—“জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।” প্রজ্ঞাপনটি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশসহ মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন); সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
বদলির পেছনে বিতর্ক ও অভিযোগ! ময়মনসিংহে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ডা. ছাইফুল ইসলাম খান। দায়িত্ব পালনের সময়কালেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সিভিল সার্জন দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মিত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় ছিল। অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, কনট্রাক্ট নবায়ন ও ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রমে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ একাধিকবার উত্থাপিত হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পদায়ন প্রক্রিয়াতেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠে আসে। স্বাস্থ্যখাতের অভ্যন্তরীণ একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“ময়মনসিংহে স্বাস্থ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল কিছু প্রক্রিয়া। এর প্রভাব পড়ছিল সার্ভিস ডেলিভারিতেও।” জনমনে প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন:
ডা. ছাইফুল ইসলাম খানের হঠাৎ বদলি ও ওএসডি করার খবরে জেলা স্বাস্থ্য মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—এতদিন এই অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়গুলো কেন উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব পায়নি? আর এখন হঠাৎ বদলি ও ওএসডি—তা কি অভিযোগের ফল, নাকি প্রশাসনিক রদবদলের অংশ—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য অঙ্গনে।
একজন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন,“যদি সত্যিই অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে শুধু বদলি নয়, সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া উচিত।”
স্বাস্থ্য সেবায় জবাবদিহির দাবি–ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা—এ বদলি যেন শুধুমাত্র প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে প্রকৃত তদন্তের সূচনা হয়। স্বাস্থ্যখাতে যারা দায়িত্বে আছেন,তাঁদের কর্মকাণ্ডে যেন স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত হয়। জনগণের টাকায় পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনো ব্যক্তি বা চক্রের “বাণিজ্যের ক্ষেত্র” না হয়—এটাই এখন স্থানীয়দের একমাত্র দাবি। সর্বোপরি সরকারের প্রতি আহ্বান—ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য প্রশাসনে যদি দুর্নীতির ছায়া থেকে থাকে, তবে তার শেকড় পর্যন্ত তদন্ত হোক। কারণ একজন কর্মকর্তার অনিয়ম পুরো জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়।