রাজপথের পরীক্ষিত নেতা মাইনুল ইসলাম রনো কে জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে চায় তৃণমূল
কালজয়ী অমর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যর একটি কবিতা দিয়ে শুরু করতে চাই। ‘বিক্ষোভ’ কবিতায় সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছেন-
“দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম, হে স্বদেশ, ফের সেই কথা জানলাম। জানে না তো কেউ পৃথিবী উঠছে কেঁপে ধরেছে মিথ্যা সত্যের টুঁটি চেপে,
কখনো কেউ কি ভূমিকম্পের আগে হাতে শাঁখ নেয়, হঠাৎ সবাই জাগে? যারা আজ এত মিথ্যার দায়ভাগী, আজকে তাদের ঘৃণার কামান দাগি”
চারপাশে সব মিথ্যা, প্রতারণা আর লৌকিকতার মাঝে সত্যের জয় হোক। সত্যকে সত্য বলতে হবেই। সত্যের জয়গান গাইতেই হবে, নইলে আমাদের নাগরিক দায় পরিশোধিত হবে না।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে ভালোবেসে জননেত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ৯০ এর দশক থেকে সততা আর সাহসিকতার সাথে রাজনীতি করে আসছেন বিশিষ্ঠ রাজনীতিবীদ ও ক্লিন ইমেজের নেতা মাইনুল ইসলাম রনো। দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকে এলাকায় দলের সকল রাজনৈতিক কর্মকন্ডে প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহন করেছেন তিনি। বিপদে-আপদে জনগনের পাশে দাড়িয়েছেন। তিনি একজন কর্মীবান্ধব নেতা, কর্মীদের মনের ভাষা বোঝেন। শত শত নেতা কর্মী যার হাত ধরে রাজনীতি করা শিখেছে। ফলে ইতমধ্যেই এলাকার একজন জনপ্রিয় ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন মাইনুল ইসলাম রনো। তৃনমূল নেতা-কর্মীদের ভরসা পাত্র হয়ে দাড়িয়েছেন সবসময়। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি থেকেছেন সামনের সারিতে। দিয়েছেন সফল নেতৃত্ব। দল ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তিনি একজন নিবেদিত প্রাণ। জনবান্ধব এবং পরীক্ষিত ও লড়াকু সৈনিক। প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় থাকলেও লোভ লালসার স্রোতে গা ভাসাননি তিনি। তৃণমুল নেতাকর্মিদের সঙ্গে থেকে এখনও সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।
তিনি, তাঁর পরিশ্রম, সাহস, ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা আর প্রতিভার সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য, স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সঠিক ও সুচারুভাবে বাস্তবায়নের জন্য, সর্বোপরি শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন রয়েছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এবং প্রতিটি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের জয়লাভের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তারুণ্যের প্রতীক এ ব্যক্তি তাঁর বয়স ও অভিজ্ঞতা দুটিকেই হার মানিয়েছেন। তাঁর কর্মকান্ড ও আত্মত্যাগে মনে হয় তিনি এক মহান মানুষ। বিগত সালে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল ও অবরোধ ঠেকাতে মাঠে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। চরম বির্পযয়ের মধ্যেও উপজেলা ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে রেখেছিল। শুধু এখানেই তিনি ক্ষান্ত নন, গরীব-দুঃখী ও অসহায়দের পাশে আছেন। ইতিমধ্যে তিনি নেতৃত্ব ও জনসেবার মাধ্যমে জয় করেছেন সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা। তার নিজস্ব মনোবল ও একান্ত প্রচেষ্টায় তিনি রাজনৈতিক অঙ্গণে এ পর্যন্ত এসেছেন।
দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামের সাহসী মুজিব সৈনিক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুজিবকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও আদর্শ্যের আদর্শিত ব্যক্তিত্ব, যিনি একজন সাদা মনের মানুষ। শত প্রতিকূলতার মাঝে দলের পিছনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। সংকট মূহুর্তে সবার পাশে থেকে ঝান্ডা হাতে কান্ডারীর ভুমিকা পালন করেছেন। দলের প্রতি, নেত্রীর প্রতি তার নিবেদন এবং আত্মত্যাগ সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু সেই নেতাকে কি সঠিক মূল্যায়ন করতে পেরেছে দল অথচ তার জনপ্রিয়তার কারণে বিরোধী মতানৈক্য সবসময় তাকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।
মাইনুল ইসলাম রনো একজন আওয়ামী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। স্কুল জীবন থেকেই পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যে তার রাজনীতি শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি গলাচিপা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৯ সালে গলাচিপা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গলাচিপা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সদস্য পদে রয়েছেন। এছাড়া তিনি রেড ক্রিসেন্ড এর গলাচিপা উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি, গলাচিপা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক (১৯৮৮ -১৯৯০) সাল। ৯০ এর স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলন, বিএনপি জামাত জোট সরকাররের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে তিনি রাজ পথের একজন প্রতিবাদী আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে বহুবার অত্যাচার , জুলুম, ও নির্যাতনের স্বীকার হয়ে কারাভোগ করেছেন। এছাড়াও সামাজিক জীবনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন ধর্মী প্রতিষ্টানসহ সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে রয়েছে তার অসংখ্য অবদান।
আগামী ১৭ অক্টোবর পটুয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচন। উক্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মধ্যে শুরু হয়েছে উৎসাহ উদ্দীপনা। এরই মধ্যে গলাচিপা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে গঠিত ৬নং ওয়ার্ড থেকে সাধারন সদস্য পদে মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক মো. নুরুল ইসলাম মিয়ার সু-যোগ্য সন্তান ত্যাগী নেতা, সৎ, ন্যায়পরায়ন, সমাজ সেবক ও জনদরদী ব্যাক্তিত্ব সাবেক গলাচিপা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও গলাচিপা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. মাইনুল ইসলাম রনো কে দেখতে চায় তৃণমূল।
ইতিমধ্যে এই প্রার্থীকে নিয়ে গলাচিপা উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে চলছে আলোচনা। এছাড়াও দলমত নির্বিশেষে ৬নং ওয়ার্ডে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ সদস্য প্রার্থী মাইনুল ইসলাম রনো এর নাম রয়েছে সবার আগে পছন্দের তালিকায়।
এদিকে ভোটের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য সদস্য পদপ্রার্থীরা দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন। তবে মাইনুল ইসলাম রনো প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ সাধারণ মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে ব্যাপক ভাবে। চায়ের দোকান, পাড়া-মহল্লা, মাঠঘাট, হাটবাজার সর্বত্র সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে সরগরম আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। নেতা-কর্মীদের মতে, দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে একক সদস্য হিসেবে দেখতে চায় তাকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার আকাশচুম্বি যে জনপ্রিয়তা রয়েছে তাতে যোগ্য প্রার্থী মাইনুল ইসলাম রনো।
এবিষয়ে একাধিক ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাইনুল ইসলাম রনো একজন ত্যাগী নেতা, সমাজসেবক, সৎ, যোগ্য, আদর্শবান ও নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন মেধাবী ব্যক্তিত্ব। তাঁর রয়েছে সাংগঠনিক দক্ষতা। আর জেলা পরিষদে এমন প্রতিনিধি চায় ভোটাররা। আর দলের প্রতি মাইনুল ইসলাম রনো’র যে আত্মত্যাগ ও ঋণ তার সামান্য পরিমান দায়মুক্তির অংশ হিসেবে হলেও জেলা পরিষদ সদস্য পদে গলাচিপা উপজেলা হতে তাকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা এবং সমর্থন চায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
মাইনুল ইসলাম রনো বলেন, ‘আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে সকল ভোটারদের সমর্থন ও সহযোগিতা আমি আশা রাখি। আমি চাই দলীয় ও জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন পেয়ে নির্বাচিত হয়ে গালাচিপা উপজেলার সর্বসাধারনের সেবার মান নিশ্চিত করবো। আমার বাবা সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মিয়া তার জীবদ্দশায় মানবসেবা করে গেছেন। আমিও তার পথ অনুসরণ করে মানবসেবা ও ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারবো বলে আশা রাখি।’
উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৮ সেপ্টেম্বর বাছাইয়ের পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর।