মুক্তাগাছায় আয়মন নদীতে বেড়া দিয়ে চলছে মাছ চাষ
নজরুল ইসলাম জুয়েল, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় নতুন বাজার এলাকায় আয়মন নদীতে অবৈধভাবে কাঠ ও জালের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে স্থানীয়রা মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছেন না। এলাকাবাসির পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ইউএনও কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।
সূত্র বলছে,ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ৫৯টি নদ-নদী রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৩০টি নদী বিলীনের পথে। সরকারিভাবে নদ-নদী তদারককারীদের চরম অবহেলা ও উদাসিনতায় সরকারি স্থাপনা তৈরি করাসহ প্রভাবশালী ও স্থানীয় অধিবাসীদের দখলে চলে গেছে এসব নদ-নদী। আগে আয়মন নদীতে গ্রামবাসীরা মাছ শিকার করতেন। মৎস্যজীবী জেলেরা মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নদী খননের পর স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয়-স্বজনেরা নদীর মাঝে কাঠ ও জালের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করায় ,নদী পাড়ের লোকজন নদীতে মাছ ধরা তো দূরের কথা নদীর জলও ¯পর্শ করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,মুক্তাগাছার আয়মন নদীটি এক সময় আয়মন নদীর ওপর দিয়ে তৎকালীন জমিদাররা পণ্য পরিবহন ও নিজেরা জলযানে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। কালের বিবর্তনে অবহেলা আর দেখভালকারীদের উদাসিনতায় দখলে-দূষণে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। নদীটি খননে সরকারি কার্যক্রম গ্রহণ না করায় ভরাট হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি অবৈধ দখলমুক্ত না হলে ভবিষ্যতে মুক্তাগাছা শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এবং বর্ষায় শহর জলমগ্ন হয়ে পড়বে।
এদিকে স্থানীয় এমপি ও সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এবং পৌরসভার মেয়র বিল্লাল হোসেন সরকারের উদ্যোগে উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় আয়মন নদীর প্রায় এক কি.মি অংশ খনন করা হয় এবং খনন শেষে নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পৌর মেয়রের নাম ভাঙিয়ে মনিরুজ্জামান অকাশ ওরফে মনির মাষ্টারসহ বেশকয়েকজন প্রভাবশালী নদীতে জাল দিয়ে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছেন এবং নদীর পাড়ের লোকজনের নদীতে নামতে নিষেধ করেছেন বলে অভিয়োগ করেছেন নদীর পাড়ের লোকজন। এতে নদীর পাড়ের জেলেরা নদীতে নামতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দ্রুত নদীর রুস্তম সরকার বাড়ি ও আটানী বাজার রোডের হাসপাতালে পশ্চিম পাশ থেকে জালের বেড় সরিয়ে নদীতে মাছ ধরার আকুতি জানিয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেছন। শুধুমাত্র নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ চাষই নয়,মনির মাষ্টারের বিরুদ্ধে আয়মন নদীর খননের সময় সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারসহ একাধিক অসহায় পরিবারের কাছ থেকে মেয়রের নাম ভাঙিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এতিমের জমি নিজের নামে লিখে নেয়ার মত গুরুরত অভিযোগও রয়েছে।
নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ প্রসঙ্গে এলাকাবাসির পক্ষে অভিযোগ করা এমদাদুল নামের একজন ভোরের আকাশকে বলেন,বর্তমানে এলাকার প্রভাবশালীরা আয়মন নদীতে জাল ও বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছে।এতে এলাকার অসহায় দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
নদী দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ প্রসঙ্গে অন্যতম দখলবাজ মনিরুজ্জামান আকাশ ওরফে মনির মাষ্টার নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করার বিষয়টি অস্বীকার করলেও আয়মন নদীর খননের সময় টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন,আয়মন নদীর থেকে দুই-চারজনের টাকা নিছি,আমি খাইছি,আমি যে টাকা নিয়েছি,আমি তো আমার কথায় নেইনি,টাকাটা যেভাবে নিয়েছি,সেভাবে মেয়র মহোদয়ের কাছে দিয়ে দিছি। তবে টাকার বিষয়ে কিছুই জানেন না পৌর মেয়র বিল্লাল হোসেন সরকার,বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
মনির মাষ্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতা ভোরের আকাশকে জানান,এলাকার সবাই তাকে টাউট মনির নামে চিনতো,হঠাৎ কথিত সাংবাদিকের খাতায় নাম লিখে,স্থানীয় মেয়র ও এমপির নাম ভাঙিয়ে সবখানে ধান্দা-ফিকির করছে। এরা সাংবাদিকতাকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিষয়টি প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম লুৎফর রহমান জানান,এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন,নদী দখল করে মাছ চাষ করা অবৈধ ও অন্যায়। যদি জালের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা হয় তাহলে প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।