রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

চৌদ্দগ্রামে খাবার দিতে না পেরে নিজের শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যা করলেন মা

জাগো বুলেটিন ID: EP-13189

খাবার দিতে না পেরে নিজের ১৫ মাস বয়সী নিজের শিশুসন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন এক নারী।

মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কাশিনগর ইউনিয়নের অশ্বদিয়া গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত মা রোকসানা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বারৈয়া গ্রামের সবজি বিক্রেতা আমান উল্যাহর মেয়ে রোকসানা আক্তারের বিয়ে হয় বরিশালের দিনমজুর ইব্রাহিমের সঙ্গে।

গত ১৫ মাস আগে তাদের ঘরে আরাফাত হোসেন নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। এরপর থেকে দিনমজুর ইব্রাহিম তার শ্বশুরবাড়ি এলাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি বরিশালে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর আর স্ত্রী-সন্তানের খবর রাখেননি।

গেল রমজানে ইব্রাহিম স্ত্রী রোকসানাকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বরিশাল যেতে বলেন। কিছুদিন পর টাকা নিয়ে তিনি বরিশাল যান। টাকা শেষ হয়ে গেলে রোকসানাকে আবার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন তার স্বামী।

রোকসানা সন্তান ও নিজের খাবার জোগাড় করতে পারছেন না বলে স্বামীর কাছে আকুতি করে ফোন করেন। কিন্তু তাতে মন গলেনি ইব্রাহিমের। একপর্যায়ে সন্তানসহ রোকসানাকে আত্মহত্যা করতে বলেন তিনি।

এদিকে দিনমজুর বাবার ঘরে ঠিকমতো খাবার না পেয়ে স্বামী-সন্তানের চিন্তা এবং ক্ষুধার জ্বালায় রোকসানা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে রাগ ও ক্ষোভে রোকসানা তার শিশুসন্তানকে দুবার পানিতে ফেলে দিলে গ্রামবাসী উদ্ধার করেন। পরে মানসিক ভারসাম্যহীন রোকসানাকে দিনমজুর বাবা চিকিৎসা করালেও তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেননি।

প্রতিবেশী ফেরদৌসি বেগম জানান, স্বামী দীর্ঘদিন স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজখবর না নেওয়ায় রোকসানা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে নিজের ও সন্তানের আহার জোগাতেন। দিন যতই যাচ্ছিল, ততই রোকসানা আরও মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বামী কোনো সহযোগিতা না করে উল্টো সন্তানকে মেরে ফেলার প্ররোচনা দিতে থাকেন।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে রোকসানার শিশুসন্তান আরাফাত হোসেন খাবারের জন্য কান্নাকাটি করতে থাকে। খাবার জোগাড় করতে না পেরে পার্শ্ববর্তী অশ্বদিয়া গ্রামের একটি ডোবাতে আরাফাতকে ছুড়ে ফেলে দেন রোকসানা। স্থানীয়রা ডোবাতে শিশুর লাশ ভেসে উঠতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং রোকসানাকে গ্রেফতার করে।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ডোবা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, শিশুটির মা মানসিকভাবে অসুস্থ। নিজের ও শিশুসন্তানের ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ডোবায় ছুড়ে ফেলে তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।