ঠাকুরগাঁওয়ে আপন চাচা ও ভাতিজার সংঘর্ষে আহত ৭
পূর্বের জের ধরে একটু কথা কাটা কাটিকে কেন্দ্র করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় চাচা ও ভাতিজার মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষ চাচার হামলায় ৪ জন ও অপর পক্ষের ৩ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, ছলিম উদ্দিন, মতিরুল ইসলাম,লুৎফর রহমান,সোহাগি বেগম,এবং অপরদিকে সিরাজুল ইসলাম, আনছারুল হক,আনারুল,তৌহিদুল সহ মোট ৭ জন। সবাই ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
গত (১৮ আগষ্ট) বৃহস্পতিবার দুপুরের ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের হরিপুর (তেরিয়ালী পাড়া) এলাকায় মতিরুল ইসলাম ও আপন চাচা দাইমুল ইসলামের মাঝে ভাতিজা মতিরুল ইসলামের উঠানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, চাচা দাইমুল ইসলাম তার ছেলের চাকরি বিষয়ে লেনদেন করেন জৈনেক এক ব্যক্তির কাছে এ সময় ভাতিজা মতিরুল ইসলাম উপস্থিত থাকার কারণে চাকরি না হওয়ায় চাচা দাইমুল ইসলাম ভাতিজা মতিরুল কে টাকা কথা বললে ভাতিজা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেন কিন্তু সময় না আসিতেই চাচা সহ তার পরিবারের মানুষ ভাতিজাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ সহ গালাগালি দিতে থাকে।
কিন্তু গত (১৮ আগষ্ট) বৃহস্পতিবার দুপুরের একটু কথা কাটা কাটিকে কেন্দ্র করে ভাতিজা মতিরুল ইসলামের উঠানে গিয়ে মতিরুল সহ ছলিম উদ্দিন (৬২) পিতা, মৃত ধন মোহাম্মদ, মতিরুল ইসলাম, (৪৪) পিতা, ছলিম উদ্দিন,লুৎফর রহমান ( ২৬) পিতা ছলিম উদ্দিন,সোহাগি বেগম, ( ৩৩) স্বামী, মতিরুল বেধড়ক মারপিট করে এই মারপিটে দুই পক্ষে সাত জনের ও বেশি আহত হন।
আহত ভাতিজা মতিরুল ইসলাম জানান, তহিদুল ইসলাম বাড়িতে গিয়ে আমাকে বলে তোমার জন্য আমর বউ থাকে না তুমি আমাকে নষ্ট করে ফেলছো তখন আমি তহিদুল কে বলছি আমি কিভাবে তোমায় নষ্ট করলাম আমি ডাক্তার নাকি আল্লাহ না কি খোদা যে তোমায় নষ্ট করে ফেলছি তুমি অসুস্থ হয়ছো ডাক্তারে কাছে যায়তে হবে এই মর্মে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলাম কিন্তু এর পরে তহিদুল বাসায় গিয়ে লোহার রড সাথে তার বাবা ও চাচা দাইমুল সহ আরো লোক জন সাথে নিয়ে এসে মারপিট শুরু করে। পরবর্তীতে থানা থেকে পুলিশ আসলে তারা চলে যায়। ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানাইলে তিনি বলেন আগে সবাই সুস্থ হয়ে আসো সুস্থ হলে বিষয় টা নিয়ে বসা যাবে।
অপরদিকে চাচা দাইমুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ভাতিজার কাছে চাকরি বিষয়ে লেনদেন হয় ও আমি সেই লেনদেনের টাকা চাইতে গেলে আরো তারিখ দেই যার জন্য আমি রাগান্বিত হয়ে যায় ও আমি একটু বাইরে গেলাম ও পরে নাকি মারপিট হয়ে গেছে গত কালকে আমি পাট ছিলতেছিলাম ঠিক তখন আমার গ্রামের একজন বললো যে এই ভাবে কষ্ট করো আর টাকা অন্য কাউকে খাওয়াও। পরে আমি বলি আপন ভাতিজা টা খাইনিছে অকে আটিবেনি কোন দিন,পরবর্তীতে আমার ভাতিজার বউ আমার বউ দুজনে গালি গালাজ করে আমার বড় ভাই ছিলো সেই সময় আমার বড় ভাই কে গালি দেই বড় যখন আমাকে এসে বলে তোমার জন্য আমাকে মাইর দিল তখন আমি যায় দূর থেকে দেখি।
এই বিষয়ে ৯৯৯ লাইনে কল করা ব্যক্তি শ্যামল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় চাকরি করি আর ছুটিতে বাড়িতে আসছি আমি ঘুরার জন্য বের হলে শুনি যে চিৎকার তাই ছুটে গেলে দেখি মারপিট অনেক জন আহত হয়ে পড়ে আছে মাটিতে কিন্তু কোন উপায় না পেয়ে আমি ৯৯৯ লাইনে কল করছি।
এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আকরাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মতিরুল ও দাইমুল আপন চাচা ও ভাতিজা পূর্বে চাকরি বিষয়ে দাইমুলের ছেলের জন টাকা দিছলো মতিরুল ইসলামের কাছে কিন্তু মূল চাকরি মাধ্যম ছিলো ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মকবুল হুসেন। যিনি আবার ঢাকায় কাকে জানি টাকা দিয়েছে।
তবে চাকরি না হওয়ায় এই লেনদেনের বিষয়ে বসা হয়েছিল দুই পক্ষকে নিয়ে এবং মতিরুল ৩ মাস সময়ও নিয়েছে চাচা দাইমুল ইসলামের কাছে, হঠাৎ দুই দিন পার না হতেই গত বৃহস্পতিবার দুপুরের কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ভাতিজা মতিরুলের পরিবার ও চাচা দাইমুলের পরিবারে মাঝে সংঘর্ষ বাধে এতে অনেক জন আহত হয়েছেন বলে শুনছি। তবে দু-পক্ষে বিষয় টা আমাকে জানিয়েছে। আমি বলছি সবাই আগে সুস্থ হন তার পরে বসা হবে।
এই বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ খাইরুল আনাম ডন তিনি জানান, ৯৯৯ ফোন পাওয়ায় সাথে সাথে এস আই আকরাম হোসেন কে ঘটনা স্থলে পাঠাই এবং পরিস্থিতি ঠিক হয় ও অনেক জন আহত হয়েছেন শুনছি। তবে এখনো পযর্ন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।