রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

পঞ্চগড়ে পাথর-বালু ক্রয় বিক্রয় শুরু

জাগো বুলেটিন ID: EP-15673

ঞ্চগড়ে গত তিন দিন ধরে পাথর ও বালু ক্রয়- বিক্রয় বন্ধ থাকার পর উভয় পক্ষের যৌথ আলোচনা শেষে প্রত্যাহার করা হলো অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট।

সোমবার (২৯ আগস্ট) দিনগত রাতে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের যৌথ আলোচনায় বিষয়টি সমাধান হওয়ায় ব্যবসায়ীরা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে পাথর ও বালু ক্রয়- বিক্রয় শুরু হয়েছে।

রাতে যৌথ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াছিন আলী মন্ডল।
এসময় অন্যদের মধ্যে পঞ্চগড় জেলা পাথর-বালু যৌথ ফেডারেশন সভাপতি হাসিবুল হক প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ২৬৪ এর সভাপতি আব্দুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী, শ্রমিক ইউনিয়ন ২০০০ এর সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন, পঞ্চগড় জেলা পাথর-বালু ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী সমিতির দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রউফসহ পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, আগে ট্রাকে পাথর ও বালু লোড আনলোডে শ্রমিকদের প্রতি সেফটি ২ টাকা ৮০ পয়সা করে দেয়া হতো। কোন যৌক্তিক কারণ ও আলোচনা ছাড়াই সেই পারিশ্রমিক ৫ টাকা ৫০ পয়সা দাবী করে জোর পূর্বক আদায় শুরু করে শ্রমিকরা। শ্রমিকদের হঠাৎই এমন বাড়তি পারিশ্রমিক দাবী ও খারাপ আচরণের কারণে পাথর- বালু যৌথ ফেডারেশন গত ২৭ আগষ্ট (শনিবার) থেকে পঞ্চগড়ে পাথর- বালু ক্রয়- বিক্রয় অনির্দিষ্ট কালের জন‍্য বন্ধ রাখে। এদিকে প্রায় তিন দিন ক্রয়- বিক্রয় বন্ধ থাকার পর উভয় পক্ষের আলোচনা শেষে সমাধানের মাধ্যমে ধর্ষঘট প্রত্যাহার করে ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (২৯ আগস্ট) রাতে যৌথ আলোচনায় নতুন সিদ্ধান্তে প্রতি সেফটি পাথর ২ টাকা ৮০ পয়সার পরিবর্তে ৩ টকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এদিকে বালু ১০ চাকা ট্রাকে ১৭শ টাকার পরিবর্তে ১৮শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ৬ চাকা ট্রাকে ৮শ টাকার পরিবর্তে ৯শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসময় পাথর ব্যবসায়ীরা জানান, কোন আলোচনা ছাড়াই জোর পূর্বক ভাবে শ্রমিকেরা অতিরিক্ত টাকা নেয়া শুরু করলে তারা পাথর ও বালু ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসন সমঝতা চাইলে উভয় পক্ষের আলোচনায় পরবর্তী সীদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জেলা পাথর-বালু ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী সমিতির দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, হঠাৎ করে পাথর ও বালু লোডিং খরচ কোন আলোচনা ছাড়াই শ্রমিক নেতারা বৃদ্ধি করলে এর প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে পাথর ও বালু ক্রয়- বিক্রয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন জেলার ব্যবসায়ীরা। প্রায় তিনদিন পর উভয় পক্ষের যৌথ আলোচনা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।

শ্রমিক সংগঠন ২৬৪-এর সভাপতি আব্দুল লতিফ ও ২০০০ এর সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন বলেন, আমাদের দাবী ছিলো ৫ টাকা ৫০ পয়সা। আমরা শ্রমিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে ৪ টাকা করে নেয়া শুরু করি। এরপর ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদে কার্যক্রম বন্ধ করে রাখে। এখন উভয় পক্ষের আলোচনায় বিষয়টি সমাধান হয়ে ৩ টাকা ৯০ পয়সায় এসেছে।

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, পাথর বালি যৌথ ফেডারেশন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাসহ ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করা হয়। তারা সবাই এ সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করায় পাথর বালি যৌথ ফেডারেশন তাদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়।