ঈশ্বরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘরে উপচে পরা ভিড়
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর। বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১২ টা থেকে ঈশ্বরগঞ্জবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে এ জাদুঘরটি। জাদুঘরটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে।
এখানে যে কেউ রেলস্টেশনে এসে বিনামূল্যে জাদুঘরটি দেখার সুযোগ পাবেন বলে জানায় রেল কর্তৃপক্ষ। জাদুঘর প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
এদিকে ঈশ্বরগঞ্জে রেল জাদুঘর প্রদর্শনীর প্রথম দিনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এক কামরার রেল জাদুঘরের ভেতরে সময় নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখছে ছোট শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্ক থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেনাপোল রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম দিন সকাল থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী রেল জাদুঘরটি ঘুরে দেখে।
জাদুঘরটিতে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ১২টি গ্যালারির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি গ্যালারিতে ডিসপ্লের পাশাপাশি শ্রবণযন্ত্রের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেক্ষাপটের ধারা বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে। জাদুঘরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর পৈতৃকবাড়ি, সমাধিসৌধ, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ, বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত প্রতীকী চশমা, মুজিব কোট, পাইপ, মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, জাতীয় শহীদ মিনার, কারাগারের রোজনামচা, বিজয়স্তম্ভ, কমলাপুর ও মুজিব শতবর্ষের লোগো প্রদর্শিত করা হয়।
নান্দাইল শহীদ স্মৃতি কলেজ থেকে ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর দেখতে আসা শিক্ষার্থী সাবরিন সুলতানা বৃষ্টি বলেন, আমরা বইয়ের পাতায় মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে পড়েছি। ঢাকা জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু কে দেখার সুযোগ আমাদের মতো অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের হয়ে উঠে না। তাদের জন্য এই রেল জাদুঘরটি অসাধারণ মাধ্যম বঙ্গবন্ধুকে জানার। কৃতজ্ঞতা রেল কর্তৃপক্ষকে আমাদের বাড়ির কাছে এক খন্ড বঙ্গবন্ধুকে পৌঁছে দেবার জন্য।
ঈশ্বরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘরটি তিন দিনের জন্য ঈশ্বরগঞ্জে এসেছে। সকাল ৮ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।