পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম এমু বিরুদ্ধে ভিজিডির কার্ডের ২৫ মেট্রিকটন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জুলাই ও আগস্ট মাসের বরাদ্দের চাল একসাথে উত্তোলন করে এক মাসের বিতরন করা হয়েছে এমন অভিযোগ উপকারভোগিদের। এছাড়াও দুই বছরের ভিজিডি কার্ডে ২২ মাস পার হলেও চাল পেয়েছেন দুই বস্তা। কেউ জানেন না তার নাম ভিজিডি কার্ডের তালিকায় রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলেছে বিষয়টি শুনেছি তদন্ত চলছে প্রমানিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়,দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ২০২১-২২ সালের ভিজিডি/ ভিডব্লিউবি আওতাধীন কর্মসূচির কার্ডধারী উপকারভোগীর সংখ্যা ৮শ ৪৫ জন। তার বিপরীতে মাসে চাল বরাদ্দ পায় ২৫ দশমিক ৩শ ৫০ মেট্রিকটন। স্থানীয়দের মাঝে কার্ড ভাগাভাগির জটিলতায়
২০২১ সালে জানুয়ারী থেকে চাল বিতরন না করে, মার্চ মাস থেকে শুরু হয় চাল বিতরন। তারপরও ২১ সালে দশ মাসের মধ্যে আট মাস দেয়া হয়েছে চাল।এদিকে ২০২২ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসের চাল একসাথে ২৪ আগস্ট উত্তোলন দেখিয়ে এক মাসের চাল বিতরন করা হয়েছে এবং সবার কাছ থেকে কার্ড নিয়ে রেখে দেন চেয়ারম্যান। তিন চার মাসেও কার্ড ফেরত পায়নি ভুক্তভোগীরা।তাদের
অভিযোগ রয়েছে এক মাসের ২৫ দশমিক ৩শ ৫০ মেট্রিকটন ভিজিডি কার্ডের চাল খাদ্য গুদামের যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ট্যাগ অফিসার আত্মসাত করেছেন।
উপজেলা সমবায় ও ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরনে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার আল মামুন জানান ,দুইটা ডিও একসাথে উত্তোলন করেছে এমনটা মনে নাই। আর চোর চুরি করলে কেউ ঠেকাতে পারবেনা। আমার পক্ষে শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব না।
ডাঙ্গাপাড়া এলাকার মোছা.আনোয়ারা বেগম জানান, ২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে ২২ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত আমি দুই মাসের চাল পেয়েছি। পরে ফারুক মেম্বারকে বার বার বলেছি আমার চাল দেন কিন্তু মেম্বার কোন কথাই শুনেননি। এসময় ২০ মাসের চাল উদ্ধার করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচারের দাবী জানান তিনি।
একই এলাকার মোছা.নাছরিন আক্তার জানান, আলাল নামের এক জনৈক ব্যক্তিকে ২ হাজার টাকা দিয়েছেন ভিজিডি বাবদ। পরে বার বার খবর নিয়ে জানতে পেরেছি আমার কার্ড হয়েছে। কার্ড নম্বর ১০৭, কিন্তু চাল এখন পর্যন্ত এক ছটাকও পাই নাই।
এছাড়াও ২০ মাসেও কোন চাল পায়নি জাহানারা বেগম ,জুলাই ও আগস্ট মাসে মরিয়ম আক্তার, হাছিনা বেগম, শিউলী বেগম, আনজু, দুলালি বেগমসহ একাধিক কার্ডধারী দুই বস্তা পাওয়ার কথা থাকলেও চাল পেয়েছেন এক বস্তা করে।
দেবীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আশরাফুল আলম এমু জানান ,যা বরাদ্দ পেয়েছি তাই দিয়েছি। কিছু মানুষ পৌরসভায় পড়েছে তাদেরকে শুধু দেয়া হয়নি। বলা আছে নভেম্বরে জাতীয় পরিচয় পত্র ছাড়া চাল দিব না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.গোলাম ফেরদৌস জানান, বিষয়টি আগেই শুনেছি খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে, প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।