রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

পঞ্চগড়ে চাঁদা না পেয়ে বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, কাঁদলেন বৃদ্ধ

জাগো বুলেটিন ID: EP-23292

নিজের কেনা জমিতে বাড়ি করতে গিয়ে দিনের পর দিন হয়রানি আর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন পঞ্চগড়ের জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পঞ্চগড় সুগার মিলের অবসরপ্রাপ্ত সিডিএ আবু বকর সিদ্দিক ও তার পরিবার।

কাজ শুরুর সময়ে প্রতিবেশি সোহেল রানা ও তার ভাই জুয়েল রানার পরিবারের লোকজনের ক্রমাগত হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয়া ও বাড়ির প্রাচীর ভেঙে ফেলাসহ পরিবারটির লোকজনকে একাধিকবার মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

মামলা করা হলেও তাদের নির্যাতন থেকে মুক্তি পাচ্ছেনা পরিবারটি। ৩ জানুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন বৃদ্ধ আবু বকর সিদ্দিক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় তারা জানান, ১৯৮৯ সালে পঞ্চগড় জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকায় সাড়ে ৫ শতক জমি কিনে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন পঞ্চগড় সুগার মিলের অবসরপ্রাপ্ত সিডিএ আবু বক্কর সিদ্দিক। জমিটি আরএস রেকর্ডভুক্ত। গত ১০ নভেম্বর তার পুরনো বাড়ির ঘরদোড় ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় হঠাৎ প্রতিবেশি সোহেল রানা ও জুয়েল রানা তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পালিয়ে যায় তারা। পুলিশ চলে গেলে তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বসে। চাঁদা না দিলে ভবন নির্মাণ করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। গত ২৯ ডিসেম্বর আবারো পরিবারটির উপর হামলা করে তারা। এ সময় সিদ্দিকের মেয়ে বদরুন্নহার লাকীকে মারধর করে তার দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় এবং বাড়ির প্রাচীর ভেঙে ফেলে দখল করা চেষ্টা করে তারা। কোনমতে পালিয়ে থানায় গিয়ে সোহেল, জুয়েলসহ তাদের পরিবার স্বজনদের মধ্যে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামী করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করে আবু বকর সিদ্দিক।

মামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরে যেতে বললে তারা পুলিশের উপর আরও চড়াও হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ চার নারীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা জামিনে বের হয়ে আসে। সোমবার আবার কাজ শুরু করলে তারা আবারো ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এমনিভাবে পরিবাটিকে ভবন নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধ আবুবকর সিদ্দিক কাঁদতে কাঁদতে বলেন, এখানে আমার কেউ নেই। আমার ছেলে বাইরে চাকরি করে। আমি আমার স্ত্রী ও মেয়ে নিয়ে থাকি। আমার রেকর্ডিও জমিতে এখন ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে চাঁদাবাজদের কবলে পড়েছি। অনৈতিকভাবে তারা ৫ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা তাদের লোকজন নিয়ে যখন তখন হামলা করছে। বাড়ি ঘর ভাঙচুর করছে। আমাদের মারধর করছে। মামলা করেও তাদের উৎপাত থেকে রক্ষা পাচ্ছি না। তাদের ভয়ে আতঙ্কে সব সময় দিন কাটাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল রানা বলেন, তারা মিথ্যে অভিযোগ করছে। ওই জমিতে আমাদের অংশ রয়েছে। জমিটি ভুলক্রমে তাদের নামে রেকর্ড হয়েছে। আমরা রেকর্ড বাতিলের জন্য আবেদন করেছি।

পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, পরিবারটি সত্যিকার অর্থেই দারুনভাবে নির্যাতিত হচ্ছে তাদের দ্বারা। নিজের শেষ সময়ে একটি বাড়ি করতে গিয়ে এমন নির্যাতন সহ্য করা যায় না। আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছি। প্রভাবশালী কিছু ভূমিদস্যু তাদের ইন্ধন জোগাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা রয়েছে। আমরা এর মধ্যে কয়েকজন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছি। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয় তাদের। পরে তারা জামিনে বের হয়ে এসে আবারো উৎপাত শুরু করেছে। আমরা নিরীহ পরিবারটির পাশে সব সময় রয়েছি। আসামী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।