পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় শিক্ষক বরখাস্ত
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক মাদরাসার বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই মাদরাসার এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ভাউলাগঞ্জ বাজার সহ আশে পাশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে চলছে কানাঘুষা। কেউ কেউ বলছেন ঘটনাটি সাজানো আবার অনেকে বলছেন যেহেতু ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এতে বুঝা যায় ঘটনা সত্যি। তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর এর সত্যতা জানা যাবে।
এই ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে তিন মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই সাথে অধিকতর তদন্তের জন্য সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
শ্লীলতাহানির ঘটনাটি ঘটে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ দারুচ্ছালাম নেছারিয়া আলিম মাদরাসায়।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) দশম শ্রেণীর ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দেন মাদরাসার অধ্যক্ষ আজিজুর রহমানের নিকট শিক্ষক ফজলে রাব্বী প্রধানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক পার্শ্ববর্তী বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ভোলা বসুনিয়া এলাকার আব্দুল লতিফ প্রধানের ছেলে। তিনি ওই মাদরাসার বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বুধবার (১২ এপ্রিল) ফজলে রাব্বী প্রধান তার ছেলের জন্মদিনের দাওয়াতের কথা বলে ওই ছাত্রীদের সাকোয়ায় নিজ বাসায় ডেকে নেন। পরে ওই ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেন ফজলে রাব্বী প্রধান। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা তাৎক্ষণিক মুঠোফোনে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৭টায় পরিবারের সদস্যরা ওই ছাত্রীদের সাকোয়া থেকে বাসায় ফিরিয়ে আনেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীরা আরো অভিযোগ করেন, ইতিপূর্বে ফজলে রাব্বী প্রধান বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীর শরীরে ও স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করেন এবং এই পরিস্থিতির সম্মুখীন আরো অনেক ছাত্রী হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ আজিবুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ওই শিক্ষককে তিন মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছি। একই সাথে সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
ফজলে রাব্বী প্রধান এই বিষয়ে মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। আমি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলেই তাদের আমার বাসায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।