রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

মানবিক সহয়তা নিয়ে রিকশাচালক ফারুকের পাশে ইউএনও গলাচিপা

জাগো বুলেটিন ID: EP-28155

“আমার কেউ নেই পৃথিবীতে, আমার আমি ছাড়া আর কেউ নাই ” গত শনিবার রাতে এমনই কান্না জড়িত কন্ঠে রিকশাচালক ফারুক জানাচ্ছিলেন তার অসহায়ত্বের কথা। তবে তার অসহায়ত্ব দূরে করতে মানবতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়ালেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মো: মহিউদ্দিন আল হেলাল।

মানবিক সহায়তা নিয়ে তিনি সদ্য মা হারানো অসহায় ছোট্ট শিশু আমেনা ও তার দরিদ্র রিকশাচালক পিতা ফারুকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি গত বৃহস্পতিবার রাতে মা মরা ছোট শিশু নিয়ে জীবন সংগ্রামে রিকশাচালক বাবা ফারুক শিরোনামে ফেইসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন মাইদুল হক মিকু নামে এক সংবাদকর্মী। ছবিতে দেখা যায় রিকশাচালক ফারুকের কোলে শুয়ে আছে ছোট্ট শিশু আমেনা। পরে ছবিটি বিভিন্ন পেজে থেকে পোস্ট করা হয়। এতে ছবির পোস্টটি মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসে মানবিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহিউদ্দিন আল হেলালের। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওই রিকশাচালক বাবা ও শিশুর খোঁজ নেন এবং সহয়তা করার আশ্বাস দেন।

পরে শনিবার রাতে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ওই রিকশাচালক ফারুকের বাসায় খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হন ইউএনও মহিউদ্দিন আল হেলাল। এসময় তিনি ছোট্ট শিশুর জন্য খাবার দুধ ও পোশাক উপহার দেন। এছাড়াও ছোট্ট শিশুর জন্য মানবিক দিক বিবেচনায় স্থায়ী ভাবে ফারুকের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এসময় মানবিক কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে ছিলেন গলাচিপা ফাউন্ডেশন ও গলাচিপা স্কিল ল্যাবের সদস্যরা।

গলাচিপা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ফেরিঘাট সংলগ্ন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার কতৃক বরাদ্দকৃত ব্যারাকের ঘরে বসবাস করেন রিকশাচালক ফারুক খাঁ। তার ছোট্ট দুই কন্যা সন্তান একজনের বয়স দেড় বছর অন্যজন এক বছরের কম বয়সী। গত মাস ছয়েক আগে ব্রেইন স্ট্রক করে তার স্ত্রী মারা যায়। তার কিছুদিন পরে ফারুকের মা মারা যায়। এরপরই শুরু হয় রিকশাচালক ফারুকের ছোট্ট কন্যা শিশু নিয়ে জীবন সংগ্রাম। জীবীকার তাগিদে পেটের দ্বায়ে ছোট্ট শিশু আমেনা কে নিয়ে রিকশা চালায় ফারুক। সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা উপার্জন হয় তাই চলে কোনমতে সংসার। ছোটো শিশুর জন্য দুধ কেনার টাকা পর্যন্ত থাকে না। তারই একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন রিকশাচালক ফারুক।

ফারুকের প্রতিবেশীরা জানায়, সে আসলেই খুব অসহায় ও দরিদ্র। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে ছোট সন্তানের রেখে কাজে যেতে পারে না। তাই মেয়ে সঙ্গে নিয়ে রিকশা চালায় ফারুক।

ইউএনও মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবি নজরে আসলে মানবিক দিক বিবেচনায় আমরা রিকশাচালক ফারুকের পাশে দাড়িয়েছি। তার ছোট্ট শিশুর জন্য কিছু খাবার ও পোশাক উপহার হিসেবে আমরা তুলে দিয়েছি। আমরা তার জন্য স্থায়ীভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ার চেষ্টা করছি।