রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

জাগো বুলেটিন ID: EP-28355
নজরুল ইসলাম জুয়েল, ময়মনসিংহঃ
মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ১১ জুন ২০২৩ থেকে অবিরাম ধর্মঘট সফল করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা,  জামালপুর ও শেরপুর জেলার শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।গতকাল  শনিবার বিকাল ৩ টায় শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে ২০ মার্চ ২০২৩ এর মহাসমাবেশ থেকে ঘোষিত ১১ জুন ২০২৩ থেকে অবিরাম ধর্মঘট সফল করার লক্ষ্যে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহৎ শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র কেন্দীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, জামালপুর ও শেরপুর  জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন-এর সঞ্চালনায় এবং সভাপতি মোঃ চাঁন মিঞা- এর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি ও কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ বজলুর রহমান মিয়া, প্রধান বক্তা ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ, উদ্বোধক  কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, বিশেষ অতিথি ও কেন্দ্রীয় সিনিয়ির সহসভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম, বিশেষ অতিথি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শামছুন্নাহার বেগম, বিশেষ অতিথি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও কিশোরগঞ্জ জেলার সভাপতি আফাজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, নেত্রকোণা জেলার সভাপতি লুৎফর রহমান ফকির, সাধারণ সম্পাদক মো. আজহারুল হক তুহিন, জামালপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান ও শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি দুলাল উদ্দিন, ময়মনসিংহ জেলার সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার কবির, ত্রিশাল উপজেলার সভাপতি অভিনাথ দাম এবং গৌরীপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুল হক সহ প্রমুখ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এমপিওভ‚ক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা  মাত্র ২৫% উৎসব ভাতা, ১,০০০ (এক হাজার) টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৫০০ (পাঁচশত) টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। অথচ একই কারিকুলামের অধীন একই সিলেবাস, একই একাডেমিক সময়সূচি, একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবধিার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে পাহাড়সম বৈষম্য। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেল একধাপ নিচে প্রদান করা হয়। তাছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষকদের উ”চতর স্কেল প্রদান না কারার ফলে উ”চতর স্কেলপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও সহকারি প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল সমান হওয়ায় সহকারি প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাবার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক শিক্ষক/কর্মচারী টাকা পাওয়ার পূর্বেই অর্থাভাবে বিনা চিকৎসায় মৃত্যুবরণ করছেন। তাছাড়া কয়েক বছর যাবৎ কোন প্রকার সুবিধা না দিয়েই অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তন করা হচ্ছে যা অত্যান্ত অমানুবিক। তাই অতিরিক্ত ৪% কর্তণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলসহ অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু অদ্যাবধি কোন প্রতিকার পাননি।
মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ দাবিতে-বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র ব্যানারে দীর্ঘদিন যাবৎ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের নিকট দাবিনামা উপস্থাপনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগীয় সমাবেশ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, প্রতীকী অনশন, অবস্থান ধর্মঘটসহ, কর্মবিরতি পালন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একাধিকবার মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। স্বপ্নের পদ্মা সেতু তৈরি, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মাতার বাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে কোটি কোটি বই বিতরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, মেট্রোরেল নির্মাণ, কমিউনিটি ক্লিনিক  ’স্পাপনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে, শিক্ষা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের উন্নয়ন সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দেয়ায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা স্মার্ট করতে হলে দরকার স্মার্ট শিক্ষক। তাই স্মার্ট শিক্ষক পেতে শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই।
এমতাবস্থায় মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে গত ৮ মার্চ ২০২৩ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষিত কর্মসূচি ১৩ মার্চ, ২০২৩ সারাদেশে জেলা সদরে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক/বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ ১৪ মার্চ, ২০২৩ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনসহ ছাত্র, শিক্ষক অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এবং জাতীকরণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করা হয়