পঞ্চগড়ে প্রেস কাউন্সিল আইনের আচরনবিধি ও নীতিমালার উপর সেমিনার অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন ১৯৭৪, আচরনবিধি এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা সম্পর্কিত সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯ আগষ্ট শনিবার পঞ্চগড় সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে দিনব্যাপী সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেমিনার ও মতবিনিময় সভার উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক নাসিম।
সেমিনার ও মতবিনিময় সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন পঞ্চগড়ের তথ্য অফিসার হায়দার আলী।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) রিয়াজ উদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রেস কাউন্সিল আইন ১৯৭৪ ও আচরনবিধির উপর মুখ্য আলোচক ও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক নাসিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেস কাউন্সিল গঠন করেছিলেন। যা অন্যান্য দেশে হয়নি। তারা দেশ স্বাধীনের পরে গঠন করেছিলেন। বাংলাদেশ এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য তিনি কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি সব সময় সাংবাদিকদের বুদ্ধি ও পরামর্শ নিয়ে কাজ করেছেন। যারা সাংবাদিকদের নামে মামলা আর হয়রানি করে তাদের কে তিরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আর কার্যকর করার জানি সরকারের পদক্ষেপ নিতে হবে। সাদের যা যা দরকার সে সব জিনিস সাংবাদিকদের নীতিমালায় রয়েছে । সাংবাদিকদের নীতিমালা সম্পর্কে জানতে হবে, এজন্য নীতিমালার যে বইটি রয়েছে তা পড়তে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছ থেকে সব পত্রিকার মালিক পক্ষ বিভিন্ন ভাবে সুযোগ সুবিধা পান। তারা যদি নে নব থেকে তাদের সাংবাদিকদের সুযোগ সুবিধা দেন তাহলে সাংবাদিকরা অনেক উপকার পাবে। সাংবাদিকদের সর্ব নিম্ন যোগ্যতা হবে স্নাতক পাশ। তবে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে যারা যারা সাংবাদিকতা করতেছেন তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। সাংবাদিকদের বেতন ভাতার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সাংবাদিকদের তথ্য চেয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছ চিঠি দেয়া হয়েছে। তালিকা পেলে সাংবাদিকদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে সরকার ও মালিক পক্ষের সাথে কথা বলবো। জেলা তথ্য কর্মকর্তাকে সাংবাদিকদের দ্রুত তালিকা পাঠানোর জন্য বলেন।
সাংবাদিকতার নীতিমালার আলোচনা করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (অতিরিক্ত সচিব) শ্যামল চন্দ্র কর্মকার।
তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিল শুধু সাংবাদিকদের নাসে মামলার বিষয় নিয়েই কাজ করেনা। সাংবাদিকদের সুযোগ সুবিধা ও সাংবাদিকদের অধিকার আদায়েও কাজ করে। তিনি আরও সেসব সাংবাদিকরা তাদের যে সব প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তাদের কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠানে তাদের নামের তালিকা থাকেনা, এক্ষেত্রে তাদের কে উপেক্ষা করা হয়। সারা পেশাগত সাংবাদিককা করে তাদের সাথে হলুদ সাংবাদিকদের মিলিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, অনেক মিডিয়ার মালিক রয়েছেন যারা দেশের শিল্পপতি। তাদের অনিয়ম আর সুযোগ সুবিধা হাসিল করার জন্য একটি মিডিয়া তৈরি করেন। কিন্তু সে মিডিয়ায় যারা কাজ করেন তাদের কে বিন্দুমাত্র সুযোগ সুবিধা না দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
তিনি বলেন, হলুদ সাংবাদিকতা বর্জন করে সাংবাদিকতা করতে হবে। আপনারা নিউজ করার সময় অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহ আর মানহানির বিষয় নিয়ে কাজ করেন। আপনারা সত্য ও সঠিক তথ্য নিয়ে রিপোর্ট করবেন। যাতে তথ্য বিকৃত না হয়।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দীন, পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এস এম সফিকুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি এনটিভি ও ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, বাংলাদেশ বেতার, দেশরুপান্তরের জেলা প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম শহীদ, যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি এস এ মাহমুদ সেলিম, করতোয়া ও আজকালের খবরের প্রতিনিধি সামস উদ্দীন চৌধুরী কালাম, এখন টিভি ও কালেরকন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি লুৎফর রহমান, নিউএজ এর জেলা প্রতিনিধি রহিম আব্দুর রহিম, জার্নাল বিডির জেলা প্রতিনিধি শাহ জালাল।