পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ছাত্রকে বলাৎকার, মাদরাসার শিক্ষক আটক
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের আলহেরা মাদরাসা থেকে ছাত্রকে বলাৎকার করার অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করেছে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ।
বুধবার ( ২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেবীগঞ্জ সদরের মুন্সিপাড়ায় অবস্থিত মাদরাসা হতে অভিযুক্ত অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমানকে আটক করা হয়।
মিজানুর রহমানের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ গোড়গ্ৰাম এলাকায়। সে লতিফুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী ছাত্রদের অভিভাবকরা জানান, আলহেরা মাদরাসায় আবাসিক ও অনাবসিক ব্যবস্থায় পাঠদান চলে।
মাদরাসার আবাসিক শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ইতি পূর্বেও শিক্ষার্থীদেরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছল । কিন্তু বিষয়টি তখন জানাজানি হয়নি। এরপর পুরনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ছাত্রদেরকে বলাৎকারের অভিযোগ পায়।
তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ মরিয়া হয়ে উঠে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে সন্ধ্যায় মাদরাসায় উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশ কে জানান যে তাদের মাদরাসা ভাংচুর করা হচ্ছে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর তাদের সামনে আসে ছাত্রদের সাথে ঘটে যাওয়া বলাৎকারের নির্যাতনের ঘটনা।
পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যৌন নির্যাতনের শিকার ছয় ছাত্রকে হেফাজতে নেয়। একই সাথে অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এবিষয়ে আলহেরা মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই প্রধান রাজিব মুঠোফোনে জানান, মিজানুর রহমান গত ৭/৮ বছর থেকে এখানে শিক্ষকতা করছেন। গতকাল এক অভিভাবক তার বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ আনলে, তাকে জরুরী মিটিংয়ের মাধ্যমে গতকালই বহিষ্কার করা হয়। এবিষয়ে পুলিশকে কেন অবগত করা হয়নি তা জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রদের সাথে কথা বলে যৌন নির্যাতনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।