পঞ্চগড়ে জমিতে বিষ দিয়ে বাদাম ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ
জমিতে স্প্রে মেশিনের সাহায্যে বিষ ছিটিয়ে বাদাম ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের খেকিডাঙ্গী এলাকায়।
প্রায় মাস খানেক পূর্বে আমজুয়ানী মৌজার ৩ একর (৬ বিঘা) জমিতে বাদাম চাষ করা হয়। চাষ করা জমির মালিক আনিসুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান।
তাদের কাছ থেকে লিজ নেন আশাদুল ইসলাম, আজিমুল হক। তারা জমির লিজ নিয়ে সেখানে বাদাম আবাদ করেন। ওই জমি নিয়ে আদালতে কয়েকটি মামলাও চলমান রয়েছে।
৬ বিঘা জমির মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে ১ বিঘা নিয়ে। সেই ১ বিঘা জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। ১ বিঘা জমি নিয়ে পঞ্চগড়ের আদালতে মামলা চললেও জমির বাদাম নষ্ট করা হয়েছে ৬ বিঘার।
আকিমুল হকের স্ত্রী মনিরা খাতুন বলেন, মামলা জমি নিয়ে কিন্তু তারা আমাদের বাদাম ক্ষেত বিষ দিয়ে নষ্ট করে দিলো। ধান বিক্রি করার টাকা দিয়ে ক্ষেতে বাদাম আবাদ করেছিলাম। বাদাম না পেলে আসরা এখন খাবো কি।
খেকিডাঙ্গী এলাকার নসিফুদ্দিনের ছেলে সাদেকুল ইসলাম জামাল হোসেন, মৃত শেখ ফরিদের স্ত্রী তহমিনা বেগম ও সাতমেরা এলাকার মশিউর রহমান (সাদেকুলের বোন জামাই) সোমবার সকালে জমিতে স্প্রে মেশিনের সাহায্যে বিষ দিয়ে বাদাম ক্ষেত নষ্ট করে দেয়।
আশরাফুল ইসলাম জানান, আমরা জমিতে বাদাম চাষ করেছি মাস খানেক আগে। সোমবার সকালে দেখতে পাই আমাদের ক্ষেতে বিষ দিয়ে বাদাম নষ্ট করে দিয়েছে।
জমির মালিক আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছ থেকে আশরাফুল হক ও আজিমুল হক লিজ জমিতে বাদাম আবাদ আবাদ করেছিল। সোমবার সকালে মশিউর রহমান , সাদেকুল ইসলাম, জামাল হোসেন ও তহমিনা খাতুন লোকজন নিয়ে এসে স্প্রে মেশিনের সাহায্যে জমিতে বিষ দিয়ে ৬ বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত নষ্ট করে দেয়। এ ক্ষেতে আর বাদাম আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমরা তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।
আজিমুল হক জানান, প্রদীপ রায় নামের এক ব্যক্তির ইন্ধনে তারা আমাদের জমিতে বিষ দিয়ে বাদাম নষ্ট করেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জামাল হোসেন বলেন, আমরা বাদাম ক্ষেতে বিষ দেইনি। তারাই বাদাম ক্ষেতে বিষ দিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
মৃত শেখ ফরিদের স্ত্রী তাহমিনা খাতুন বলেন, ৪৩৬১ ও ৪৩৫৯ নম্বর দাগে শূন্য দশমিক পঞ্চাশ একর জমি ক্রয় করে নিয়েছি।
তেতুঁলিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোক্তারুল ইসলাম মুকু জানান, এই ৬ একর জমি আমরা প্রায় ৭০ বছর থেকে দখল করে আমরা চাষাবাদ করতেছি। তিনি আরও জানান, পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট আদালত থেকে এম আর ৪৯৪/২০২৩ মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নিদের্শ দেন৷
পরে তেতুঁলিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল হাসান ১৪ জানুয়ারী সরজমিনে তদন্ত করেন এবং আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে ওই জমি আমাদের সেটা প্রমান হয়।