রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

মসিকের দুই পদে একই ব্যাক্তি : এক বছর ধরে ফাঁকা প্রধান নির্বাহী কর্মকতার পদ 

জাগো বুলেটিন ID: EP-39007
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুমনা আল মজিদ। গত এক যুগ ধরে জেলা পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ক্যান্টনমেন্ট এবং মসিকসহ নানা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করায় তিনি দীর্ঘদিন প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন।
ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় এবং দীর্ঘদিন শহরের প্রশাসনে দায়িত্বে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
জুলাই বিপ্লবের পর মসিকে দায়িত্ব পালনের সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি অর্জনকে অগ্রাধিকার দিলেও নগরবাসীর মূল সমস্যা সমাধানে তিনি উদাসীন—এমন অভিযোগ করেছেন অনেকে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে মসিকের একাধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এদিকে ময়মনসিংহ শহর বর্তমানে ডেঙ্গুর ভয়াবহ হটস্পটে পরিণত হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। নাগরিক সেবার চরম অবনতি সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। জন্মসনদ প্রদান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ, লাইটিং —সব ক্ষেত্রেই অচলাবস্থা। অভ্যন্তরে কর্মকর্তাদের হতাশা, বাইরে নাগরিকদের ভোগান্তি—এখন নিয়মিত দৃশ্য।
দক্ষতার ঘাটতি, এককেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মপরিকল্পনার অভাবে শহরজুড়ে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোথাও সুপেয় পানির সংকট, কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা। দিনের বেলায় স্ট্রিটলাইট জ্বলে, রাতে অন্ধকার; রাস্তাজুড়ে গর্তে দুর্ঘটনা বাড়ছে। সড়কে ইট-বালুর স্তূপে ব্যাহত হচ্ছে যানচলাচল। এমনকি জয়নুল আবেদিন পার্কের উন্মুক্ত স্থানও দখল করেছেন হকাররা।
নিয়মিত সিটি কর পরিশোধ করেও নাগরিকরা জন্ম-মৃত্যুসনদসহ নানাবিধ সেবার জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
নাগরিক সংগঠন সুজনের  সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, “ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের যে কার্যক্রম এটাই আলাদা আলাদা পদে থেকে কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে যাই। আর দুই পদে একই ব্যাক্তির দায়িত্ব পালন করে কার্যক্রম চালানো কখনও সম্ভব না। তাই আমরা চাই সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকতার পদটি খুব তারাতাড়ি শূন্য পদ পূরণ হোক। আর সিটি জনবল সংকট তো আছে এটার কারনে নাগরিকদের সেবা নিতে গেলে বিভিন্ন ভাবে প্রতিদিন হয়রানি শিক্ষার হতে হয়। মসিকে দক্ষ জনবল প্রয়োজন তাহলে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নাগরিক সেবা পাবে কোন রকম হয়রানি ছাড়া।
মানবাধিকার কর্মী অঞ্জন সরকার বলেন,আমরা মনে করি ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসনিক কাঠামো বর্তমানে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছর ধরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য। এর মধ্যে সুমনা আল মজিদ একই সঙ্গে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন—যা একজন কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর প্রতি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, কিন্তু আরও বড় প্রশ্ন তুলছে প্রশাসনিক কার্যকারিতা, জবাবদিহি ও নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বের বিষয়ে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়া সিটি করপোরেশন পরিচালনা কার্যত অচল হয়ে পড়ার কথা, কারণ বিনিয়োগ, প্রকল্প অনুমোদন, দাপ্তরিক নথি নিষ্পত্তি, বাজেট পরিচালনা, তদারকি ও সেবার মান নিয়ন্ত্রণ—সব কিছুই এই পদটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই পদ এক বছর ধরে শূন্য থাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ। সুমনা আল মজিদ দুই পদে দায়িত্ব পালন করছেন—এটা তাঁর ব্যক্তিগত সক্ষমতা বা নিষ্ঠার প্রশ্ন নয়; বরং এটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। কোনো আধুনিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একই ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় দুই বড় দায়িত্ব একসঙ্গে দেওয়া উচিত নয়। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, কাজের চাপ বেড়ে যায়, এবং স্বচ্ছ জবাবদিহির পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ময়মনসিংহ নগরীর পুলিশ লাইন এলাকার রফিক নামে এক বাসিন্দা বলেন, সিটি কর্পোরেশন কোন কাজ কাম বাস্তবে লক্ষ্য করা যাই না মাঝে নাম মাত্র কাজ হয় আরকি এটা আবার কর্মকর্তাদের ইচ্ছা মত হয়। সেই তো দুই দিন সিটি কর্পোরেশন ড্রেইনে ঢাকনা না থাকায় এক মহিলা সকালে পড়ে যাই কিন্তু সন্ধ্যায় সাধারণ মানুষ ওই মহিলাকে ড্রেইন থেকে উদ্ধার করে। এরকম ঘটনা নগরী বিভিন্ন স্থানে ড্রেইনে ডাকনা নাই এগুলো বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নাই।  আছে শুধু কিভাবে নিজের উন্নয়ন করবে এটা চিন্তায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংস্কৃতি ও শিক্ষার নগর ময়মনসিংহ বর্তমানে অব্যবস্থাপনার চাপে তার ঐতিহ্য হারানোর পথে। নগরবাসীর দাবি, মসিকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। একই ব্যক্তির হাতে সচিব ও প্রধান নির্বাহীর মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকায় যে ক্ষমতার কেন্দ্রিকতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করে পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে শহরকে আবার বাসযোগ্য করে তুলতে হবে।
এ বিষয়ে মসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজিদকে বক্তব্য জন্য প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেনি।