রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

কোনো কর্মকে কখনও ছোট করে দেখতে নেই : অংকন

জাগো বুলেটিন ID: EP-22029

লহামদুলিল্লাহ। বহুল প্রত্যাশিত সরকারি চাকরি পেয়ে গেছি আমি। বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিট ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)তে কম্পিউটার অপারেটর (১৩ তম গ্রেড) পদে চাকরি পেয়েছি। গত ২৪ অক্টোবর ২০২২ চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হয়। জুলাই মাসের ৬ তারিখে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় লিখিত পরীক্ষা (১ম ধাপ)। ১৫ তারিখে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়, আমি পাস করি। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয় লিখিত পরীক্ষায় পাসকৃত সর্বমোট ৪০৬জন প্রার্থীর। ২০ তারিখে ফলাফল প্রকাশ হলে ৩১জন প্রার্থীর সাথে তাতে আমিও পাস করি। ব্যবহারিক পরীক্ষায় আমার শিক্ষাজীবনে অর্জিত ব্যবহারিক জ্ঞানটা বেশি কাজে লাগে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ায় এ ধাপ উত্তরণে আমার তেমন বেগ পেতে হয় না। এরপর ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। আমি ভাইভায় বেশ বিচলিত ছিলাম। স্নাতক পাসের সার্কুলার হলেও আমার বয়স তখনও ১৫ দিন কম মাত্র ২৫ বছর। ভাইভায় সাবজেক্ট নিয়ে প্রশংসা করলেও বয়স কমের প্রসঙ্গ চলে আসে। আমি হতাশ হই। কিন্তু না, ২৪ তারিখে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ২৩জন প্রার্থীর সাথে আমিও সুপারিশ প্রাপ্ত হই। তখন যেন আমার মাঝে বাঁধভাঙা আনন্দ কাজ করে। এরচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত আর কিছুই হতে পারে না জীবনে। এরপর কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্ট হয়েছে, পুলিশ ভেরিফিকেশনও সমাপ্ত হয়েছে। শীঘ্রই চাকরিতে জয়েন করব, ইনশাআল্লাহ।

আমি একাডেমিক পড়াশোনার চেয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রতি বেশি সিরিয়াস ছিলাম। তাই প্রায় প্রতি শুক্রবার সকাল-বিকাল, মাঝে মাঝে শনিবার চাকরির পরীক্ষা দিতাম। আমি এ যাবৎ ১১২টি সরকারি চাকরিতে আবেদন করেছি, ডিএমপিতে ছিল ১০২তম আবেদন। পরীক্ষা দিয়েছি ৬৫টির বেশি, বেশ কিছু পরীক্ষাতে প্রথম ধাপ পেরুলেও পরের ধাপে পারিনি। সর্বশেষ ৫ম ভাইভাতে আমার চাকরিটা হয়ে গেল তাও আবার বাংলাদেশ পুলিশের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে। এবং আমার বংশে আমিই প্রথম সরকারি কর্মকর্তা হতে যাচ্ছি। এটা নিঃসন্দেহে গর্বের, আনন্দের তো বটেই।

কম্পিউটার অপারেটর একটা টেকনিক্যাল পোস্ট। সার্কুলারে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগসহ কম্পিউটারে দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট সনদপত্র চেয়েছিল যা ছিল আমার জন্য খুবই অনুকূলে। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কম্পিউটারে দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। সেই চেষ্টাটা আমার সবসময় চলমান। আমি বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করছি। অন্যান্য সিভিল চাকরির চেয়ে এটিতে নিজের সফলতার জায়গাটাকে বেশি প্রসারিত করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। যতদূর জেনেছি, পদোন্নতি পেয়ে বহুদূর যাওয়ার সুযোগ আছে।

আমার এ সাফল্যে প্রথমেই মহান আল্লাহ তা’লার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আমার বাবা-মা’র দোয়া কবুল হয়েছে, তাদের আশা-স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমার বড় ভাই আমাকে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছে সবচেয়ে বেশি, সহযোগিতা করেছে সবসময়। বাবা-মা, পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ তার প্রতিও আমি চিরকৃতজ্ঞ, চিরঋণী। এছাড়া পারিপার্শ্বিক সকলের প্রতি আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও ভালোবাসা। আমার জন্য সবাই প্রাণভরে দোয়া করবেন। আমি যেন আমার মেধা, দক্ষতা, পরিশ্রম ও সততা দিয়ে সামনের দিনগুলোতে ভালো কিছু করতে পারি। যে বয়সে তরুণরা চাকরির জন্য চেষ্টা করতে শুরু করে, আমি সে বয়সে চাকরি পেয়ে গেলাম। অন্যরা যে বয়সে চাকরি শুরু করবে, সে বয়সে আমি নিশ্চয়ই পদোন্নতি পেয়ে যাব। আসলেই আমি অনেক ভাগ্যবান, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

** কোনো কর্মকে কখনও ছোট করে দেখতে নেই। **
** ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ভালো ফলাফলই কেবল চাকরি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না। **
** মেধা, দক্ষতা, পরিশ্রম কখনও বৃথা যায় না। **
** নিজে যেটার যোগ্য, সেটার জন্য চেষ্টা করা শ্রেয়। **