রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
QR Code
স্ক্যান করে অনলাইনে পড়ুন
jagobulletin.com /jagobulletin22 ঢাকা, বাংলাদেশ

বইমেলার সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন প্রসঙ্গে

জাগো বুলেটিন ID: EP-39291

অমর একুশে বইমেলা কেবল একটি বই কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার অন্যতম বৃহৎ উৎসব। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে এই মেলা ঘিরে লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের মিলনমেলা গড়ে ওঠে। তবে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কারণে বিশ দিন পিছিয়ে সম্ভাব্যভাবে রমজান মাসে বইমেলা আয়োজনের যে আনুষ্ঠানিকতা চলছে, তা নিয়ে দেশের অধিকাংশ লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আপত্তি দেখা দিয়েছে।

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংযমের সময়। এই সময়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গতি ও রুটিন স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন হয়ে যায়। বেলা দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সময়টি রমজানে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও ব্যস্ত সময়। দিনের শেষে থাকে তীব্র ক্ষুধা ও ক্লান্তি, এরপর আসরের নামাজ, ইফতারের প্রস্তুতি, ইফতার গ্রহণ, মাগরিবের নামাজ, অল্প বিশ্রাম এবং সর্বশেষ তারাবির নামাজ। এমন বাস্তবতায় বইমেলায় এসে দীর্ঘ সময় ঘোরাঘুরি করা, বই দেখা বা কেনাবেচা করা— তা পাঠক কিংবা বিক্রেতা উভয়ের পক্ষেই অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

এর পাশাপাশি একটি বাস্তব দিক হলো— এই সময়ে স্কুল ও কলেজ সাধারণত বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীরা, যারা বইমেলার সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণকারী ও প্রাণশক্তি, তারা অধিকাংশই গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করবে। ফলে বইমেলার স্বাভাবিক জনসমাগম, প্রাণচাঞ্চল্য ও বিক্রির পরিবেশ তৈরি হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। যদি তাই ঘটে, তবে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে— এত সীমিত উপস্থিতি ও নিরস পরিবেশে বইমেলা আয়োজনের যৌক্তিকতা কতটুকু?

বইমেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য যদি হয় পাঠক তৈরি, বইয়ের প্রচার ও একটি উৎসবমুখর সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি করা, তবে রমজান মাসে তা বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। এতে করে প্রকাশকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, লেখকদের নতুন বই পাঠকের হাতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে এবং সামগ্রিকভাবে বইমেলার মর্যাদা ও আবেদন ক্ষুণ্ন হবে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু হলে এসব নিয়ে কোনো আশঙ্কাই থাকতো না।

এই প্রেক্ষাপটে লেখক হিসেবে আমার মতামত, অমর একুশে বইমেলার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। বাংলা একাডেমির কাছে প্রত্যাশা— তারা যেন বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শুভবুদ্ধির পরিচয় দেয়। ঈদের পর, যখন মানুষ মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে এবং সার্বিকভাবে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করবে, বিশেষ করে নির্বাচনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে— সেই সময়ে বইমেলার আয়োজন হলে তা প্রাণবন্ত, সফল ও অর্থবহ হতে পারে। যদিও সে-সময় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা থাকবে, এ বিষয়ে সঠিক প্রস্তুতিরও বিকল্প নেই।

অমর একুশে বইমেলা আমাদের জাতীয় আবেগ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তাই এর আয়োজন যেন সময়োপযোগী, অংশগ্রহণমূলক ও সর্বজনগ্রাহ্য হয়— এই প্রত্যাশাই করি।