ঢাকাশনিবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আবহাওয়া
  4. কর্পোরেট বুলেটিন
  5. কৃষি সংবাদ
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. জেলা সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. নাগরিক সংবাদ
  14. পদ্মাসেতু
  15. পাঁচমিশালি
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ফরিদপুরে  মেয়ের সামনে মাকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
অক্টোবর ২১, ২০২২ ৪:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নূপুর আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূ পরকীয়ার কারণে স্বামীর হাতে খুন হয়েছে বলে জানা যায়।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেরগাতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, নুপুরের স্বামী মুসা মোল্যা (৩৫) ওই গ্রামের কাওসার মোল্যার ছেলে। তিনি ব্রিটিশ ট্যোবাকো সিগারেট কোম্পানিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন।

নূপুর নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার নুর নবী খানের মেয়ে। নূপুরের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নানা বাড়িতে মাকে তারা বসবাস করছিলেন। নূপুর-মুসা দম্পতির ফারিয়া (১৩) নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ফারিয়া বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। 

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নূপুর আক্তার যখন বোয়ালমারী উপজেলা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। তখন মুসা মোল্যার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নূপুর গর্ভবতী হয়ে পড়ায় এলাকাবাসীর চাপে উভয় পরিবার তাদের বিয়ে দেন। অল্প বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই নূপুর তার মায়ের সাথে নানা বাড়ি মধ্যেরগাতি গ্রামে থাকতেন। প্রায় এক বছর থেকে নূপুর পৌরসভার মধ্যেরগাতী গ্রামের রিজাউল মোল্যার ছেলে নাঈম মোল্যা ওরফে লাদেনের (২২) সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। নাঈম বোয়ালমারীতে একটি মুদিদোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। গত এক বছরে নূপুর আক্তার তিনবার নাঈমের সাথে চলে গিয়ে আবার ফিরে আসে। এক পর্যায়ে প্রেমিক নাঈমের সাথেও নুপুরের বিয়েও হয় বলে জানা যায়। গত ৭ অক্টোবর এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় আগামী তিন মাস নূপুর আক্তার নিজ বাড়িতে থাকবেন, মুসা কিংবা নাঈম কারো সাথেই যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। তিন মাস পর নূপুর তার সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি (নূপুর) কার সাথে সংসার করবেন। সে মোতাবেক সালিশদাররা তার হাতে তুলে দিবেন। কিন্ত প্রেমিক নাঈম গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নানা বাড়ি মায়ের সাথে দেখা করতে এসেছে; মেয়ে ফারিয়ার এমন ফোন পেয়ে মুসা নূপুরের নানা বাড়ি যান। এ সময় নাঈম পালিয়ে গেলেও উত্তেজিত মুসা হাতে থাকা ধারালো ছোড়া দিয়ে নূপুরকে মেয়ের সামনেই এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। পরে নূপুরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে নূপুরের অবস্থার আরো অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে ভোররাতে সে মারা যায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী মুসা ও প্রেমিক নাঈম উভয়েই পলাতক রয়েছেন। 

লাশ উদ্ধারকারী ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রহমান জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরের কয়েকটি জায়গায় জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দুইজনকে তার স্বামী হিসেবে নাম পেয়েছি। গ্রাম্য পর্যায়ে শালিরদারদের সিদ্ধান্তের আগেই দ্বিতীয় স্বামী দেখা করতে এলে প্রথম স্বামীর কোপের আঘাতে গৃহবধূ নূপুর মারা গেছে। থানায় কোন পক্ষই এখনো অভিযোগ দেয়নি। এ ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি জাগো বুলেটিনকে জানাতে ই-মেইল করুন- jagobulletinbd@gmail.com