আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম হিট গান ‘ময়না’র ইতিকথা
সময়কাল ১৯৮৭, তখন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমি, গান লিখার জন্য উন্মাদ এক তরুণ প্রাণ, সত্যি বলতে কি বাচ্চু ভাইকে তখন চিনতাম সোলসের গীটারিষ্ট হিসেবে, শুনতাম তিনি স্টেইজে মাঝে মাঝে ইংলিশ গান করেন।
আমি চিনতাম তপন চৌধুরীকে, প্রিয় তপন দাকে, সাহস করে একদিন কিছু গান দিয়ে গেলাম, ময়না সহ।
তপন দা বললেন মিলন, আমিতো সুর করিনা, চমৎকার সুর করে আইয়ুব বাচ্চু, ও সুর করবে, তারপর চলে যাই বাকৃবি, ময়মনসিংহে।
এই ঘটনার প্রায় ৬/৭ মাস পর আমার চাঁদপুরের বড় ভাই বাচ্চু ভাইয়ের বন্ধু মহসিন খানের কাছে জানলাম, বাচ্চু ভাই আমার লেখা ময়না গানটি তার কণ্ঠে রেকর্ড করেছেন এবং এই ময়না গান সুপার হিট হয়েছে।
স্টেইজে বাচ্চু ভাই কনটিনিউ গাচ্ছেন এবং ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন, তখনতো মোবাইলের যুগ না, সুতরাং আমাকে আরো অনেকদিন অপেক্ষা করতে হলো, বাচ্চু ভাইয়ের সাথে সরাসরি কথা বলার জন্য।
প্রথম দেখা সারগামে, হাত মিলিয়ে বুকে টেনে নিলেন, আহারে কি উচ্ছ্বাস ভালোলাগা, কি যে উন্মাদনা, গুছিয়ে লিখতে পারবোনা, ময়না গানটা বাচ্চু ভাইয়ের এতো ভালো লাগলো যে এলবামের নাম রাখলেন ‘ময়না’, দুইবার গানটা থাকলো এলবামে একবার কন্ঠে আরেকবার যন্ত্র বেহালায়।
ময়না রিলিজ হলো। বাকীটুকু ইতিহাস, কতো গল্প কতো আড্ডা, কতো শতো স্মৃতি, এতো কি বলা যায়, না লিখা যায়, তারপর বাচ্চু ভাইয়ের সুরে ১৯৮৮ বের হলো, তপন চৌধুরীর কন্ঠে ডাইরির পাতা, পাথর কালো রাত তারার বাগান শুন্য।
বাচ্চু ভাই চির ঋণী করে গেলেন আমাকে তার সুর দিয়ে, তার মুগ্ধতাপূর্ণ ব্যবহার দিয়ে, তার বিনয় দিয়ে, তার উদারতা দিয়ে। এমন মানুষ আর হয়না, এমন গান পাগল মানুষ আর হয় না। আমরা তো সবাই একদিন আকাশে উড়াল দিবোই, কিন্তু এতো আগে বাচ্চু ভাই!
ভালো থাকুন স্বর্গের বাগানে হে লিজেন্ড, ভালো থাকুন চির নিদ্রায়…
লেখকঃ গীতিকার