তরমুজের মৌসুম ছাড়া মাচায় তরমুজ চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের পংমসূয়া গ্রােেমর কৃষক হাদিউল ইসলাম।
কটিয়াদী উপজেলায় এই প্রথম সুগার কিং হাইব্রিড জাতের তরমুজ চাষে হাদিউলের সফলতা দেখে তরমুজ চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন অনেকে। বর্ষাকালে এই তরমুজের চাষ সম্পর্কে কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৫০ শতক জমিতে সুগার কিং হাইব্রিড জাতের তরমুজ চাষ করেন তিনি।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হাদিউল ইসলামের জমিকে প্রদর্শনী জমি হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
কৃষক হাদিউল ইসলাম জানান, আমার নিজস্ব কোন জমি নেই। আমি জমি লিজ নিয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ৫০ শতক জমিতে তরমুজের চারা রূপন করি। এখন প্রতিটি গাছে তিন থেকে চারটি করে তরমুজ ধরেছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন তিন থেকে চার কেজির ওপরে।
স্থানীয় বাজারে ১ হাজার তরমুজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার কেজি তরমুজ বিক্রি হয়েছে। আরও প্রায় ৩ হাজার তরমুজ তাঁর জমির মাচায় ঝুলছে। বাজারে দাম ঠিক থাকলে পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ টাকার ওপরে তরমুজ বিক্রির আশা তার।
উপজেলা মসূয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শংকর কুমার সরকার জানান, হাদিউল ইসলাম এক জন সৌখিন কৃষক। তার নিজস্ব জমি না থাকলেও অন্যদের জমি লিজ নিয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক বিভিন্ন মৌসুমে শাক-সবজি চাষ করে থাকে ।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি অফিসার মুখছেদুল হক জানান, অসময়ে তরমুজ চাষে কটিয়াদীর সফল কৃষি উদ্যোক্তা হাদিউল ইসলাম। তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে একদিনে ১ হাজার তরমুজ বাজারজাত করেন। তিনি সর্বমোট তিন হাজার তরমুজ প্রায় ছয় লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
