ফুটবলের প্রতি বাঙালীর যে ভালবাসা, তা আজ নতুন কিছু নয়। এই প্রেম পুরনো এবং চিরচেনা। এর পরও ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হলে অপার বিস্ময় নিয়ে চারপাশে তাকাতে হয়। বিপুল বিশাল আসরে বাংলাদেশ নেই! তাতে কী? অন্য যে দেশের খেলা ভাললাগে, সে দেশের সমর্থনে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছে বাঙালী। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ কাতারে গিয়ে নিজ নিজ দলের পক্ষে মাঠে নামার কোন সুযোগ নেই। তবে বাকি সবই যেন করে দেখাতে প্রস্তুত সমর্থকগোষ্ঠী। পছন্দের দলের পতাকা ওড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরুটা হয়েছে । এখনও সারা দেশের প্রতি প্রান্তে উড়ছে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার পতাকা। পর্তুগাল জার্মানীসহ অন্য অনেক দেশের পতাকাও চোখে পড়ছে। খেলা শুরুর পুর্বেই কোথাও কোথাও হচ্ছে মোটর সাইকেল শোডাউন আবার জেতার পর বের করা হয় আনন্দ মিছিল। সাথে বহন করা হচ্ছে দীর্ঘ পতাকা। ব্যক্তিগত গাড়িতে, গণপরিবহনে উড়ছে পতাকা। পতাকার রঙে সাজানো হয়েছে বাড়িঘরও।
সেদিকে থেকে পিছিয়ে নেই পার্বত্য অঞ্চল রাংগামাটি জেলার লংগদু উপজেলাও।
আগামী (২০ নভেম্বর) কাতারে বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২২তম আসর। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে কিশোর এবং যুবকদের মধ্যে সমর্থকগোষ্ঠী তৈরির কাজ। প্রিয় দলের পতাকা তৈরী এবং আকাশে উড়িয়ে দেওয়ার ধুমও শুরু হয়েছে অত্র উপজেলায়। এ উন্মাদনা শুধু লংগদু কিংবা মাইনীমুখ সদেরই নয়,ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপজেলায়।
ভক্তদের আগ্রহের কথা চিন্তা এরইমধ্যে লংগদু উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করতেও দেখা যাচ্ছে হকারদের।
পতাকা কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে বিক্রেতা মোজাম্মেল বলেন, এখন শেষের সময়ে বেচাকেনা হচ্ছে জমজমাট। কোন দলের পতাকা বেশি বিক্রি জানতে চাইলে তিনি বলেন,আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের পতাকাই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
তবে সরজমিন ঘুরে অনুমান করা হয় লংগদু উপজেলায় ব্রাজিল আর্জেন্টিনার সমর্থক প্রায় সমপরিমাণ।
গ্রামে গঞ্জে চলছে চায়ের কাপে নানান ধরনের কথার তর্ক,
সকলেই নিজের দলকে সেরা প্রমাণে দিচ্ছে অনেক উদাহরণ এবং দেখাচ্ছে নানান ধরনের ইতিহাস।
তবে কোথাও কোথাও কট্টরপন্থী সমর্থকদের কথাও জানান খেলা প্রেমী সমর্থকরা,তারা জানান অব্যান্তর কথার প্রতিবাদ করলে অনেক সময় হতে পারে হাতাহাতি কিংবা সম্পর্ক বিচ্ছেদের মত ঘটনাও।
তবে লংগদু ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু খেলাটিকে আনন্দের একটি অপশন হিসেবেই দেখছেন, তবে এ নিয়ে উভয় দলের সমর্থকদের প্রতি আহবান খেলা নিয়ে যেনো নিজেদের মধ্যে কোনো প্রকার বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল উদ্দিন বলেন,সবাই মনোরম এবং সুন্দর পরিবেশে খেলা দেখুক এটাই প্রত্যাশা, তবে আমারাও সজাগ দৃষ্টি রাখবো যাতে কোনো প্রকার অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে এবিষয়ে সকলের সহোযোগিতা কামনা করছি। তবে যদি কোন অপ্রত্যাশিত মদ, জুয়া, কিংবা তর্কের সীমানা অতিক্রম করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে তবে সাথে সাথেই আইন আনুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।
