নীলফামারীর ডোমারে স্ত্রীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জবা ইসলাম (৩০) নামে এক জুতা ব্যবসায়ী ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সকালে ডোমার রেলষ্টেশনে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে ঝাপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।জবা ইসলাম ডিমলা উপজেলার পাথরখুড়া গ্রামের মো. মোকছেদ আলীর ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সে ডোমার ষ্টেশন সংলগ্ন তার মামা সেপু ইসলামের বাড়িতে থাকতো। সে ডোমার বাজার রেলগেট মোড়ে ভ্যানে করে জুতা স্যান্ডেল বিক্রি করতো।
নিহত জবার ভাবী নিলিফা আক্তার জানান, চিলাহাটির বউ বাজার এলাকার মনিরা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী তাকে অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকে। এক সময় তার কাছে ৪ শতক জমি কেনার টাকা ও এনজিও থেকে তোলা ঋনের টাকা নিয়ে তার স্ত্রী ডোমার থেকে চিলাহাটিতে তার বাবার বাড়ী চলে যায়। সেখানেও সে তার স্বামী জবাকে নানাভাবে নির্যাতন করতে থাকে। স্ত্রীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে খুলনা থেকে চিলাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ষ্টেশনে থামার আগ মুহুর্ত্তে সে ট্রেনের নিচে ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। এ সময় দেহ থেকে তার মাথা দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়।
জবার বড়ভাই রবিউল ইসলাম জানান, স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ দেওয়ার পরও জবার স্ত্রী তার সন্তানকে নিয়ে শেষবারের মত স্বামীকে দেখতে আসেনি। আমার ভাইয়ের উপর নির্যাতনের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে নিহত জবার স্ত্রী মনিরা বেগমের মন্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সফিউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি নিহতের বাবার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
