২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

গীতিকার ও নবাগতা লেখিকা সুরভী আক্তার মালার জন্মদিন

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

আজ তরুণ কবি, গীতিকার এবং নবাগতা লেখিকা ও নির্মাতা সুরভী আক্তার মালার জন্মদিন। লেখালেখি, নাটক পরিচালনা এবং গানে যার সমান বিচরণ। এই বিশেষ দিনটিতে তার সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার মিডিয়া জীবনের যাত্রা, ব্যক্তিজীবনের অজানা গল্প, প্রেম ও আগামীর ভাবনার কথা।

মিডিয়ায় যাত্রার শুরু যেভাবে
নরসিংদীর মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা সুরভীর ছোটবেলা থেকেই ছিল লেখালেখির অভ্যাস। পত্রিকার পাতায় তার কবিতা ছাপা হতো নিয়মিত। তবে যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততায় এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেই বেশি সরব তিনি। ফেসবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে তার লেখার প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেই ডাক আসে মূলধারার মিডিয়ায়।

এটিএন বাংলার দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক ‘স্মৃতির আল্পনা আঁকি’-তে সহকারী পরিচালক হিসেবে তার পেশাদার যাত্রা শুরু। এরপর পরপরই নাম লেখান গীতিকার হিসেবে। তার লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু, সালমা, আবিদা সুলতানা এবং বাউল শফি মণ্ডলের মতো দেশবরেণ্য শিল্পীরা।

প্রেম, বিয়ে ও ব্যক্তিজীবন
ব্যক্তিজীবনে প্রেম বা বিয়ে নিয়ে খুব সোজাসাপ্টা উত্তর সুরভীর। বিয়ে বা সংসার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, “বিশ্বাসের জায়গাটা নষ্ট হয়ে গেছে। একটা সময় কাউকে অনেক বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে সেই বিশ্বাস ভয়ংকরভাবে ভেঙে যায়। এরপর থেকে পরিবার এবং নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত আছি।”

তবে প্রেমে তিনি পড়েন, কিন্তু মানুষ কিংবা পুরুষের প্রেমে নয়। এ প্রসঙ্গে হেসে বলেন, “আমি প্রতিদিন প্রেমে পড়ি—কখনো ফুলের, কখনো পাখির, শিশুর বা গানের। সুন্দর কোনো ভাষা বা ছন্দের প্রেমে পড়ি রোজ, তবে পুরুষের প্রেমে আর পড়ি না।”

বর্তমান ব্যস্ততা ও জীবনদর্শন
বর্তমানে ঢাকার একটি চীনা কোম্পানিতে কর্মরত আছেন সুরভী। অফিস আর বাসা—এর মাঝেই কাটে তার দৈনন্দিন জীবন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে চলে লেখালেখি। নিজেকে তিনি দাবি করেন প্রচণ্ড মিশুক, হাসিখুশি এবং খোলামনের মানুষ হিসেবে। তার মতে, “জীবন তো একটাই, কদিনই বা বাঁচব! তাই হিংসা, নিন্দা এবং নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।”

আগামীর স্বপ্ন ও আক্ষেপ
একসময় অভিনয়ে আগ্রহ থাকলেও এখন নিজেকে নির্মাণ এবং লেখালেখিতেই ব্যস্ত রাখতে চান। স্বপ্ন দেখেন ভালো মানের ডিরেক্টর হওয়ার। সাংবাদিকতা নিয়েও পড়াশোনার আগ্রহ রয়েছে তার। কবি নির্মলেন্দু গুণের ভক্ত সুরভী নিজেকে গুণী এই কবির পছন্দের তালিকায় দেখতে পেয়ে গর্বিত বোধ করেন।

জীবনে কোনো আক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পৃথিবীতে বেঁচে আছি, সুস্থ আছি, হাজারো মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি—এটাই অনেক। তবে দাদু আর বাবাকে খুব দ্রুত হারিয়েছি, এই শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়।”

জন্মদিন নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বাস নেই এই লেখিকার। বললেন, “বড় হয়ে গেছি, এখন জন্মদিন নিয়ে মাতামাতি করতে লজ্জা লাগে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া এবং বাবা-মায়ের কাছে কৃতজ্ঞতা—এটুকুই।”

বহুগুণের অধিকারী সুরভী আক্তার মালার জন্মদিনে আমাদের পক্ষ থেকেও রইল অনেক অনেক দোয়া, ভালোবাসা ও শুভকামনা। তার কলম ও সৃষ্টিশীলতায় সমৃদ্ধ হোক আমাদের সংস্কৃতি।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

গীতিকার ও নবাগতা লেখিকা সুরভী আক্তার মালার জন্মদিন

লিংক কপি হয়েছে!