নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বোরো ধানের ফলন বাড়ানোসহ একযোগে কর্তন করার লক্ষ্যে সমলয় চাষাবাদের জন্য ট্রে পদ্ধতি বীজতলা তৈরি করছে কৃষকরা। ভালো মানের চারা উৎপাদনের জন্য উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই প্রথম ট্রে-তে বীজ বপন করছেন তারা।
বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার আবহাওয়া অধিদপ্তর সংলগ্ন (আমিন পাড়া) এলাকায় দেখা গেছে এ বীজতলা তৈরির নতুন এক ভিন্ন চিত্র। এসময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছিলেন।
জানা যায়, মানুষ বাড়লেও, বাড়ছে না কৃষি জমি। তাই স্বল্প জমিতে অধিক ধান উৎপাদন করে মানুষের খাদ্য চাহিদা পুরণ করতে হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনায় ডিমলা উপজেলায় প্রথমবারের মতো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমলয় পদ্ধিতে বোরো ধান চাষাবাদের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারি কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রমের আওতায় কৃষকরা নতুন মাত্রায় ট্রে-তে বীজতলা তৈরি শুরু করছেন। তারা মেশিন দিয়ে মাটিভর্তি ট্রে-তে বপন করছে হাইব্রিড জাতের ধানবীজ।
আমিন পাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানায়, বোরো ধান চাষাবাদে আগে কখনো ট্রে-তে ধানচারা উৎপাদন করা হয়নি। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় এই প্রথম ট্রে-তে বীজ বপন করা হচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়তো ভালো চারা ও অধিক ফলন নেয়া যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, বোরো ধান সমলয় চাষাবাদের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে সাড়ে চার হাজার ট্রে-তে বীজতলা তৈরির লক্ষামাত্রা নেয়া হয়েছে। এটি অর্জনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
সমলয় চাষাবাদ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা কৃষি অফিসার সেকেন্দার আলী জানান, ‘সমকালে ঘটিত বা একযোগে কৃষকের ফসল উৎপাদন করা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া এ কার্যক্রমে সহজে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের অধিক ফলন ঘরে তোলা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ডিমলা উপজেলায় ৫০ একর জমিতে বোরো ধানের সমলয়ে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি ভালো ফলাফল আসতে পারে।’
