পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাদীকে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ভুক্তভোগী। গতকাল ৬ ফেব্রুয়ারী সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবী করেছেন।
সংবাদ সম্মেলন করেন সুন্দরদীঘি খোড়ারপাড় এলাকায়।
১৬ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের খোড়ারপাড় গ্রামে অবৈধভাবে কৃষি জমির টপ সয়েল জমি খনন করার অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন দেবীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-গোলাম রব্বানী সরদার।
নিজের উচু জমির মাটি খনন করার অপরাধে উপজেলার সুন্দরদিঘী এলাকার চান মিয়া কে (৯৫) (২) ধারায় দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। বাবুল হোসেন ঘটনাস্থলে যাওয়ার অপরাধে তাকেও ১ মাসের কারাদণ্ড দেন। তারসাথে আরও দুই জনকে এক মাসে করে কারাদন্ড দেন। বাবুল হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধী। সে সমাজ সেবা অফিস হতে ৭শ ৫০ টাকা করে ভাতা পান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন চান মিয়ার বড় ছেলে কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন আমি ও আমার ছোট ভাই আব্দুর রাজ্জাক উক্ত জমির মালিক । উক্ত জমিটি টাকার প্রয়োজনে কয়েক বছর আগে একই এলাকার সাহেব আলীর নিকট ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বন্ধক রাখি।
সাহেব আলী জমিটি এক ফসলি হওয়ায় দুই ফসলি করার জন্য কয়েক বছর থেকে কিছু মাটি খনন করতে বলে আমারা সময় স্বল্পতার কারণে উক্ত কাজটি করে দিতে না পারলে জমি পার্শ্ববর্তী পুকুর খনন করার জন্য খনন করা মেশিন আসলে সেই সুযোগে সাহেব আলীকে বলে জমির উপরে অংশ কিছু কাটতে থাকেন।
এমন সময় কে বা কারা দেবীগঞ্জ ভুমি কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সর্দারকে জানালে তিনি এসে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
আদালত পরিচালনা করার সময় চান মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।
পরে দেবীগঞ্জ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-গোলাম রব্বানী সর্দার পুলিশের মাধ্যমে আলহাজ্ব মোঃ চান মিয়া , প্রতিবন্ধী বাবুল হোসেনসহ আরো দুই জনকে নিয়ে আসেন। সেই জমির সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই এবং কাগজপত্র নেই।
আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে বিভিন্ন মানুষের কাছে গিয়ে টাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা কাছে গিয়ে ২ লক্ষ টাকা জমা দিয়ে আমার বাবা কে নিয়ে আসি।আমরা এলাকাবাসি সহ এর তীব্র নিন্দা জানাই ও এর সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার চাই।
দেবীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট- গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, “ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ২০১৩ এর ৫(১) ধারায় অপরাধ এবং ১৫ ধারায় শাস্তি অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ এক্সকাভেটর দিয়ে কৃষি জমির মাটি কর্তন করে ইট ভাটায় বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধীরা অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
