২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটকে বিশ্ব মাতৃভাষা শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় করা হোক

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশের রয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটনপণ্য। অমর ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্বীকৃতি দিয়ে দেশে জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি যদি জাতিসংঘের অর্থায়নে ও তত্ত্ববধানে বিশ্ব মাতৃভাষা শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় রূপে উন্নীত করে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক পর্যায়ে
৩য় শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদরকে ইংরেজী ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি পছন্দনীয় যে কোন আরেকটি ৩য় রাষ্ট্রীয় ভাষা (Third Language) রপ্ত করতে উদ্বুদ্ধ করা যায় তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা বর্তমান সময়ে কম্পিউটারের সুবাদে অনলাইনে ঐ সকল দেশের জনগণের সাথে তাদের ভাষায় যোগাযোগ স্থাপন করে পর্যটন সেবা দেয়া। ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করা এমনকি সে সকল দেশে বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। প্রয়োজনে ঐ সকল দেশের সাথে সরকারের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় যার যার দেশীয় মুদ্রায় পর্যটন ভ্রমন পরিচালিত হতে পারে। এতে করে সকল দেশের মধ্যে মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়ে পৃথিবীতে একটি শান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আলোচ্য শিক্ষা ও গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি, ডক্টরেট ডিগ্রী প্রবর্তন হলে পৃথিবীর সকল দেশ থেকে লোকজন আসা-যাওয়ার সুবাদে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।

সরকার আইটি (IT) সেক্টরকে অগ্রাধিকার সেক্টর হিসেবে বিবেচনা করে জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাবরেটরি বাস্তবায়ন করছে বিধায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের যে সকল ছাত্র-ছাত্রী আইটি (IT) সেক্টরের পাশাপাশি পর্যটনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে তাদেরকে সরকারি সহায়তায় বাড়তি সুযোগ ঘোষণা দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের দিক নির্দেশনা হিসেবে কম্পিউটারের সুবাদে যার যা ভাষার দক্ষতা অনুযায়ী ঐ সকল দেশে যোগাযোগ স্থাপন করে ঘনিষ্ঠদের সহায়তায় বিদেশী ভ্রমণকারীদের জন্য দেশে ভ্রমণ পরিচালক (Tour Operator) / ভ্রমণপথ সেবক (Tour Guide) এর ন্যায় পর্যটন উদ্যোক্তা (Tourism Entrepreneur) হিসেবে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। একথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, পর্যটনই একমাত্র চিমনিবিহীন শিল্প- যেখানে সমগ্র জাতির উদ্যোক্তা (Entrepreneur) হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ রয়েছে।

ধরা যাক বিশ্বে ২০০টি দেশ রয়েছে। দিবসটি বিশ্বের কাছে আরও তাৎপর্যমন্ডিত করতে সকল রাষ্ট্রকে আমন্ত্রন জানিয়ে প্রতিনিধিবৃন্দের অংশগ্রহণে অমর একুশে ফেব্রুয়ারীর একদিন আগে ও পরের দিনসহ ধার্য্য করে দেশের পর্যটন সমৃদ্ধ স্থান বিশেষত ঢাকা, কক্সবাজার, সুন্দরবন, নরসিংদী জেলার ওয়ারী-বটেশ্বর, নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর প্রভৃতি স্থানসমূহে ‘বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস র‍্যালি”/বিশ্ব সকল মাতৃভাষার নাগরিক র‍্যালি/বিশ্ব মাতৃভাষাভাষি আন্তর্জাতিক র‍্যালি” যে কোন একটি শিরোনামে প্রবর্তন করে প্রতিপালনের আয়োজন করা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক এ ধরণের র‍্যালি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হবে পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রভাষাভাষী দেশের প্রতিনিধিবৃন্দকে সমবেত করার মাধ্যমে ঐ সকল দেশের জনগণের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়া যে, এদেশকে দেখতে ও সহস্রাব্দ প্রাচীন সভ্যতায় লালিত জাতিকে জানতে যার যার ভাষায় পর্যটন ভ্রমণ পরিচালিত করা যাবে। এরূপ কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করতে সকল সরকারের সাথে দ্বি-পক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজন দেখা দিবে। পর্যটনের মাধ্যমে সকল দেশের মধ্যে মেল বন্ধন হলে পৃথিবীতে একটি শান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

উপরোল্লিখিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব বিবেচনায় পর্যটন সেবায় ইংরেজী ভাষাভাষি জাতির
পাশাপাশি তৃতীয় যে কোন ভাষার (Third Language) জাতিকে সেবা দিতে মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জিত ইতিবাচক ফলাফল, জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম হবে বলে অনুমান করা যায়। আর এসকল সাফল্য অর্জনে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট’ মূখ্য ভূমিকা পালনকারী হবে বলে আশা করা যায়।

লেখক: মইনউদ্দীন বাবর
অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, ঢাকা।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটকে বিশ্ব মাতৃভাষা শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় করা হোক

লিংক কপি হয়েছে!