২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

পঞ্চগড়ে নিয়োগ বাণিজ্য : ফলাফল না দিয়েই পালালেন নিয়োগ কমিটি

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় বোয়ালমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনটি শূন্য পদের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে।
গত সোমবার ২৭ মার্চ জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বোয়ালমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে৷ এদিকে বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক, অফিস সহায়ক ও পরিছন্নকর্মীসহ তিনটি শূন্যে পদের নিয়োগ পরীক্ষা ফলাফল না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষের দরজা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানায় চাকুরী প্রত্যাশীরা৷
এর আগে ফলাফল প্রকাশ না করে নিয়োগ কমিটি পালিয়ে যাওয়ার সময় চাকুরী প্রত্যাশীরা তাদের কাছে ফলাফল জানতে চাইলে এক পর্যায়ে কৌশলে পালিয়ে যায় তারা৷
এদিকে কয়েকজন চাকুরী প্রত্যাশী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম স্বজনপ্রীতি করে শূন্য থাকা সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে তার আপন বোন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জেবুন বেগমকে নিয়োগ দেন।
একই অভিযোগ উঠে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আকবর আলীর বিরুদ্ধেও। আকবর আলী তিনিও তার সভাপতিত্বের প্রভাব খাটিয়ে তার আপন ভাতিজা ইমরান খানকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেন৷
পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মোটা অংকের অর্থ নিয়ে পরিছন্নকর্মী পদে নিয়োগ দেন আরজু বেগমকে৷ তবে চাকুরী প্রত্যাশীরা বলেন, টাকার বিনিময়ে ওই তিন জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে৷
অবশেষে ওই তিন জনই নিয়োগ পেলেন এবং পরিক্ষার পরে কৌশলে পালিয়ে গিয়ে সেই পরীক্ষার রেজাল্ট রাতে প্রকাশ করেন তারা ।
এবিষয়ে অভিযোগ করে অফিস সহায়ক পদে আবেদনকারী নির্মল চন্দ্র বলেন,আমরা সকালে পরীক্ষা নেয়ার কথা বলে বিকেলে পরীক্ষা নিয়েছেন৷ এতে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের লোকদের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছে। তবে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের চাকুরী হবে এটা আগেই আমরা জানতে পারি। তবে নিয়োগ কমিটি আমাদের পরীক্ষার ফলাফল না দিয়ে পালিয়ে যান৷।
একই অভিযোগ করে ফরহাদ হোসেন নামে আরেক চাকুরী প্রত্যাশী, তিনি বলেন, আমাদের পরীক্ষা হয়েছে কিন্তু ফলাফল দিয়ে স্যাররা কৌশললে পালিয়ে গেছে৷ এবং ঘুষের টাকা প্রকাশ্যর ভাগবাটোয়ারা করেছেন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা । তাদের দাবী হলো এই নিয়োগ বাতিল করে যারা মেধাবী তাদের যেন নিয়োগ দেয়া হয়৷
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আমার বোন ও অফিস সহায়ক পদে সভাপতির ভাতিজা নিয়োগ পেয়েছে৷ যেহেতু নিজস্ব লোক তাই কোন আর্থিক লেনদেন হয়নি৷ আমরা রাতে বিদ্যালয়ে ফলাফল প্রচার করেছি৷
এবিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আকবর আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি,বলেন আমি অসুস্থ মানুষ৷ বিকেলে হট্টগোল হওয়ার পর বাড়িতে চলে আসছি৷ নিয়োগ প্রকাশ হয়েছে কি না খবর নিয়ে জানাচ্ছি। এমন বলে মুঠোফোন কেটে দেন তিনি৷
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আলী জানান নিয়োগ কমিটি পালিয়ে যায়নি । এই নিয়োগ পরীক্ষা সঠিকভাবে নিয়ম মেনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে ।
ফলাফল প্রকাশের দায়িত্ব বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আমরা জনসম্মুখে বিদ্যালয় ত্যাগ করেছি।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি জাকির হোসেন জানান ফলাফল ঘোষনার দায়িত্ব হচ্ছে বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি আকবর মুহুরি এবং প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিমের। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার। আমরা পালিয়ে আসিনি জনসম্মুখে বিদ্যালয় ত্যাগ করেছি।
এবিয়য়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন,আমাকে মুঠোফোনে এক চাকুরী প্রত্যাশী অভিযোগ করেছেন,তবে আমাকে লিখিত অভিযোগ কেউ করেনি। তবে কারো যদি বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জানাতে পারে৷

ফটো কার্ড প্রিভিউ
মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩

পঞ্চগড়ে নিয়োগ বাণিজ্য : ফলাফল না দিয়েই পালালেন নিয়োগ কমিটি

লিংক কপি হয়েছে!