২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

পঞ্চগড়ে ধর্ষনের মামলায় দুই স্বাক্ষীর দুই ধরনের জবানবন্দি, রায় নিয়ে বাদী শংকিত

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ মে ২০২৩

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক ধর্ষণের মামলার দুই স্বাক্ষী মামলার প্রাথমিক তদন্তে ও পরে আদালতে বিচারকার্য চলাকালে দুই ধরনের জবানবন্দি দেয়ায় মামলার রায় নিয়ে বাদী পক্ষ এখন হতাশায়।

দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের ঢাকাইয়াপাড়া খোড়ারপাড় এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয়ে এক নারী মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় দুই স্বাক্ষী দুই ধরনের জবানবন্দি দিয়েছেন। এনিয়ে মামলার বাদী ধর্ষণের শিকার রওশনয়ারা বেগম ও তার স্বামী মিজানুর রহমান মামলার রায় নিয়ে কি হবে তা নিয়ে এখন শংকিত।

২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের ঢাকাইয়াপাড়া খোড়ারপাড় এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মামলার বাদী রওশনয়ারা খাতুন জানান, আমার স্বামী মিজানুর রহমান মৎস্যচাষী। সেদিন রাতে আমার স্বামী মাছ পাহাড়া দিতে যান। পরে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাহিরে গেলে আব্দুল হারিজ সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে। পরে আমি প্রকৃতির কাজ ছেড়ে ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়লে আব্দুল হারিজ খাটের নিচ থেকে বের হয়ে আমার মুখচিপে ধরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষন করে।

এনিয়ে দেবীগঞ্জ থানায় ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধনী ২০০৩) ৯ (১) ধারায় মামলা দায়ের করি। মামলা দায়ের করার পর তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার সরেজমিনে গেলে স্বাক্ষীরা ঘটনার সত্যতায় তাদের জবানবন্দি দেন৷

একই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে আব্দুল হারিজ কে একক আসামী করে রওশনয়ারা বেগম বাদী হয়ে ধর্ষনের মামলা করেন। মামলার তদন্ত করে দেবীগঞ্জ থানা থেকে বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে নথিপত্র প্রেরন করে৷ আদালতের বর্তমান মামলা নম্বর নারী ও শিশু ২৫ /২০১৮
আদালতে মামলার বিচারকার্য চলাকালে স্বাক্ষীদের তাদের জবানবন্দি প্রদান করার জন্য নোটিশ প্রদান করলে মামলায় বাদী ও বাদীর স্বামীসহ ৮ জন স্বাক্ষী প্রদান করে। পর্যায়ক্রমে সব স্বাক্ষীই তাদের জবানবন্দি দেন। কিন্ত মামলার ৬ নম্বর স্বাক্ষী মোজাম্মেল হক ও ৭ নম্বর স্বাক্ষী মোজাহারুল ইসলাম মামলার শুরুতে দেবীগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে ধর্ষনের সত্যতার সত্য ঘটনাটাই স্বাক্ষ্য দেন ও ১৬১ ধারায় স্বইচ্ছায় স্বাক্ষর প্রদান করেন কিন্তু পরবর্তীতে বিচারকার্য চলাকালীন সময়ে আদালতে ভিন্নভাবে জবানবন্দি প্রদান করে।

মামলার বাদীর স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, মোজাম্মেল হক ও মোজাহারুল ইসলাম মামলা দায়ের করার পর যখন মামলার তদন্ত করার জন্য এসআই আসাদুজ্জামান আসাদ এলাকায় আসেন তখন তারা সবার সামনে ঘটনার সত্য ঘটনাটাই বলেন এবং জবানবন্দিতে স্বাক্ষর প্রদান করে।

যখন আদালতে মামলার বিচারকার্য চলে তখন তারা মামলার রায়ের গতি অন্যদিকে নেয়ার জন্য আসামী আব্দুল হারিজ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা পূর্বের সত্য ঘটনাটার জবানবন্দি পরিবর্তন করে মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদান করতে গেলে মামলার বাদ রওশনয়ারা বেগম মামলার পিপি এডভোকেট আজিজারন রহমার আজুর নিকট গিয়ে তাদের দুইজনের স্বাক্ষী না নেয়ার জন্য বলেন। পিপি প্রথম তারিখে তাদের স্বাক্ষী না নিলেও পরবর্তীতে বিচারকের নিকট আসামী পক্ষের এডভোকেট অনুরোধে করে তাদের স্বাক্ষী প্রদান করে।
এতে আমরা মামলার রায় আমাদের পক্ষে আসবে কিনা তা নিয়ে শংকিত।
মিজানুর রহমান আরও বলেন, স্বাক্ষী দুইজন আসামী আব্দুল হারিজের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে জবানবন্দি পরিবর্তন করেন। এই স্বাক্ষী দুইজন এখন সব সময় আসামী আব্দুল হারিজের সাথে চলাফেরা করে।

মামলার বাদী রওশনয়ারা বলেন, স্বাক্ষী মোজাম্মেল হক ও মোজাহারুল ইসলাম প্রথমে থানায় সত্যি ঘটনাটি বললেও আসামী আব্দুল হারিজের নিকট অবৈধ সুবিধা নিয়ে আদালতে মিথ্যা স্বাক্ষী প্রদান করে। তাদের এ মিথ্যা স্বাক্ষী দেয়া নিয়ে মামলার রায় ও সুবিচার নিয়ে আমি চিন্তিত।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
শনিবার, ২০ মে ২০২৩

পঞ্চগড়ে ধর্ষনের মামলায় দুই স্বাক্ষীর দুই ধরনের জবানবন্দি, রায় নিয়ে বাদী শংকিত

লিংক কপি হয়েছে!