বিয়ের দাবিতে এক প্রেমিকা প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করতে গেলে প্রেমিকের বাড়ির লোকজনের মারধরের শিকার হয়ে আহত অবস্থায় বাড়ির পাশে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের প্রধানাবাদ ঢাকাইয়াপাড়া এলাকায়।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মাড়েয়া কমলাপুকুরী ও প্রধানাবাদ এলাকার এক জোড়া প্রেমিক প্রেমিকা। তাদের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ার সুবাসে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রশিদুল ইসলাম এক পর্যায়ে শরিফা আকতারের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার ৭ জুলাই রাতে দন্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারের গোয়েন্দাদীঘির পাড়ের মাড়েয়া কমলাপুকুরী গ্রামের মৃত সোলেমান আলীর বাড়িতে গিয়ে ছেলে রশিদুল ইসলাম অবস্থান নেয়। পরে পরিবারকে ম্যানেজ করার কথা বলে সটকে পড়ে। এরপর নিরুদ্দেশ হয় প্রেমিক রশিদুল ইসলাম।
স্থানীয় লোকজন বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত ছেলে মেয়েকে আটক করে রাখে। পরদিন শুক্রবার সকালে বিয়ের প্রস্তুতিও নেয়া হয়। মেয়ের বাড়িতে আটক হওয়া প্রেমিকের নাম রশিদুল ইসলাম। সে সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের প্রধানাবাদ এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে।
শরিফা আকতার জানান, রশিদুল ইসলামের সাথে প্রায় তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সে আরও জানায়, প্রেমের সম্পর্ক থেকে একপর্যায়ে দৈহিক সম্পর্ক জড়িয়ে পড়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে। সে আমাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াতও করতো৷
ছেলের সাথে থাকা হামিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, আমি সহ আরও কয়েকজন বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার সময় ছেলে মেয়েকে একঘরে দেখেছি। পরে তারা বিয়ে করার জন্য পঞ্চগড় যাওয়ার কথা শুনেছি।
স্থানীয় লোকজন আরও জানান, শুক্রবার ৭ জুলাই সকালে ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন ছেলে মেয়েকে বিয়ে করানোর জন্য পঞ্চগড় নোটারী পাবলিকে নিয়ে যাওয়ার সময় শরিফা আকতারকে রশিদুল ইসলাম বলেন, বিয়ে করার জন্য আমার অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করা সম্ভব না। তাই তুমি আমাদের বাসায় চলে যাও আমি পবিবারের লোকজনকে ম্যানেজ করে তারপর বিয়ে করবো।
সুন্দরদীধি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান তালুকদার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি দেখেছেন।
শরিফা আকতার জানান, ছেলের পরিবারের লোকজন আমাকে মারধর করে আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাবো না। ছেলে না আসা পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করবো।
রশিদুল ইসলামের পরিবারের লোকজন জানান, আমাদের ছেলেই তো নাই। তাকে মেনে নিবো কিভাবে। যেহেতু রশিদুল ইসলাম মেয়ের সাথে সম্পর্ক করেছে সেহেতু ছেলে আসুক তারপর আমরা মেনে নিবো।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রন্জু আহম্মেদ জানান, দন্ডপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজগড় আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে খোজখবর নেয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, থানায় ছেলে বা মেয়ের পরিবার যে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
