বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আমাদের কৃষক যেন চায়ের ন্যায় মুল্য পায়। কৃষকরা যেন কারো হাতের পুতুল না হয়। তাদের(কারখানা) কাছে চাষিরা যেন নত না হয়। যার জন্য আমাদের এই অকশন সেন্টার।
উত্তর বঙ্গের মানুষের জন্য এটি গ্রহণ যোগ্য ব্যাপার। শ্রীমঙ্গলে অকশন মার্কেট প্যাল্সে পেয়েছে ১’শ বছরে, পঞ্চগড় পেল মাত্র ২০ বছরে।
তিনি আজ শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারী অডিটোরিয়াম হল রুমে দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন।
এসময় রেলপথমন্ত্রী মো: নুরুল ইসলাম সুজন বক্তব্য দেন।
রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া উপজেলার সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক, সিপাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুন্সী আরো বলেন, চা কারখানা আছে বলেই তারা সুযোগ নেবে এটা আমরা করতে দিবো না।
আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্রের উদ্ধোধন করা হয়েছে। শনিবার ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে পঞ্চগড় সরকারী অডিটোরিয়াম চত্বরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নিলাম কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী ও রেলপথ মন্ত্রী এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে সমতলে চা চাষ করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃতে এগিয়ে থাকা পঞ্চগড় বাসী নতুন এই চা নিলাম কেন্দ্র পেয়ে আনন্দিত। তারা শ্লোগানে উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়।
শ্রীমঙ্গল নয় পঞ্চগড়ের সমতল ভূমিতেই নির্মান করা হলো অনলাইন ভিত্তিক চা নিলাম কেন্দ্র।
২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে পঞ্চগড় জেলা সদরের সরকারী অডিটোরিয়ামে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন স্মল টি গার্টেন অনার্স এন্ড টিকে ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক খোকন।
গত ২৩ বছরে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের সমতল মাটিতে চা বাগান বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে, ন্যায্যমূল্য না পাওয়াসহ স্থানীয় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ বাগান মালিকদের। এদিকে, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে পঞ্চগড়ে চালু হলো অনলাইনভিত্তিক দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র।
২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর পঞ্চগড়ে দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সরকার। অবশেষে সেই বহুল কাংখিত চা নিলাম কেন্দ্র চালু হওয়াতে আশার আলো দেখছেন উৎরাঞ্চলের সমতলের চা চাষিরা। চা নিলাম কেন্দ্র চালু হওয়ায় চাষিরা চা চাষিরা চা পাতার ন্যায্য দাম পাবেন বলে স্বপ্ন দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের যাতাকলে তারা চা পাতার ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হযেছেন বলে অভিযোগ করে বলেন।
চায়ের নিলাম কেন্দ্র ঘিরে চা শিল্পের সঙ্গে জড়িকদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করছে। গড়ে উঠেছে বেশ কযেকটি ব্রোকার হাউজ ও ওয়্যার হাউজ। ইতিমধ্যে ১০ টি ব্রোকার হাউজের মধ্যে ৫ টি ও ৮ টি ওয়্যার হাউজের মধ্যে ২ টি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনলাইন আ্যাপস তৈরি সহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পঞ্চগড় ২ আসনের সংসদ সদস্য এবং সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবি এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, সরকারে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আশরাফুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও পঞ্চগড় ১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান।
আরও স্বাগত বক্তব্য দেন জামান চা বাগানের সত্বাধীকারী ও ক্ষুদ্র চা বাগানের প্রতিনিধি এবিএম আক্তারুজ্জামান, চাই কারখানার প্রতিনিধি মরগেন টি ফ্যাক্টরীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআই পরিচালক নিয়াজ আলী চিশতী, মহানন্দা ব্রোকার হাউজ লিমিটেডের সত্বাধীকারী ও ব্রোকার হাউসের প্রতিনিধি এমন এ শাহীন, হিমালয় সতেজ টির সত্বাধিকারী ও বায়ার, বিডার প্রতিনিধি ফোরাত জাহান সাথী।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার এসে এম সিরাজুল হুদা, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল হান্নান শেখ। চা সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের এই তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালুর মধ্যে দিয়ে উত্তরাঞ্চলের চা শিল্পের আরও উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটবে দীর্ঘদিন ধরে সমতলের চা চাষিদের মধ্যে তাদের উৎপাদিত চা পাতার দাম না পাওয়ায় যে হতাশা তৈরি হয়েছিল তার নিরশন ঘটবে। পাশাপাশি চায়ের পরিবহন খরচ কমে যাবে। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। ক্ষুদ্র চা চাষিরা নিলাম কেন্দ্রে চায়ের উন্মুক্ত কেনাবেচায় চায়ের কাঁচা পাতার ন্যায্য মৃল্যও পাবেন। এতে হোটা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির আমুল পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করেছেন তারা। বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রদত্ত তথ্য সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে চট্টগ্রামে কুন্ডুদের বাগানের মধ্য দিয়ে প্রথম চায়ের চাষাবাদ শুরু হয় ১৯৮৪ সালে। কিন্তু সে সময় সফলতা না পাওয়ায় তার ১৩ বছর পর ১৯৫৪ সালে সিলেটের মালনিছড়ায় প্রথম বানিজ্যিক ভাবে চা চাষ শুরু হয়। এরপর প্রায় দেড় বছর পর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ২০০০ সালে পঞ্চগড়ে বানিজ্যক ভাবে চা চাষ শুরু হয়।
এক সময়ের পতিত অনাবাদি জমি ও অন্যান্য ফসল বাদ দিয়ে প্রান্তিক চাষিরা ঝুকে পড়ে সমতলে চা আবাদে। গত দুই দশকে এ জেলার প্রায় ১২ হাজার ৭৯ একর জমিতে গড়ে ওঠে ছোট বড় আট হাজারের বেশি চা বাগান। পঞ্চগড় জেলার ২৪ টি কারখানায় চলতি অর্থ বছর ২০২৩-২০২৪ এ ২ কোটি কেজি চা উৎপাদনের আশা করছে চা বোর্ড।
