“মাদক জাতিকে মেধাশূণ্য করে দিচ্ছে, মাদক দমনে ছাত্র-ছাত্রীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে” স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার ( ১৬ অক্টোবর) সকাল ১১.০০ ঘটিকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নড়াইল এর উদ্যোগে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ রবিউল ইসলাম । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ সাজেদা বেগম, সিভিল সার্জন, নড়াইল; তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নড়াইল; জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান; প্রফেসর খান সাহাবুদ্দিন, ভাইস প্রিন্সিপাল, ভিক্টোরিয়া কলেজ,নড়াইল এবং মোঃ মাসুদুর রহমান, প্রশিক্ষক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, নড়াইল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব এবং মাদককবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নড়াইল জেলার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
এসময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, তারেক আল মেহেদী বলেন, মাদক হলো মরণব্যাধি। কৌতুহলবশত এবং দুষ্ট বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। নেশায় পড়ে ধূমপান থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে বেশি ক্ষতিকর মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে যায়। আর এ নেশার টাকা যোগানোর জন্য তারা যেকোন খারাপ কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেনা। যার ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা করে অর্থ আদায়সহ নানাবিধ ঘটনা ঘটতে থাকে। এজন্য পরিবারের পিতা-মাতাকে খেয়াল করতে হবে তাদের সন্তান কার সঙ্গে মিশে, কখন বাড়ি ফিরে, কোথায় আড্ডা দেয়। স্কুল- কলেজের শিক্ষকদেরও খেয়াল করতে হবে যে, ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে কিনা, নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে কিনা, তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স কেমন ইত্যাদি। যখনই কোন অনিয়ম ধরা পড়ে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের অবগত করতে হবে যাতে বিপথগামীরা দ্রুত মাদকের ভয়ানক নেশা থেকে ফিরে আসতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলায় মনোনিবেশ বাড়াতে হবে। তাদের মধ্যে সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে । বিশেষ করে ডিবেটিং, কবিতা আবৃত্তি, গান, নাচ, নাটক ইত্যাদির চর্চা বাড়াতে হবে। নড়াইল হলো সংস্কৃতি এবং খেলাধুলায় সমৃদ্ধ একটি জেলা। কাজেই নড়াইলকে আমরা মাদক মুক্ত জেলা হিসেবে দেখতে চাই। জেলা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনসাধারণ একত্র হলেই এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
