বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
ই-পেপার Logo
EN
কটিয়াদী সরকা‌রি ক‌লে‌জের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ● চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত রাজু, মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া ● তরুণদের খেলাধুলা সামগ্রী উপহার দিলেন ফুলবাড়ীয়া পৌর ছাত্রদল সা. সম্পাদক রাজু ● জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী ● সংগঠিত ও দক্ষ যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ : রাষ্ট্রপতি ● পঞ্চগড়ে জাসদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ● শামা ওবায়েদের হাতকে শক্তিশালী করতে তালমায় ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা ● আট মাসে মানুষের কাছে বিএনপি অজনপ্রিয় হয়েছে: পঞ্চগড়ে সারজিস আলম ●
Logo
সাহিত্য

ময়মনসিংহে সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের হাঁটুরে কবিতার আসর

জাগো ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২৫ পিএম
কপি হয়েছে!

 

বাঙালীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতির বিলুপ্তপ্রায় হাঁটুরে কবিতাকে প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার মানসে আজ (২১ নভেম্বর) ময়মনসিংহে সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে হাঁটুরে কবিতার আসরের আয়োজন করা হয়। নগরীর জয়নুল উদ্যানের তেঁতুলতলায় সন্ধ্যা ৫:৩০ ঘটিকায় এই আসর শুরু হয়৷

একসময় গ্রামীণ জনপদে জনপ্রিয় ছিল হাঁটুরে কবিতা। আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। বলা চলে হারিয়েই গেছে। এর মাঝেও কেউ কেউ তা ধরে রেখেছেন। সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ হারিয়ে যাওয়া হাঁটুরে কবিতাকে তুলে ধরার প্রয়াসে এই আয়োজন করে।

হাঁটুরে কবিতা হলো এক প্রকারের দীর্ঘ ও সুর করে পড়া পয়ার ছন্দের কবিতা, যা হাটবাজারে, রেল স্টেশনে, বাস স্টেশনে আসর জমিয়ে, গ্রামের পথে-ঘাটে ঘুরে ঘুরে পথচলতি মানুষকে আনন্দ দিতে পরিবেশিত হতো। চলন্ত লোকাল ট্রেনের কামরায় পরিবেশিত হতো। এই কবিতা ‘ভাট কবিতা’ নামেও পরিচিত। সহজ ভাষায় সমসাময়িক ঘটনা, প্রেম, পুরাণ, ঐতিহাসিক বা লোককাহিনীর গল্প, সামাজিক বিভিন্ন বিষয়, ধর্ম, নীতিকথা ও মানুষের জীবনযাত্রার নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। এই কবিতাগুলো সুরে সুরে পড়া হয়, যা এক বিশেষ আবেদন সৃষ্টি করে। হাঁটুরে কবিতার সাথে গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমাদের রয়েছে সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি। যথাযথ সংরক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার অভাবে লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যম আজ বিলুপ্তির পথে। হাঁটুরে কবিতা তার একটি। বর্তমান প্রজন্ম জানেই না যে, হাঁটুরে কবিতা নামে লোকজ সংস্কৃতির একটি মাধ্যম রয়েছে। সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতির সকল মাধ্যমকে টিকিয়ে রাখা অতীব প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই আমরা হাঁটুরে কবিতার আসরের আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতেও লোকজ সংস্কৃতির বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন মাধ্যম আমরা এভাবেই প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবো। আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আসরে মো: নুরুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ সরকার ও মো: খোকন মিয়া মনোমুগ্ধকর বিভিন্ন বিষয়ের হাঁটুরে কবিতা পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ মাতিয়ে রাখেন। হাঁটুরে কবিতার আসরটি সন্ধ্যা ৫:৩০ ঘটিকা হতে রাত ৮:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত চলমান থাকে। উপস্থিত দর্শকবৃন্দ হাঁটুরে কবিতা শুনে খুবই উচ্চসিত হন। বিলুপ্তপ্রায় সুস্থধারার লোকজ সংস্কৃতির এই মাধ্যমটি যাতে হারিয়ে না যায় তারজন্য সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন, ব্যক্তিকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।