যাতনা
মাহাবুব রহমান
খাওয়াদাওয়া সেরে পায়চারী করতে প্রায়ই ছাদে উঠে পড়ি। জোছনায় আপ্লূত হয়ে যাই ছাদে পা রাখতে-ই। ধূসর বিষন্ন সবুজ সসহ গাছের মাথায় এক বিশাল চাঁদ, সেকি জৌলুশ তার গায়ে! মন্ত্রমুগ্ধের মতো হিতাহিত ভুলে তাকিয়ে ছিলাম। যাক পায়চারী করতে এসে ঝকমারি হয়নি তাহলে, ভেবে মন খুশী হয়ে উঠে। আমার বদঅভ্যাস মতো হাজারো কল্পনায় জরিয়ে পড়ি। বলা ভালো অর্থহীন কল্পনা যতসব।
আচ্ছা ঐ–যে চাঁদ মামা ওর কি প্রেমিকা নেই? হাওলাত আনা আলোয় কেনো তাকে এতো মানায়? বিজ্ঞান বলে এই মায়াবী চাঁদ নাকি ধিরে ধিরে আমাদের কক্ষপথ থেকে সরে যাচ্ছে তাহলে কারা ওকে তাড়িয়ে দিচ্ছে, এলিয়েন নাকি!? আচ্ছা থাক এসব কথা। অদ্ভুত প্রশ্ন গুলোর মাঝে আরেক ব্যথা অনুভব করলাম, কেমন জানি আবেগ গ্রাস করতে চাচ্ছে আমাকে। এ আমার পূর্ব পরিচিত এই আবেগ সাহিত্যের আবেগ।
মনে মনে কবিতা বাজতে শুরু করলামঃ
এই নেপথ্যে আশার আলোয় চাঁদ তুমি আলোকিত
আমার মনের-বেদন করে হাহাকার, তবুও দেখো
হাসি-হাসি মুগ্ধ অপলক’এ আমি কতোই পুলকিত!
….
হুট করে মাথায় আসে, আরেহ আমি না প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ছিলাম! এই আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি দিনে দিনে? আজ রুমি’র চাচা মোবারক হাজী বলতেছিলো “কি–ও মিশু মিয়া গতকাইল নাকি তুমি হুদাই দরজার লগে কতাকাডাকাডি করতাছিলা, ঘটনা কী?” রুমি মেয়েটা তো আচ্ছা পাঁজী! কই আমি-ত এমন কিচ্ছু করিনি। মেয়েটা কি আমারে পছন্দ করেনা?
রুমি হলো আমাদের পাশের বাড়ির মোবারক হাজীর ভাতিজি। সাত বছরের এই ছটফটে মেয়েটি যে কতো কথা জানে! যাকে কাছে পায় তাকেই কথার জালে জড়িয়ে দিয়ে চায়। কিছু দিন আগে হুট করে আমার জানালায় উঁকি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। যদিও আমি কিছু বলার আগেই পালিয়ে গেলো মেয়েটা। পরে জেনেছিলাম ও আসলে আমার রুমে প্রজাতি আছে কিনা দেখতে এসেছিলো! প্রজাপতি কি বদ্ধ ঘরে থাকে? ভেবেও কিছু বুঝতে পারলাম না। হয়তো মেয়েটা কোনো প্রজাতিকে আমার রুমে আসেপাশে ঘুরতে দেখেছিলো।
সামনে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। শ্রাবণ মাস শেষ হয়ে গেছে আর আমার মনের শ্রাবণ শুরু হয়েছে। টেবিলে মন বসতে চায় না। উদাস হয়ে বসে থাকা আর ভালো লাগছে না। পরীক্ষা প্রস্তুতি ভালোই নিয়েছি তবে নিজেকে আরো মানুষিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। কেমন জানি অহেতুক উদ্ধিগ্ন লাগে সব।
গানের গীতি পুরোনো হলেও আমার কাছে জীবন্ত। “আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”। যাতনা সয়েও সইতে পারি না। যা ছিলো ভালো ছিলো আর যা চাচ্ছি তা আরো কঠিন হয়ে ওঠছে। চলছিতো তাও পথ আটকে পরে রই।
