ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর ও কাঠালিয়া এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ১২৫, ঝালকাঠি-১। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আসনটি জাতীয় পার্টি ও বিএনপির দখলে ছিল। সেই সময় এই দুই দলের বিপক্ষে আওয়ামী লীগ একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেও আসনটি দখলে নিতে পারেনি বর্তমান ক্ষমতাসীন এই দলটি। তবে ২০০৮ সালে এসে আওয়ামী লীগের নেতা আলহাজ্ব বজলুল হক হারুনের হাত ধরে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। এরপর টানা তিনবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নিবাচিত হন তিনি (হারুন)। এরপর থেকেই দীর্ঘদিনের ভাগ্যবঞ্চিত রাজাপুর-কাঠালিয়া উপজেলার উন্নয়নের চিত্র পাল্টে যেতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবেও আসনটিকে পরিচিত করাতে সক্ষম হয় সংসদ বজলুল হক হারুন। এছাড়াও বিএনপি সরকারের আমলে সন্ত্রাসীদের দখলে থাকা রাজাপুর-কাঠালিয়া উপজেলাকে তিনি (হারুন) শান্তিপূর্ণ এলাকায় পরিনত করতে সক্ষম হয়েছেন।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ভোটাররা বলছে বিএনপির প্রার্থী অংশগ্রহণ করলে এ নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে।
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের নীতিনির্ধারকরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সে অনুযায়ী কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলে কর্মী সমর্থকরা। শেষপর্যন্ত বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে এ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর (বীরউত্তম), রফিকুল ইসলাম জামাল ও সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম আজম সৈকত। এছাড়াও জাতীয় পার্টি (জেপি),জাতীয় পার্টি (জাপা), ইসলামিক আন্দোলনেও একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
তবে আওয়ামী লীগের হয়ে এবারও আসনটি দখল নিতে দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রস্তুত হয়েছেন সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন। একই দলে মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন- সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ইসমাইল, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক উপকমিটির সহ-সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম সীমান্ত।
তবে হারুনের উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তার কাছে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। দলের সমর্থকরা বলছে, বিগত বছরে বজলুল হক হারুনের উন্নয়ন ও সাধারন ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা এবারও তাকে পৌছে দেবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে।
এদিকে সরেজমিনে জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এমপির হাত ধরে রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ‘শেখ হাসিনার দর্শন বাংলাদেশের উন্নয়ন’ ধারাকে বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে সফল হয়েছেন বিএইচ হারুন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত অগ্রযাত্রার ১৪ বছরে সারা দেশের ন্যয় রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ, নৌ-যোগাযোগ, বেকারদের কর্মসংস্থান, সাধারণ মানুষের জীবন-মানের উন্নয়নসহ গোটা সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সংসদ বজলুল হক হারুনের হস্তক্ষেপে রাজাপুর-কাঠালিয়ায় এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে।
কাঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তরুন সিকদার, আওয়ামী লীগ সাবেক জেলা পরিষদ সদস্যএস এম আমিরুল ইসলাম লিটন, শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন বলেন ‘বজলুল হক হারুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কাঠালিয়া-রাজাপুরের নাগরিক সমস্যার সমাধান করছেন। স্থানীয় জনগণ তাকে সব সময়েই কাছে পায়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এমন একজন কর্মীবান্ধব নেতাকেই আগামী সংসদ নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে পেতে চায়।’ একই কথা বলছেন রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
এদিকে লোকমুখে শোনাযাচ্ছে হারুনের বিপক্ষে এবারও মনোনয়ন চাইবে আওয়ামী লীগনেতা মনিরুজ্জামান মনির। তবে এবার মনোনয়ন চাওয়া নিয়ে বিতর্কের মুখে রয়েছেন তিনি।
সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে মনির তার সমর্থকদের দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নৌকার বিরুদ্ধে লোক দেখানো ঝাড়– মিছিলের আয়োজন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও সমালোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে আবার নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন তিনি। সেখানে এক শতাংশ সমর্থক তালিকায় হেরফের থাকায় প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল তার। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এই প্রার্থীর এবার মনোনয়ন প্রত্যাশা একেবারেই নিরর্থক ভাবছে দলের কর্মী সমর্থকরা।
আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আবুল কাশেম সীমান্ত এলাকায় সাধারন ভোটারদের কাছে অপরিচিত ব্যাক্তি হিসেবে বিবেচিত। বসন্তের কোকিলের মতো উড়ে এসে জুড়ে বসা এই প্রার্থী সম্পার্কে দলের কর্মীদের তেমন ধারনা নেই। এছাড়াও স্বামীর এলাকায় এসে আসনটি দখল করার স্বপ্ন দেখছে নারীনেত্রী ফাতিনাজ ফিরোজ। তবে দলের কর্মী-সমর্থকরা বলছে, তাকে নির্বাচনের আগে এলাকায় দেখা যায় না। তিনি কিভাবে দলের পক্ষে মনোনয়ন চায় ? এ নিয়েও নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কর্মী-সমর্থকদের মাঝে।
এদিকে সাধারন ভোটাররা বলছে , সুখে দুঃখে আমরা যাকে কাছে পাই ও যে এমপি আমাদের এলাকার উন্নয়নে কাজ করে আমরা তাকেই ভোট দিতে প্রস্তুত আছি।
ঝালকাঠি-১ আসন আওয়ামী লীগের ভরসা হারুনের উন্নয়ন || বিএনপিতে নেই সাড়াশব্দ
