২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

কুমিল্লায় শান্ত হত্যাকাণ্ড : বিচার না পাওয়ার শঙ্কা পরিবারের

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ জুলাই ২০২২

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মেহেদী হাসান শান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে চলছে রাজনৈতিক গুটিবাজী। প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার কারসাজিতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আজমল ফুয়াদ সাজিব নামে এক আমেরিকা প্রবাসী যুবকের ছুরিকাঘাতে মেহেদী হাসান শান্ত (২৫) খুন হয়। এই সময় সাজিবের এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে আরো ৪ যুবক আহত হয়েছে।

গত শনিবার বিকেলে প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলার নুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে রহস্যজনক কারণে ঘটনার একমাত্র ঘাতককেই মামলায় আসামি না করে স্বাক্ষী করা হয়েছে, আর গত ইউপি নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে ক্যান্সার আক্রান্ত এক যুবককে মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা এবং তোলপাড় চলছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪ টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের এম, আলী এন্ড এ.বারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় যুবকদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় আমেরিকা প্রবাসী আজমল সজিব উপস্থিত যুবকদেরকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এতে পাঁচ যুবক আহত হয়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মেহেদী হাসান শান্তকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শান্ত (২৫) নুরপুর গ্রামের দরিদ্র জাকির হোসেনের ছেলে।
আহতরা হলেন একই গ্রামের মো: আশরাফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, রাসেল মিয়া ও ছিকাব আলম। তারা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে এঘটনায় নিহত শান্তর বাবা বাদী হয়ে এজহার নামীয় ৭জন এবং অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জনকে আসামি করলেও রহস্যজনক কারণে মূল ঘাতক আজমল সজিবকে আসামি করেনি, এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানায়, সজিবের পরিবার খুবই প্রভাবশালী এবং অঢেল সম্পদের মালিক, তাই এলাকার অধিকাংশ লোকজন এবং রাজনৈতিক নেতারাও সজিবের পক্ষ নিয়েছে। এতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে সে আমেরিকা চলে যাওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছে। তবে অজ্ঞাতস্থানে আত্মগোপনে থাকা এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার কারণে সজিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ক্যান্সার আক্রান্ত সাদ্দাম হোসেনকে আসামি করায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সে ২ বছর ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে ১১ বার কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে আবার কেমোথেরাপি দেয়ার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

নুরপুর এলাকার জাহিদ হাসান বলেন, বিগত কয়েক মাস আগে আমি ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলাম। এর ফলে বিপক্ষ প্রার্থীরা অসন্তোষ হয়েছিল। এ হত্যাকান্ডে তারা এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মূল ঘাতককে আসামি না করে আমার ক্যান্সার আক্রান্ত ভাইকে আসামি করে দিয়েছে। এখানে কোটি টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

নিহতের মা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। তিনি আর কিছু বলতে পারেন নি।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং ওই গ্রামের বাসিন্দা আবু কাউছার অনিক বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। সজিবের ছুরিকাঘাতে শান্ত নিহত হয়েছে, আর অন্য চারজন আহত হয়েছে। কিন্তু এঘটনায় প্রভাবশালী একজন জনপ্রতিনিধির গুটিবাজিতে মূল ঘাতককে আসামি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহত শান্তর বাবা একজন দরিদ্র তাকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করছে রাজনৈতিক নেতারা। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এবিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, বাদিপক্ষ সাজিবকে আসামি করেনি। বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের কথা আমার কানে আসছে। আমরা তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা বের করবো। অপরাধের সাথে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
মঙ্গলবার, ১২ জুলাই ২০২২

কুমিল্লায় শান্ত হত্যাকাণ্ড : বিচার না পাওয়ার শঙ্কা পরিবারের

লিংক কপি হয়েছে!