পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের রুমে ঝুলন্ত ফাঁস লাগা অবস্থায় সুজন ইসলাম (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলার রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সুজন জগদল গোয়ালপাড়া গ্রামের কছিমদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয় ও পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ আগস্ট) রাতে জগদল এলাকায় একটি মসজিদের ব্যাটারী চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন সুজন ও জাহেদুল।
পরে স্থানীয়রা চেয়ারম্যানকে খবর দিয়ে তাদের দুজনকে পরিষদে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে সকালে পরিষদে বিচার বসার কথা ছিলো।
এর মাঝে রাতে পরিষদের দ্বিতীয় তলায় দুজনকে পৃথক পৃথক রুমে তাদের বাইরের দরজায় তালা দিয়ে রেখে সকলেই বাড়ি যায়।
সকাল সাড়ে ৬টায় ডিউটিরত গ্রাম পুলিশ শাহাজান তাদের জন্য খাবার আনতে যায়। পরে খাবার এনে সুজনের রুমে খাবার দিতে গিয়ে তাকে গলায় গামছা দিয়ে রুমের ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পায়।
তাৎক্ষনিক ওই গ্রামপুলিশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বারকে খবর দেয়। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যগন এসে এ বিষয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
এদিকে ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার বেলাল হোসেন বলেন চেয়ারম্যান সাহেবের ওখানে চোরের বাড়ি ইতি পুর্বে দুই/তিনটা চুরি করেছে দুইটা মোটর পাওয়া গেছে সুজনের কাছে,এবার মসজিদের ব্যাটারি চুরি করেছিল দুইজনে মিলে।
যে চোরটা মারা গেছে ফাসি লাগায় একে বলা হয়েছে যে আরেক চোর ধরা হয়েছে সে বলেছে ও তোমার সাথে ছিল ওই জন্য তাকে ধরে এনে পরিষদে রাখা হয়েছে। সকালে প্রæফ করার জন্য আনে রাখে দেই সকালে আমরা প্রæফ করবো এর মধে একট অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে গেলে।
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আল ইমরান খান বলেন এই চোর যে সুসাইট করেছে মুলত আমাদের গ্রামবাসি সবাই ধরে আমাদের দাফাদারের হেফজতে দিয়ে আমরা পরিষদে নিয়ে রাখছি। যেহেতু রাত অনেক হয়েছে এবং তিনটা পার হয়েছে। আমি চিন্তা করলাম যে কালকে সকাল বেলা আমরা পুলিশকে হাওলায় দিয়ে দিব। রাতে কে রাখবে রাত তিনটা পার হয়ে গেছে। এই চিন্তা করে দাফাদারকে দিয়ে পরিষদে নিয়ে আসছি। রাতে মেম্বার সাহেবও আসছিল পরিষদে রাখে আসার জন্য যেন কেউ মারডাং না করে। এই চিন্তা করে সেপ্টির জন্য মেম্বার সাহেব নিজে আসছিল। সকাল বেলায় শুনি সাড়ে ৬টার দিক সুজন সুইসাইট করেছে। শুনার সাথে সাথে পরিষদে এসে ইউওনো স্যারকে এবং পঞ্চগড় সদর থানাকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ এসে লাশ নিয়ে গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ সুজনের ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে। একই সময় চুরির দায়ে অভিযুক্ত জাহেদুল নামে অপর যুবককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জাহেদুল জগদল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, খবর পেয়ে সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়ানাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
