২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

পঞ্চগড়ে সরকারি ঘরের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগ গ্রামপুলিশের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ আগস্ট ২০২২

পঞ্চগড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা নেওয়ার (ঘুষ) অভিযোগ উঠেছে হরদেব চন্দ্র বর্মন নামে এক গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর ভুক্তভোগীকে সাথে নিয়ে গ্রামবাসীরা গণস্বাক্ষরে লিখিত একটি অভিযোগ উপজেলা ও জেলা প্রশাসন বরাবর দায়ের করেছে। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ঘটনাটি ঘটেছে জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে। অভিযুক্ত গ্রামপুলিশ হরদেব চন্দ্র বর্মন মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, কৃষ্ণনগর গ্রামের পাশ্বে ৬নং ধামোর ইউনিয়নের জুগিকাটা ওয়ার্ডে ৭১ এর গ্রাম উন্নয়নে সরকারি ঘর হতে যাচ্ছে। ওই ৭১ গ্রামে গরীব দুঃখী সাধারণ মানুষকে আবাসিক ঘর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৃষ্ণনগর ওয়ার্ডে রোহিতা রানী নামে এক স্বামী পরিত্যাক্ত মহিলার কাছ থেকে গ্রাম পুলিশ হরদেব চন্দ্র বর্মন গত ৬ আগস্ট (শনিবার) ৩১ হাজার টাকা নেন। একই সাথে অভিযোগ উঠে কৃষ্ণনগর ওয়ার্ডের কয়েকজন সাধারণ মানুষকে ঘরসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার। যা পরবর্তীতে আত্মসাৎ করে সাধারণ মানুষকে ঘর ও সরকারি সুযোগসুবিধা না দিয়ে হয়রানী করারও অভিযোগ উঠে হরদেব চন্দ্র বর্মনের নামে। একসময় ঘর না পেয়ে স্বামী পরিত্যাক্ত রোহিতা রানী অসহায় হয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করে। পরে গত ৮ আগস্ট (সোমবার) চেয়ারম্যানের মাধ্যমে হরদেবের উপর চাপ প্রয়োগ করলে ওই নারীকে ৩১ হাজার টাকা ফেরত দেয় অভিযুক্ত হরদেব। তবে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা মূলক কর্মকান্ড করায় এবং টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রামপুলিশ হরদেব চন্দ্রের বিচার দাবী করেন এলাকাবাসী।

অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, ঘটনার পর থেকে গ্রামপুলিশ হরদেব কৃষ্ণনগর বাজারে আড্ডা দেয়ার সময় অনৈতিক কার্যকলাপ করে থাকেন, এবং এলাকাবাসীসহ অভিযোগকারীদের হুমকি দিয়ে থাকেন। একই সাথে নারী পুরুষদের সামনে নিজের পরনের কাপড় তুলে রেখে মানুষের সামনে প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ উঠে।

স্বামী পরিত্যাক্ত রোহিতা রানী বলেন, আমাকে খবর দেয় সরকারি ঘর দেয়া হবে। এর পর আমার কাছে টাকা চায়। স্বামী না থাকায় কোন ভাবে ৩১ হাজার টাকা ম্যানেজ করে ওই গ্রামপুলিশকে দেই। কিন্তু ঘর পাওয়াতো দূরের কথা কোন খবরই পাইনি। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যেমে চেয়ারম্যানকে জানালে সে টাকা ফেরত দেয়।

সাদেকুল ইসলাম নামে আরও একজন বলেন, হরদেব চন্দ্র বর্মন সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছে। যার কোন হিসেব নেই। অভিযোগ করলে রোহিতা রানীর টাকা ফেরত দেয় সে। তবে তার এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। কোন কাজ থাকলেও তাকে আর বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করার জন্য আমরা তার বিচার দাবী করছি। একই দাবী তুলেন অভিযোগকারী অন্য সদস্যরাও।

তবে সকল অভিযোগ অশ্বিকার করেন গ্রামপুলিশ হরদেব চন্দ্র বর্মন। তিনি বলেন, যে ২৫৭জন স্বাক্ষর করে অভিযোগ করেছে তাদের অনেকের স্বাক্ষরই জাল। রোহিতা রানী আমার চাচাতো বোন। আমার ২০ শতক জমি বন্ধক চেয়েছিলো। সে হিসেবে তার সাথে কথা হয়। এবং বন্ধক হিসেবে ৫০ হাজার টাকার কথা হলে সে ৩০ হাজার টাকা আমাকে দেয়। কিন্তু স্থানীয় কিছু কুচক্র মহলের মাধ্যমে আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তার ৩১ হাজার টাকা দাবী ছিলো। তাই চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পুরো টাকা ফেরত দেই।

অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ আজাদ।

এ বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসফিকুল আলম হালিম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সোমবার তদন্তে সরেজমিনে কমিটিটি যাবে, যা আগামী তিন দিনের মধ্যে আমার কাছে প্রতিবেদন জমা দিবেন।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
সোমবার, ২৯ আগস্ট ২০২২

পঞ্চগড়ে সরকারি ঘরের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগ গ্রামপুলিশের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

লিংক কপি হয়েছে!