সাভার বিপিএটিসি কোয়ার্টার ভেতরে দেহ ব্যবসা করিয়ে আসছিলেন প্লাম্বার কবির হোসেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথম জনসম্মুখে আনে ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম এনবিটিভি। এরপর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে যমুনা প্রতিদিন।
প্রকাশিত হয়েছে ধারাবাহিকভাবে বেশকিছু প্রতিবেদন।প্রতিটি তথ্য উপাত্ত সহ প্রতিবেদন পুরো দেশে আলোচিত হয় অল্প সময়ের মধ্যে। দেওয়া হয় কবির কন্যা কল্পনা আক্তার কেয়া থেকে মামলা, হয়রানী সহ নানা ধরনের হুমকি।
সম্পাদক কে কথিত পুলিশ ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে নিউজ সরিয়ে নিতে বলা হলেও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন যমুনা প্রতিদিন সম্পাদকীয় বিভাগ তা করেনি। বরং বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকগণ পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানিয়ে হুমকিদাতাদের গ্রেফতার করতে মানববন্ধন সহ প্রতিবাদ জানায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে যমুনা প্রতিদিন।
ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম এনবিটিভি দুইটি ভিডিও রিপোর্ট সহ যমুনা প্রতিদিনের ধারাবাহিক রিপোর্টগুলো নিয়ে এবার সে বিপিএটিসি প্লাম্বার কবির হোসেন কে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে কোয়ার্টার বাসা ছাড়তে ও চাকুরী থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী রাসেল প্রধান যমুনা প্রতিদিন সহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে রিপোর্ট পড়ে স্বেচ্ছায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।
কবির কে পাঠানো সে লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, উক্ত লিগ্যাল নোটিশ হাতে পাওয়ার ৭ দিনের ভেতর বিপিএটিসি কোয়ার্টার ছাড়তে হবে যদি গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা কবির পরিবারের বিরুদ্ধে বিশটি অভিযোগের বিপরীতে তিনি শক্ত প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন।
স্ত্রী, দুই কন্যা দেহ ব্যবসা করেনি ও নিজ বড় কন্যা কল্পনা কেয়ার ভ্রুণ হত্যায় কবির জড়িত নয় এ দুটো প্রমাণে অবশ্যই সরকারী হাসপাতাল থেকে মেডিকেল রিপোর্ট নোটিশদাতা ও বিপিএটিসি এডমিন (ডিরেক্টর) এর কাছে ৭ দিনের মধ্যে প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।
সম্পদ কী পরিমাণ জমিয়েছেন, ব্যাংক হিসাব সহ পরিবারের নতুন ও পুরনো জমির মালিকানা কীভাবে পেল তা নোটিশ হাতে পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ব্যাখা নোটিশদাতা ও বিপিএটিসি এডমিন (ডিরেক্টর) এর কাছে প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।
কোয়ার্টার ছাড়তে কেন লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এ প্রসঙ্গে আইনজীবী রাসেল প্রধান বলেন, তিনি দেহ ব্যবসার মতো অসামাজিক কাজ পরিচালনা করে আসছেন সরকারী বাসায় ও ইপিজেড হোটেল বৈশাখী তে দীর্ঘদিন বলে দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার নিজ কন্যার অশ্লীল অডিও কথপোকথন ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত কথপোকথন স্ক্রিনশট প্রমাণ করে সরকারী কোয়ার্টার ভেতরে তাদের দেহ ব্যবসার অভিযোগ অসত্য নয়। কবির নিজ বড় কন্যা কল্পনা কেয়া কে নিজ শ্বাশুড়ী গুরুতর অসুস্থ বলে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে ডিভোর্স করিয়েছেন জোরপূর্বক টাকা পাওয়ার লোভে। যা নিজ শ্যালিকা শেখ রিনা’র কাবিনের টাকা চেয়ে আরেকটি অডিও রেকর্ড স্পষ্টভাবে তাদের মন মানসিকতা বুঝিয়ে দেয় যে তারা একটি অপরাধ চক্র।নোটিশ গ্রহীতাকে শ্বাশুড়ি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এ প্রসঙ্গে গত বছরের নভেম্বরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তির সকল কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যেহেতু তার নিজ কন্যা কেয়া আমাদের আরেক বিজ্ঞ আইনজীবীর কাছে ভিডিও বিবৃতিতে বলেছিলেন- দ্বিতীয় স্বামী ও তার পরিবার ভালো। সেখানে প্রমাণ হয়ে যায়, লিগ্যাল নোটিশ গ্রহীতা কবির মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন এবং ডিভোর্স কাগজে লেখা কারণটি কবিরের সাজানো নাটক।
মেয়েকে কোয়ার্টার ভেতরে জোরপূর্বক ডিভোর্স কাগজে সই নিয়ে তিনি বিবাহ আইনের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। পাশাপাশি ১৭ জুলাই, ২০২২ মেয়ের দ্বিতীয় স্বামী থেকেও কোয়ার্টার ভেতরে নিজস্ব অপরাধ চক্র কে ব্যবহার করে জোরপূর্বক ডিভোর্স পেপারে সই নিয়ে তিনি ফৌজদারি অপরাধ ঘটিয়েছেন। যেটারও ভিডিও ডকুমেন্টস রয়েছে মিডিয়ার কাছে।
নোটিশ গ্রহীতার ছোট কন্যা পিয়ার কোয়ার্টারের ভেতরে আরেকটি ভিডিও বিবৃতিতে জানা যায়, কবির স্বেচ্ছায় প্রতারণা করে দ্বিতীয় বিয়ে দেন কোয়ার্টার ভেতরে যেটাও ফৌজদারি অপরাধ, পাশাপাশি সরকারের আবাসন আইনের বিরোধী। নোটিশগ্রহীতা মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে দিতে গিয়ে ১৫ অক্টোবর, ২০২১ সালে সরকারের সমালোচনা করেছিলেন কোয়ার্টার ভেতরে তার স্বপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কবিরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি সরকারী বেতন ও আবাসন ব্যবহার করে তা করতে পারেন না।
সরকারী আবাসন আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে নোটিশ গ্রহীতা প্লাম্বার কবির চলতি বছরের ১৭ জুলাই নিজ মেয়ের দ্বিতীয় স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছেন এটা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, তিনি অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করেন সেদিন। পাশাপাশি কবির এবং তার স্ত্রী শেখ আমেনা বেগমও কোয়ার্টারের ভেতরে আবাসন আইনের নীতি অমান্য করেছেন উচ্চস্বরে কথা বলে শান্তি-শৃঙ্খলা অবনতি ঘটিয়েছেন। যেটার স্বপক্ষে সেদিনের ভিডিও প্রমাণ রয়েছে মিডিয়ার কাছে।
নোটিশ গ্রহীতা নিজ কোয়ার্টারের ভেতরে অপরাধ চক্র ব্যবহার করে মেয়ের দ্বিতীয় স্বামীর মোবাইল থেকে বিয়ের তথ্যপ্রমাণ সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করিয়ে ছিলেন। যেটার স্বপক্ষে তার নিজ স্বীকারোক্তি অডিও রেকর্ড রয়েছে মিডিয়ার কাছে। এমন ব্যক্তি কোনোভাবেই কোয়ার্টার বাসায় থাকতে পারেন না এবং তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কবির কোয়ার্টার কে ব্যবহার করে অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছেন যেটা সরকারী চাকুরির আইন কে তিনি তোয়াক্কা করেননি। এই বিজ্ঞ আইনজীবী আরও যোগ করেন, ৭ দিনের মধ্যে তিনি স্বেচ্ছায় কোয়ার্টার বাসা ছেড়ে না গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যমুনা প্রতিদিন কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাসেল প্রধান বলেন, নোটিশগ্রহীতা প্লাম্বার কবির নিজেকে পল্লী বিদুৎ সিনিয়র অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বড় ধরনের প্রতারণা করেছেন যা ফৌজদারি অপরাধ। তার এই ব্যপারেও ভিডিও বিবৃতি রয়েছে মিডিয়ার কাছে। কবির প্রতিটি ধাপে অসংখ্য ফৌজদারি অপরাধ ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অপরাধ করেছেন।
সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন অপরাধগুলো সংঘটিত করে। স্বাধীন বাংলাদেশে মিডিয়ায় কথিত সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয়ে তিনি যমুনা প্রতিদিন সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ সরিয়ে নিতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। যেটা পাঠানো লিগ্যাল নোটিশে তাকে তুলে ধরা হয়েছে। হুমকিদাতারা কোন আইনে এই কাজ করেছে তাদের পরিচয় ও এই ব্যাপারে ব্যাখা চাওয়া হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা না দিলে অবশ্যই পরবর্তী অ্যাকশন নেওয়া হবে।
এতোগুলা অপরাধ করা ব্যক্তি সরকারী চাকুরী করার যোগ্য হতে পারেন না। তার জন্য নোটিশ হাতে পাওয়া মাত্র সেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে স্থানীয় সাভার মডেল থানায় সব সকল অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণের জন্যেও বলা হয়েছে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশে।
বিজ্ঞ এই আইনজীবী আরও বলেন, একটি অপরাধী পরিবার কীভাবে দীর্ঘ বছর পার পেয়ে গেছে তা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে, স্থানীয় সাভার মডেল থানার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। যে লিগ্যাল নোটিশের সদুত্তর কবির হোসেন দিতে না পারলে মামলা দায়েরও হতে পারে আসামীদের বিরুদ্ধে বলে জানানো হয় আইনজীবী পক্ষ থেকে।
আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিশটি অভিযোগের বিপরীতে শক্ত প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হলে জনপ্রশাসন সচিব, বিপিএটিসি সচিব সহ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে নোটিশগ্রহীতা সহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা, চাকুরী থেকে বরখাস্ত সহ কোয়ার্টারের ভেতরে কবিরের সকল সহায়তাকারীদের বিষয়ে অবগত করা হবে। তিন সচিব কে অবগত করা হবে স্থানীয় সাভার মডেল থানার ওসি’র ভুমিকা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো সে বিষয়েও।
কোনো মামলা করবেন কিনা আসামীদের বিরুদ্ধে? এই প্রশ্নে আইনজীবী বলেন, লিগ্যাল নোটিশ গ্রহীতা ও তিন সচিবকে ধারাবাহিক লিগ্যাল নোটিশের কাজগুলো শেষ হলে উচ্চ আদালতের নজরেও সচিবগণ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কিনা লিগ্যাল নোটিশ পেয়ে তা অবগত করানো হবে। এরপর চূড়ান্ত আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে পরিবারটির বিরুদ্ধে।
