২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

সকালে নিয়োগে চাকুরী, বিকালে নাই!

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলা গচ্ছাবিল এলাকায় মানিকছড়ি  ইসলামী দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম মাদ্রাসার সুপার- শিক্ষক নিয়োগ কান্ড দেখে হতাশ এলাকার সচেতন মহল।

জানাযায় মানিকছড়ি ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে, যাহা-মাদ্রাসা কোড-২০৩৮৮, ইআইআইএন-১০৫৮১৫, এমপিও কোড- ১০৬৮১৫২১২২, শুরু থেকে প্রভাব আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে কখনো পিতা- আবুল কালাম(সাবেক চেয়ারম্যান) আবার কখনো পুত্র উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম অত্র মাদ্রাসার বৈধ-অবৈধ  সভাপতি থেকে জান।

যদিও রফিকুল ইসলাম এডক কমিটির সভাপতি  কিন্তু তার দাপটে সকালে চাকুরী হলেও – বিকালে নাই। এমন ঘটনা অহরহ আছে। একই মাদ্রাসায় দপায়- দপায়  সুপার নিয়োগ হয়ছে ৫-৭ জন। যাদের  বৈধ নিয়োগপত্র  নাই বলে দাবী করছে প্রতিষ্ঠাতা সুপার/সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দিন খান।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন  মোঃ রফিকুল ইসলাম মাদ্রাসাটি নিজের ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান মনে করছেন। মাদ্রাসা বোর্ডের কোন দিকনির্দেশনা মানছেন না। সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম নিজে এডক কমিটির সভাপতি  যাহা মাত্র ৬ মাসের জন্য। সভাপতি নিজেরও ভারপ্রাপ্ত সুপারের বৈধ কোন নিয়োগ পত্র নাই। যিনি নিজেই বৈধ নন অন্যকে অবৈধ বলা কতটুকু যৌক্তিক এমনটাই বলছিলেন  প্রতিষ্ঠাতা সুপার নাছির উদ্দিন খান।

কিছুদিন মাদ্রাসার সুপারের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু শাহিন ও মোঃ মামুন, জানান- আমাদেরকে নিয়োগ দিয়েছে সাধারণত একটি রেজুলেশন করে আর কোন কিছুই দেওয়া হয় নাই। আমরা কিছুদিন দায়িত্বে পালন করলেও  আমাদের বৈধ নিয়োগ চাইলে মোঃ রফিকুল ইসলাম ( বর্তমান সভাপতি)  আমার নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। আমি অপরাগতা স্বীকার করলে আমাদের বাদ দিয়ে অন্য জনের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা বিনিময় সুপার নিয়োগ দেন। সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। মাদ্রাসা থেকে যাওয়ার সময়  খালি স্টাম্পে সইস্বাক্ষর রাখেন 

শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন রেজুলুশনে করে শিক্ষক নিয়োগ হলো বর্তমান সভাপতি একটি কৈশল। বৈধ কোন নিয়োগ পত্র দেন না। যে টাকা বেশি দিতে পারে সেই অত্র মাদ্রাসায় শিক্ষগতা করতে পারবেন।

অত্র মাদ্রাসার সুপার নাছির উদ্দিন সভাপতির নিয়োগ বাণিজ্যে,ও  মনগড়া সুপার নিয়োগ, এমপিওতে শিক্ষক হালনাগাত নামে শিক্ষকদের তালিকার প্রদানের বিরোদিতা করে হাইকোর্ট একটি পিটিশন ৯৫৮৮/২০২২ মামলা করেন।

মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার আগ পর্যন্ত সভাপতি দপায়- দপায় সুপার,শিক্ষক,শিক্ষিকা, কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছেন কি ভাবে এইটা দেখার কেউ নেই। এই শিক্ষক নিয়োগে আছে নানা তুরুটি ব্রেকডেইটে  কিছু বেনামী পত্রিকায় নিয়োগ  বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে।  প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের  তারিখ মতে অনলাইন পত্রিকায় অত্র নিয়োগ বিজ্ঞাপন নাই। যাহা সম্পুর্ন বানোয়াট প্রক্রিয়ায় নিয়োগ।

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদনহিন সভাপতি  তিনি মনগড়া যোগ্যতাবিহীন সুপার ও শিক্ষক নিয়োগ করছেন। বর্তমান টেম্প্ররালি সুপার সাইফুল ইসলাম আরমানের সুপার হওয়ার শিক্ষগতা যোগ্যতা নাই বলে দাবী করছেন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা মোঃ নাছির উদ্দিন খান। তিনি আরো বলেন বর্তমান সুপার সভাপতি সাথে তাল মিলিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য অংশ নিচ্ছেন। যেহেতু তিনি  শিক্ষগতাযোগ্যতার কারনে কখনো সুপার হতে পারবেন না। তাই নিয়োগ বানিজ্যে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে নিজেই লাভবান হচ্ছেন।

সাবেক সুপার নাছির উদ্দিন, অভিযোগ করে বলেন সাহিন,মামুন, শিক্ষক আবুল কাশেমের নিয়োগ যেন এক বেলকি বাজি। সুপার নাছির উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানিকছড়ি,মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে অভিযোগপত্র, হাইকোর্টে একটি পিটিশন মামলা করেন। ভিবিন্ন অভিযোগে নাছির উদ্দিন উল্লেখ করেন সভাপতি এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী, তার সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে অভিযোগ কারী ও অত্র মানিকছড়ি দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপার/ সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দিন খানকে, মারধর,জোর করে স্টাম্পে সইসাক্ষরসহ প্রাণে মারার চেষ্টা করেন। সভাপতি রফিকের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে তার সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে প্রানে মারা চেষ্টাসহ মামলা মোকদ্ধমা জড়িয়ে দেন। 

সাবেক শিক্ষক মোঃ তাজুল ফরাজি বলে অত্র মাদ্রাসার শুরু থেকে আমার পিতার শ্রম-গাম ছিল অনেক। আমার পিতার মৃত্যুর পর আমাকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ করে দায়িত্ব দেন।  ক্যাশিয়ার হিসাবে কাজ করি। তাজুল ফরাজি, অভিযোগ করে বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মাদ্রাসার জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান দিলে সেই টাকা সভাপতি মেরে দেন। পরে হিসাবের সময় টাকা নেওয়াটা কথা অস্বীকার করেন। আমাকে দোষারফ করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন। আমার পোস্টে মোটাঅংকের টাকার বিনিময় অন্যজনকে নিয়োগ করেন।

তাজুল ফরাজি আরো বলেন মাদ্রাসার নামে গচ্ছাবিল গুচ্ছুগ্রামের সরকারী রেশন থেকে দুই কেজি চাউল কর্তন করা হয়। সেই রেশন চাউলের  টাকা কোনদিন ক্যাশে আসে না সরাসরি সভাপতি নিজেই তুলে নেন। মাদ্রাসা মার্কেটে থাকা দোকান ঘরের অগ্রিম (চেলামী) টাকা সভাপতি পকেটে। সভাপতি দোসর আবুবক্কর (শিক্ষক) মাদ্রাসার একটি দোকানঘর ব্যবহার করেন তার কোন ভাড়া দিতে হয় না। মাদ্রাসার দোকান ঘর ভাড়ার টাকাটাও সভাপতি পকেটে। এই নিয়ে চলছে মানিকছড়ি দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসার সভাপতি কখনো বাবা আবার কখনো ছেলে তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এই প্রতিষ্ঠানে যারা চাকুরী করেন তার ৫-৬ মাসের বেতন বকেয়া থাকে সব সময়। বেতন আটক  করে রাখেন সভাপতি নিজেই কারন এইভাবে চলতে থাকলে সভাপতির লাভ যেমন মোটা অংকেরটাকার বিনিময় শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে।  যোগদানের, ছয়মাস পর পর নতুন শিক্ষক আসবে বেতন দিতে হয় না। 

সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন শিক্ষক নিয়োগ আমার হাতে না,  মাদ্রাসা বোর্ড নিয়োগ দিবে। আমি প্রতিষ্ঠাতা সুপার/ সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি আদালতে একটা সিআর ৩৪২/২০২১- মামলা করি।  সে মাদ্রাসা থেকে টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসার নামে এখনো টাকা তুলে। এইসব বিষয় নিয়ে মামলা করেছি।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

সকালে নিয়োগে চাকুরী, বিকালে নাই!

লিংক কপি হয়েছে!