২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা শঙ্কায়

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০২২

 

আগামী ২ নভেম্বর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উপজেলার তিন পদে ৯জন প্রার্থী চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে অধিকাংশ প্রার্থী আশাবাদী। তবে শেষ মুর্হূতেও তারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভয়ভীতি ও শঙ্কা প্রকাশ করছেন। বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনে করছেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে তারা অনেকেই জয়ী হবেন।

জানা গেছে, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটাই চিন্তা এখন জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কি-না, আদৌ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি-না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চলছে বেশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

চরপাথরঘাটা খোয়াজনগর আজিমপাড়ার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বলেন, মানুষের মুখে ক্ষয়, মানুষের মুখে জয়। যতটুকু মানুষের সাথে কথা বলে বুঝেছি সুষ্ঠু ভোট হলে আলী চেয়ারম্যান, পাশাপাশি ভোটে ভালো ফাইটিং হবে মুরাদ ও আমিরের। মাঝখানে নীরব ভোটে এগুতে পারে হালিম। ওদিকে ফারহানার সাথে বানাজা বেগমের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ভোটারদের কাছে কর্ণফুলীর নির্বাচন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে- এমন আশ্বাস দিলেও কোনো কোনো বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাদের সমর্থক কিছুটা হতাশায় ভুগছেন। এসব বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হামলা, মামলা ও বিভিন্ন ধরনের আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান।

তবে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নিবার্চন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কাজ করছেন বলে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান জানান, ‘ভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে তৎপর প্রশাসনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কোনো প্রার্থী যেন ভোটকেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কোনো পক্ষ ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও গোলযোগ করতে চাইলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, নৌকার প্রার্থীর সর্মথকরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। বহিরাগত লোকজন নিয়ে কেন্দ্র দখলের।’ হাঁস প্রতীকের বানাজা বেগম বলেন, ‘কর্মীরা বের হলেই নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

উপজেলা নিবার্চন কর্মকর্তা আব্দুল শুক্কুরের দাবি সুষ্ঠু নিবার্চনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। কোনো রকমের ভয়ভীতির আশঙ্কা নেই। ভোটাররা ২ নভেম্বর কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন- এ পরিবেশ এখনো বজায় আছে। আশা করি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নিবার্চন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, শিকলবাহা ইউনিয়নে বর্তমান ভোট রয়েছে ৩১ হাজার ২৩১ জন, চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে ভোট রয়েছে ২২ হাজার ৮২৫, জুলধা ইউনিয়নে রয়েছে ১৩ হাজার ৪১১, বড়উঠান ইউনিয়নে ভোট রয়েছে ২৭ হাজার ৫৯৯ ও চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে ভোট রয়েছে ২১ হাজার ৫০৬ ভোট। পাঁচ ইউনিয়নে মোট ভোট রয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৭২ জন।

উল্লেখ্য, আগামী ২ নভেম্বর ইভিএম পদ্ধতিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৪৫ টি কেন্দ্রে ৩২০ টি বুথ কক্ষে ভোটাররা ভোট প্রদান করবেন।

এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা হলেন-চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফারুক চৌধুরী (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (আনারস)। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আমির আহমদ (চশমা), মো. আবদুল হালিম (তালা), মহিউদ্দিন মুরাদ (উড়োজাহাজ)। এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোমেনা আক্তার নয়ন (কলস), বানাজা বেগম (হাঁস), ফারহানা মমতাজ (ফুটবল) এবং রানু আকতার (বৈদ্যুতিক পাখা)।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০২২

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা শঙ্কায়

লিংক কপি হয়েছে!