পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে রাহাত গাজী (১৪) নামে এক কিশোরকে একা পেয়ে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (০৩ নভেম্বর) সকালে উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বাঁশতালা গাজী বাড়িতে ঘটেছে। মারধরের ঘটনায় ওই কিশোরকে চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে আহত অবস্থায় পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেশী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, পানপট্টি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বাঁশতলা গ্রামে আহত কিশোর রাহাতের পিতা মো. জালাল গাজী ও হারুন গাজীর মধ্যে জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ হারুন গাজী ও তার ছেলেরা স্থানীয় সালিশ অমান্য করে বিরোধ চালিয়ে রাখে ও বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। এসবের জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের বাড়ির উঠনে মো. হারুন গাজীর চার ছেলে মো. রুবেল গাজী (৩৫), মো. ফিরোজ গাজী (৪০), মো. রাজিব গাজী (২৫) ও মো. সজীব গাজী (২০) মিলে কিশোর রাহাত কে কিল ঘুষি শুরু করে পরে লাঠি সোটা নিয়ে পেটাতে থাকে। মারধরে রাহাতের ডান চোখে মারাত্মক আঘাত পায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নিলা ফুলা জঘম করে। পরে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
রাহাতের মা লিপি বেগম বলেন, আমার ছেলেরে একা পেয়ে বাড়ির উঠোনে ফেলে হারুন গাজীর ছেলেরা ৪/৫ জন মিলে মারধর করছে। আমার স্বামীর সঙ্গে তাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ এর কারণে ছেলেরে একা পেয়ে আজ সকালে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জুবায়ের খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জালাল গাজী ও হারুন গাজী তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একাধিকবার সালিশ বৈঠকে বিরোধ মিটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। জায়গা জমি মেপে ভাগ করে দেই। কিন্তু বিরোধী পক্ষ হারুন গাজীর ছেলেরা রুবেল, ফিরোজ ও অন্যান্যরা জালাল গাজীকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে শুনেছি। আজ সকালে তার ছেলে রাহাত কে মারধর করেছে খবর পেয়েছি। আমি প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানাই এদের শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ শোনিত কুমার গাইণ মুঠোফোনে জানান, ঘটনার বিষয়ে খবর পেয়েছি থানায় অভিযোগ করেতে বলেছি কিশোরের বাবাকে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
